নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: নাবালিকা বিয়ের কথা শুনলেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে যাচ্ছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। পাশাপাশি গ্রামে গ্রামে গিয়ে চলছে নজরদারি। আর তাতেই জেলায় কমছে নাবালিকা প্রসূতির (টিন এজ প্রেগন্যান্সি) সংখ্যা। গত তিনটি আর্থিক বছরে টিন এজ প্রেগনেন্সি১৭ শতাংশ থেকে ১৩ শতাংশে নেমে এসেছে। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, গত তিন বছর ধরেই নাবালিকা বিয়ে, নাবালিকা প্রসূতি রুখতে একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। বিভিন্ন গ্রামে যাচ্ছেন প্রশাসনের আধিকারিকরা। একইসঙ্গে বিভিন্ন স্কুলে সচেতনতামূলক শিবির চালু হয়েছে। নাবালিকা প্রসূতির সংখ্যা কমার ফলে প্রসূতি মৃত্যুর আশঙ্কাও কমবে। জানা গিয়েছে, জেলায় একসময়ে পনেরো হাজারের বেশি নাবালিকা বিয়ে হতো। বর্তমানে সেই সংখ্যা অনেকটাই কমেছে।
জেলার প্রত্যন্ত এলাকাতেও লাগাতার সচেতনতামূলক প্রচার চালানোয় পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। জানা গিয়েছে, ২০২৩-’২৪ সালে মেদিনীপুর সদর ব্লকে নাবালিকা প্রসূতি ছিল১৭.৭ শতাংশ। ২০২৫-’২৬ সালে তা ১৩.৩ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। ২০২৩-’২৪ সালে সবং ব্লকে নাবালিকা প্রসূতি ১৯.২ শতাংশ ছিল, বর্তমানে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ১৬.৬ শতাংশে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৩-’২৪ সালে মেদিনীপুর পুর এলাকায় নাবালিকা প্রসূতি ছিল ২৩.৭ শতাংশ। বর্তমানে তা ৯.৮ শতাংশে নেমে এসেছে।জেলার মুখ্যস্বাস্থ্য আধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেছেন, জেলায় বাল্য বিবাহের হার খুব বেশি ছিল। সেই হার দ্রুত কমেছে। তবে বাল্য বিবাহ পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। সেই কথা মাথায় রেখে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে। জেলায় বাল্য বিবাহের হার বেশি বলে টিনএজ প্রেগন্যান্সিও হচ্ছে। অনেকেই নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও প্রশাসনের নজর এড়িয়ে বিয়ে করে ফেলছেন। তারা যাতে অল্প বয়সে গর্ভবতী না হয়, তাই অন্তরা ইঞ্জেকশনের প্রচারে জোর দেওয়া হচ্ছে। সকলের প্রচেষ্টা ছাড়া এই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নাবালিকা বিয়ের ক্ষেত্রে অনেক সময় খবর আসছে দেরিতে। এরফলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে নাবালিকার বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বিয়ে হওয়ার পরেই পারিপার্শ্বিক চাপের ফলে মা হয়ে যাচ্ছেন নাবালিকার। নাবালিকা অসুস্থ থাকলে, তাঁরা সুস্থ শিশুর জন্ম দিতে পারছেন না। একইসঙ্গে দেখা যাচ্ছে পুষ্টিগত সমস্যাও রয়েছে। তাই টিন এজ প্রেগন্যান্সি ঠেকাতে ‘অন্তরা’ নামে গর্ভনিরোধক ইঞ্জেকশনের ব্যবহার করছে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা স্বাস্থ্যদপ্তর। এই ইঞ্জেকশনের ব্যবহারের ফলে টিন এজ প্রেগনেন্সির সংখ্যা কমাতে সাহায্য করেছে। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, এই ইঞ্জেকশন নিলে কোনও ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। রাজ্যের বিভিন্ন স্বাস্থ্যদপ্তরে বিনামূল্যে এই ইঞ্জেকশন পাওয়া যায়। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার বিভিন্ন হাসপাতালেও এই ইঞ্জেকশন মেলে। এটি প্রতিদিন নিতে হয়না। তিন মাস অন্তর একটা করে নিলেই প্রেগন্যান্সি আটকানো যায়। সন্তান নিতে চাইলে এই ইঞ্জেকশন বন্ধ করে দিলেই হবে। ইঞ্জেকশন বন্ধের ৭ থেকে ১০ মাসের মধ্যে গর্ভবতী হবেন মহিলা।কেশপুর এলাকার বাসিন্দা সঞ্জয় দাস বলেন, পঞ্চায়েত এলাকার জনপ্রতিনিধিদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। তাহলে নাবালিকা প্রসূতির সংখ্যা শূন্যে নেমে আসবে।