Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অবহেলিত চার হাজার বছর আগের ঐতিহাসিক সম্পদ পাণ্ডু রাজার ঢিবি

কিন্তু ১৯৮৫ সালের পর আর কোনও খননকার্য হয়নি। ফলে হতাশ এলাকার বাসিন্দারা।

অবহেলিত চার হাজার বছর আগের ঐতিহাসিক সম্পদ পাণ্ডু রাজার ঢিবি
  • ২৫ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুদীপ পাল, মানকর: আউশগ্রাম-২ ব্লকের রামনগর পঞ্চায়েত এলাকার পাণ্ডুক গ্রামে বিশাল এলাকা জুড়ে থাকা পাণ্ডু রাজার ঢিবিতে চার হাজার বছর আগের প্রাচীন সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু ১৯৮৫ সালের পর আর কোনও খননকার্য হয়নি। ফলে হতাশ এলাকার বাসিন্দারা। তাঁদের আক্ষেপ, পাণ্ডুরাজার ঢিবির নীচে লুকিয়ে থাকা প্রাচীন সভ্যতার ইতিহাস সামনে এলে ভারতবর্ষের ইতিহাস সম্পর্কে ধারণা বদলে যেত। কিন্তু একাধিকবার প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও লাভ হয়নি। তাছাড়া এই স্থানকে কেন্দ্র করে পর্যটন হাব তৈরি হলে এলাকার অর্থনীতির উন্নতির পাশাপাশি প্রাচীন ইতিহাসের সংরক্ষণ হতো। 

Advertisement

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিন ধাপে এই এলাকায় খননকার্য চালায় ভারতীয় পুরাতাত্বিক বিভাগ। ১৯৬২ সালে প্রথম দফায় খননকাজ হয়। ১৯৮৫ সাল নাগাদ শেষবারের মতো খনন হয়েছিল। বিখ্যাত পুরাতাত্ত্বিক ড. বিবি.লাল, ড. ওয়াই, ড. হাসমুখ, ধীরাজলাল সাঙ্কালিয়া, ডি. শর্মা এই প্রত্নস্থল উৎখনন পরিদর্শন করেছিলেন। পাণ্ডুরাজার ঢিবিতে বহুস্তরীয় সভ্যতার নিদর্শন পাওয়া গেলেও এখন তা অবহেলিত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তবে এই পাণ্ডু রাজা কে, তা নিয়ে মতভেদ রয়েছে। এক মতে, শাক্যবংশীয় রাজা পাণ্ডু পারিবারিক কলহে ক্লান্ত হয়ে কপিলাবস্তু ত্যাগ করে হুগলির পাণ্ডুয়ায় এসে রাজধানী স্থাপন করেন। পাণ্ডুয়া থেকে পাণ্ডুক পর্যন্ত ছিল তাঁর রাজ্যের সীমা। এই পাণ্ডু রাজার বাড়ির ধ্বংসস্তূপ পাণ্ডু রাজার ঢিবি নামে পরিচিত। অন্য মতে, কোনও এক পাণ্ডু রাজার রাজ্যপাট ছিল এখানে। পরে তা ধ্বংসপ্রান্ত হয়ে ঢিবিতে পরিণত হয়েছে। 
স্থানীয় বাসিন্দা শিবাজী মিত্র, রাখী ঘোষ বলেন, এখান থেকে যে সমস্ত নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে তা বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এখানকার বসতি হরপ্পা-মহেঞ্জোদারো সভ্যতার সমসাময়িক ছিল। খনন কার্যে কৃষিপ্রধান এলাকার প্রমাণ মিলেছে। স্থানটির যথেষ্ট ঐতিহাসিক গুরুত্ব থাকা সত্ত্বেও আজও অবহেলায় পড়ে আছে। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে চুরিও হয়েছিল। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণের বোর্ডে লেখা রয়েছে, এই স্থানটি আঞ্চলিক পূর্ব-ঐতিহাসিক সভ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখানে অধিবসতির দু’টি প্রধান যুগ নির্ণীত হয়েছে একটি পূর্ব ঐতিহাসিক, অন্যটি আদি-ঐতিহাসিক।
পাণ্ডুরাজা প্রত্ন গবেষণাকেন্দ্রের সভাপতি রাধামাধব মণ্ডল বলেন, তিন ধাপে খননকাজ চালিয়ে প্রাগৈতিহাসিক আমলের অসংখ্য মাটির পাত্র, পশু হাড়ের তৈরি মালা, অলঙ্কার, ৭টি নরকঙ্কাল, ১৪-১৫টি মাটির মূর্তি, ধাতব অস্ত্রশস্ত্র সহ বহু নির্দশন পাওয়া গিয়েছিল এখানে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে তা অবহেলায় পড়ে রয়েছে। আমরা প্রশাসনের কাছে বহুবার আবেদন করেছি। আন্দোলনও করেছি। কর্তৃপক্ষ নজর না দিলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলন হবে। আউশগ্রাম-২ ব্লকের বিডিও চিন্ময় দাস বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ