Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

গাছের স্মৃতিশক্তি

ছোট্টবন্ধুরা, তোমরা কি জানো মানুষের মতো গাছেরও স্মৃতিশক্তি আছে? শুনলে হয়তো একটু অবাক হবে, তবে এটাই সত্যি। আফ্রিকার সাভানা অঞ্চলে এক ধরনের ঘাস আগুন দেখলে মোটেই ভয় পায় না। দাবানলে যখন সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়, তখনও সেই ঘাস দিব্যি বেঁচে থাকে। বিজ্ঞানীরা ভাবলেন, এর পিছনের রহস্যটা জানতে হবে।

গাছের স্মৃতিশক্তি
  • ৯ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

জিরাফ যখন আফ্রিকার অ্যাকাসিয়া গাছের পাতা খায়, তখন গাছটি পাতা থেকে এক ধরনের গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে দেয়। যার নাম ইথিলিন। এই গ্যাসটা হল এক ধরনের ‘সতর্ক সংকেত’। আশপাশের অন্য অ্যাকাসিয়া গাছগুলো যখনই এই গ্যাসের গন্ধ পায়, তারা বুঝে যায় যে বিপদ আসছে। আর মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই পাতাগুলো ট্যানিন নামে এক ধরনের তেতো রাসায়নিক তৈরি করে ফেলে।

Advertisement

অনির্বাণ রক্ষিত: ছোট্টবন্ধুরা, তোমরা কি জানো মানুষের মতো গাছেরও স্মৃতিশক্তি আছে? শুনলে হয়তো একটু অবাক হবে, তবে এটাই সত্যি। আফ্রিকার সাভানা অঞ্চলে এক ধরনের ঘাস আগুন দেখলে মোটেই ভয় পায় না। দাবানলে যখন সব পুড়ে ছাই হয়ে যায়, তখনও সেই ঘাস দিব্যি বেঁচে থাকে। বিজ্ঞানীরা ভাবলেন, এর পিছনের রহস্যটা জানতে হবে। তাঁদের গবেষণায় উঠে এল, সেই ঘাসের বারবার আগুনে পোড়ার অভিজ্ঞতা আছে। মানে ওই ঘাসগুলো আগেও অনেকবার আগুনে পুড়েছে। তাই ওগুলো বেশিরভাগ শক্তি মাটির নীচে থাকা শিকড়ের মধ্যে জমা করে রাখে। আগুন নিভে গেলেই সেই জমানো শক্তি ব্যবহার করে আবার দ্রুত বেড়ে ওঠে। যেন ঘাসগুলো আগুন লাগার কথা ‘মনে’ রাখতে পারে।
আসলে সত্যিই ঘাসগুলো পুড়ে যাওয়ার স্মৃতি মনে রাখতে পারে কি না, তা বলার আগে আরেকটা মজার গল্প বলি। জিরাফ যখন আফ্রিকার অ্যাকাসিয়া গাছের পাতা খায়, তখন গাছটা চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে না। গাছটি পাতা থেকে এক ধরনের গ্যাস বাতাসে ছড়িয়ে দেয়। যার নাম ইথিলিন। এই গ্যাসটা হল এক ধরনের ‘সতর্ক সংকেত’। আশপাশের অন্য অ্যাকাসিয়া গাছগুলো যখনই এই গ্যাসের গন্ধ পায়, তারা বুঝে যায় যে বিপদ আসছে। আর মাত্র ৩০ মিনিটের মধ্যেই পাতাগুলো ট্যানিন নামে এক ধরনের তেতো রাসায়নিক তৈরি করে ফেলে। ফলে জিরাফ আর সেই পাতা খেতে পারে না। এটাও তো গাছের একধরনের স্মৃতিশক্তি, তাই না? নইলে বিপদে পড়লেই পাতা বিশেষ গ্যাস নির্গত করতে পারত না।
বিজ্ঞানীরা গাছের এই অদ্ভুত স্মৃতিশক্তিকে বলেন ‘এপিজেনেটিক পরিবর্তন’। শব্দটা একটু কঠিন শোনালেও বিষয়টা সহজ। ধর, তোমার কাছে একটা গল্পের বই আছে। বইয়ে গল্পের নাম ডিএনএ। এখন তুমি যদি গল্পের কোনও গুরুত্বপূর্ণ লাইনের নীচে দাগ দিয়ে রাখ বা কোনও পাতা একটু ভাঁজ করে রাখ, তাহলে কিন্তু গল্পটা বদলে যাচ্ছে না। কিন্তু পরেরবার পড়ার সময় তোমার ঠিকই মনে পড়বে কোন শব্দ বা লাইনটা গুরুত্বপূর্ণ।
এপিজেনেটিকসও ঠিক সেরকম। গাছের ডিএনএ বদলে যায় না, কিন্তু পরিবেশের খারাপ অভিজ্ঞতার কারণে ডিএনএর কিছু নির্দেশনা চালু বা বন্ধ হয়ে যায়। এই দাগ বা চিহ্নগুলোই হল গাছের ‘স্মৃতি’।
সবচেয়ে অবাক করার মতো ব্যাপার হল, বড় গাছেরা এই স্মৃতি চারা গাছদেরও দিয়ে যেতে পারে! নরওয়ের বিজ্ঞানীরা এক ধরনের পাইনগাছ (নরওয়ে স্প্রুস) নিয়ে গবেষণা করে দেখেছেন, যে গাছগুলো ঠান্ডা পরিবেশে বড় হয়েছে, সেগুলো এই স্মৃতি মনে রাখে। আর বীজের মধ্যেও সে স্মৃতি পাঠিয়ে দেয়! ফলে পরের প্রজন্মের গাছগুলো আগে থেকেই জানে, ওদের খুব তাড়াতাড়ি বসন্তে নতুন পাতা বের করতে হবে। ঠিক যেন বাবা-মা তাদের সন্তানদের বিপদের জন্য আগে থেকেই প্রস্তুত করে যাচ্ছে!
অর্থাৎ ব্রেন বা মস্তিষ্ক না থাকলেও গাছেরও কিন্তু দারুণ স্মৃতিশক্তি আছে। এরা বিপদ মনে রাখে, একে অপরকে সতর্ক করে, এমনকী নিজেদের অভিজ্ঞতা পরের প্রজন্মের কাছেও পাঠিয়ে দেয়। প্রকৃতি সত্যিই অবাক করার মতো, তা–ই না?

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ