প্রদীপ্ত দত্ত, ঝাড়গ্ৰাম: বাম আমলে চালুর পর থেকেই বিনপুর-২ ব্লকের নেগুড়িয়া তসর প্রোজেক্ট মুখ থুবড়ে পড়েছিল। পরে মাওবাদীদের হিংসাত্মক কার্যকলাপের সময় রেশম চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তৃণমূল সরকারের আমলে বাঁশপাহাড়ী পঞ্চায়েতের সেই প্রোজেক্টই রেশম চাষে দিশা দেখাচ্ছে। এই কেন্দ্রে বছরে ২০-২৫লক্ষ রেশম গুটি উৎপাদিত হচ্ছে। ভিন রাজ্যের তসর ব্যবসায়ীরাও সেই রেশম গুটি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। জেলা প্রশাসনের কোষাগারে ঢুকছে বিপুল রাজস্ব।
ঝাড়গ্রামের জেলাশাসক সুনীল আগরওয়াল বলেন, জেলায় রেশম গুটির উৎপাদন বৃদ্ধিতে নানা পদক্ষেপ করা হচ্ছে। নেগুড়িয়া তসর প্রোজেক্ট সেন্টার উল্লেখযোগ্য কাজ করছে। সেখান থেকে রাজস্ব আয় আগের তুলনায় অনেকটা বেড়েছে।
আটের দশকে চালুর পর নজরদারির অভাবে প্রথমেই এই প্রোজেক্ট মুখ থুবড়ে পড়েছিল। মাওবাদী উপদ্রবের সময় রেশম চাষ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। রাজ্যে পালাবদলের পর ২০১৬সাল নাগাদ নতুন উদ্যমে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়। স্থানীয় যে সমস্ত চাষি প্রকল্পের জন্য জমি দিয়েছিলেন, তাঁদের কাজে যুক্ত করে সরকার। প্রকল্পের কাজে সাফল্য আনতে দক্ষ আধিকারিকদের নিযুক্ত করা হয়। প্রোজেক্ট এলাকায় অর্জুন ও আসন গাছের পরিচর্যা শুরু হয়েছিল। এসবের জেরে তিন-চার বছর পর রেশম চাষে বড়সড় সাফল্য আসতে শুরু করে।এখন এই কেন্দ্রে বছরে ২০-২৫লক্ষ রেশম গুটি উৎপাদিত হচ্ছে। ভালো গুণমানের রেশমগুটি রাজ্যের নানা জেলার পাশাপাশি ভিনরাজ্যেও যাচ্ছে। বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুরের তসর ব্যবসায়ীরাই নেগুড়িয়া কেন্দ্রে উৎপাদিত রেশম গুটির সবচেয়ে বড় গ্ৰাহক। সেইসঙ্গে ঝাড়খণ্ডের চাকুলিয়া, চাইবাসায় রেশম গুটি রপ্তানি করা হচ্ছে। দেড় দশক আগের প্রায় পরিত্যক্ত তসর প্রোজেক্ট এখন জেলা প্রশাসনের রাজস্ব আয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
নেগুড়িয়া তসর প্রোজেক্টে রেশম গুটির উৎপাদন ও বিপণন সমান্তরালভাবে চলছে। অ্যান্থেরিয়া মাইলিট্টা প্রজাতির পোকার লার্ভা থেকে তসর রেশম তৈরি হয়। রেশম পোকা অর্জুন, আসান ও শালগাছের পাতা খেয়ে জীবনধারণ করে। রাজ্যে মুর্শিদাবাদ ও মালদহ জেলার পাশাপাশি এখন ঝাড়গ্রামের বিনপুর-২ ব্লকও তসর চাষে সাড়া ফেলে দিয়েছে। তসরের বস্ত্রের বুনন ভালো হয়।
প্রোজেক্ট কেন্দ্রের আধিকারিক দিলীপ দাস বলেন, রেশম গুটি উৎপাদনের পাশাপাশি বিপণনের উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। ভিন রাজ্য থেকেও ব্যবসায়ীরা এসে রেশম গুটি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। তা দেখে এখন স্থানীয় চাষিরাও ব্যক্তিগত উদ্যোগে এই চাষ শুরু করেছেন।
বিনপুর-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশচন্দ্র সর্দার বলেন, তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়া নেগুড়িয়া তসর প্রোজেক্টের পুনরুজ্জীবন হয়। রেশম গুটি চাষে নেগুড়িয়া গ্ৰাম এখন উল্লেখযোগ্য স্থান অধিকার করে নিয়েছে।-নিজস্ব চিত্র