নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: কারও ঠিকানা স্টেডিয়ামের ফার্স্ট ফ্লোর। আমেদাবাদে। দিল্লিতে ঠিকানা হল পুরসভার মার্কেটের দোকান। কোনও ঠিকানা সরকারি এইচআইজি ফ্ল্যাট। এরকমভাবেই বছরের পর বছর ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২৮০০ রাজনৈতিক দলের নাম নথিভুক্ত করা হয়েছে। শনিবার নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে এই অনুমোদনহীন, কিন্তু কমিশনে নথিভুক্ত রাজনৈতিক দলের নাম একে একে মুছে দেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়া শনিবার শুরু হয়েছে। শনিবার ৩৩৪টি রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দলের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে তালিকা থেকে। বাকি আড়াই হাজারও বাদ যাবে। এমনকী এরপর থেকে নতুন করে কোনও রাজনৈতিক দলের নাম নথিভুক্ত করার আবেদন জমা পড়লে কড়াকড়ি হবে। কাউকে সহজে দলের নাম নথিভুক্ত করতে দেওয়া হবে না।
প্রধান কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, এইসব রাজনৈতিক দল বিগত ছ’বছরে একটিও ভোটে অংশ নেয়নি। প্রার্থী দেয়নি। স্রেফ রেজিস্টার্ড রাজনৈতিক দলের তকমা নিয়ে বসে আছে। বিগত কিছু মাস ধরে তদন্ত করে নির্বাচন কমিশন জানতে পেরেছে, এইসব রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে যে ঠিকানা দেওয়া হয়েছে সেখানে কোনও রাজনৈতিক দল অথবা আবেদনকারীর সন্ধান মেলেনি। বহু রাজনৈতিক দলের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, যিনি আবেদন করেছেন, তিনি ছাড়া আর কেউ নেই ওই দলে। প্রসঙ্গত সংসদে এরকম বহু রাজনৈতিক দল রয়েছে, যাদের বলা হয় ওয়ান এমপি পার্টি। অর্থাৎ বহু রাজনৈতিক দলের এমপির সংখ্যা এক। কিন্তু ওইসব দলের সঙ্গে এই দলগুলির সাদৃশ্য নেই। কারণ, ওইসব দল বহু কেন্দ্রে প্রার্থী দিয়ে পরাজিত হয়। হয়তো একজন অথবা দুজন জয়ী হন। কিন্তু অনুমোদনহীন রেজিস্টার্ড দলগুলির পার্টিও এক, সদস্যও এক। জুন মাসেই নির্বাচন কমিশন জানিয়েছিল যে, এখনও পর্যন্ত ৩৪৫টি দলের নামের তালিকা তৈরি হয়েছে প্রাথমিকভাবে। প্রত্যেক রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে বলা হয়েছে, তাঁরা সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ঠিকানায় থাকা ওইসব দলকে শোকজ নোটিস পাঠাক। তারপর তাদের নির্বাচন কমিশনে হাজির হয়ে জানাতে হবে যে, তারা ওইসব দলের নাম কমিশনে তালিকাভুক্ত করে রেখে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে আছে কেন? কেন তাদের দলের নাম বাদ দেওয়া হবে না? সন্তোষজনক উত্তর না পেলে নাম বাদ যাবে। সেই নির্দেশিকার জেরেই এবার প্রাথমিকভাবে ৩৩৪টি দলের নাম বাদ যাচ্ছে। এই প্রক্রিয়া চলবে। আগামী দিনেও বাদ যাবে বহু নাম। পশ্চিমবঙ্গে ঝাড়খণ্ড, গোর্খা ইত্যাদি নামাঙ্কিত একাধিক দলের সন্ধান মিলেছে, যাদের নাম নথিভুক্ত করা রয়েছে রাজনৈতিক দল হিসেবে। কিন্তু কোনও নির্বাচনে তারা লড়াই করেনি। কমিশন জানতে চাইছে, এই প্রবণতার কারণ কী? কমিশন মনে করছে, রেজিস্ট্রেশন থাকলে নানাবিধ সামাজিক ও আর্থিক সুবিধা পাওয়া যায়। তাই দল কমানোর অভিযান।