স্বরূপ কুলভী: আধুনিক মানুষের বৈজ্ঞানিক নাম হোমো স্যাপিয়েন্স। আমরা সাধারণত মনে করি যে, আমরাই পৃথিবীর একমাত্র মনুষ্য প্রজাতি। কারণ ১০-১২ হাজার বছর ধরে কেবলমাত্র আমাদের প্রজাতিই পৃথিবীতে বিচরণ করেছে। যদিও ‘মানব’ শব্দের সত্যিকারের অর্থ হল গণের অন্তর্গত প্রাণী। পূর্ব আফ্রিকা থেকে এদের যাত্রা শুরু। হোমো সেপিয়েন্স ছাড়াও ওই গণের অন্যান্য প্রজাতির প্রাণীও একসময় পৃথিবীতে ছিল। তাদের মধ্যে অন্যতম নিয়ান্ডারথাল। আদি মানবদের একটি দল ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের নানা অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়েছিল। বহু বছরের বিবর্তনের জেরে তারা নিয়ান্ডারথাল মানব নামে পরিচিতি লাভ করে। ইউরেশিয়া অঞ্চলে তুষারযুগের পরিবেশে তারা বেশ ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছিল। আধুনিক মানুষের তুলনায় ওদের চেহারা ছিল বেশ বড়োসড়ো ও পেশিবহুল। নিয়ান্ডারথালদের পাশাপাশি স্যাপিয়েন্সরাও ছিল। একই সময়ে একই এলাকায় তাদের বসবাস ছিল। তাদের মধ্যে মেলামেশাও ছিল। ২৪ হাজার বছর আগে এই প্রজাতি বিলুপ্ত হয় বলে বিজ্ঞানীদের ধারণা। স্যাপিয়েন্স শব্দের অর্থ বুদ্ধিমান বা জ্ঞানী। তাহলে কি নিয়ান্ডারথাল সহ অন্যান্য প্রজাতির আদিম মানুষ কি বুদ্ধিমান ছিল না? সুপ্রাচীন যুগের প্রতিকূল পরিবেশে তারা কি তাদের বুদ্ধিমত্তা খাটাত না? উত্তর হল শুধু স্যাপিয়েন্সকে বুদ্ধিমান ভাবলে অবিচার হবে। অন্যান্য মানব প্রজাতির মানুষ ছিল যথেষ্ট বুদ্ধিমান। পরিবেশের সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে হাজার হাজার বছর ধরে দিব্যি বেঁচেবর্তে ছিল তারা। একটি প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন নিয়ে গবেষণা বিজ্ঞানীদের তাক লাগিয়ে দিয়েছে। আধুনিক মানুষের নিকটাত্মীয় নিয়ান্ডারথালরা চিকিৎসা করতেও জানত! তারা দাঁতের রোগও সারাত! তখন তো আর এখনকার মতো চিকিৎসার সরঞ্জাম ছিল না। তাহলে কীভাবে এই কাজ করত তারা? বিজ্ঞানীদের ধারণা, পাথরের হাতিয়ার দিয়েই রোগ সারাতে দাঁতে গর্ত খোঁড়া হয়েছিল। তাও প্রায় ৬০ হাজার বছর আগে। দাঁতের চিকিৎসার এটাই সর্বপ্রাচীন তথ্য বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েকমাস আগে প্লোস ওয়ান নামে জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিষয়টি সম্পর্কে জানানো হয়েছে। দক্ষিণ রাশিয়ার চাগিরস্কায়া গুহায় বসবাসকারী নিয়ান্ডারথালরা পাথরের হাতিয়ার দিয়ে দাঁতে গর্ত করে সংক্রমিত অংশ সরিয়ে ফেলেছিল। তীব্র ব্যথা ও সংক্রমণ থেকে বাঁচতে সূক্ষ্ম ও ছুঁচালো পাথরের হাতিয়ার দিয়ে দাঁতে ড্রিল করেছিল তারা।



