Bartaman Logo
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রবিবার

অন্য এক পরমহংস

কোনো অজানা অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙে গেল উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কয়েক মুহূর্তের জন্য তিনি মনেই করতে পারলেন না— কোথায় আছেন, এখন দিন না রাত

অন্য এক পরমহংস
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

রাজা ভট্টাচার্য: কোনো অজানা অস্বস্তিতে ঘুম ভেঙে গেল উপেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কয়েক মুহূর্তের জন্য তিনি মনেই করতে পারলেন না— কোথায় আছেন, এখন দিন না রাত। একটি প্রকাণ্ড ঘরের মেঝেতে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে আছেন কেন তিনি? বাড়ির অন্যরা গেল কোথায়? 

Advertisement

একবার চারদিকে তাকাতে চোখে পড়ল, তাঁর মতোই আরও অনেকে শুয়ে রয়েছে চাদর মুড়ি দিয়ে। আয়তাকার একটা ঘর। শুধু তাঁর মাথার কাছে মোটা লোহার গরাদগুলো বলে দিচ্ছে— এটা আর যাই হোক, বাড়ি নয়। 
আর সেই গরাদগুলো দেখেই উপেনের মনে পড়ে গেল— এটা একটা জেলখানা। আলিপুর সেন্ট্রাল জেল। তিনি এই জেলের একজন কয়েদি। আলিপুর বোমার মামলায় কয়েকদিন আগেই তাঁকে গ্রেপ্তার করে রাজবন্দি হিসেবে রাখা হয়েছে এই জেলে। আর চারপাশে যাঁরা শুয়ে রয়েছেন, তাঁরা তাঁরই সহ-বিপ্লবী— উল্লাসকর, দেবব্রত, হৃষীকেশ, হেমচন্দ্র, আরও অনেকে। ভয়ানক মশার উপদ্রব সামলাতে প্রত্যেকেই আপাদমস্তক চাদর মুড়ি দিয়ে ঘুমোচ্ছেন। 
কিন্তু এমন অসময়ে ঘুম ভেঙে গেল কেন তাঁর? প্রথমদিকে উপেনের ঘুম হত না খিদের জ্বালায়। জেলের খাবার অসম্ভব খারাপ। পেট ভরে খেতে পারতেন না তিনি। মাঝরাতে ঘুম ভেঙে যেত তাই। কিন্তু ইদানীং এই নতুন ওয়ার্ডে সবাই এক জায়গায় হওয়ার পর খাবারের অভাব আর ততটা নেই। বাইরে থেকে খাবার আসার ব্যবস্থা করা হয়েছে ঘুষ দিয়ে। খিদের জন্য নয়, অন্য কোনো কারণে তাঁর ঘুম ভেঙে গিয়েছে। 
পরক্ষণেই একটা অদ্ভুত দৃশ্য চোখে পড়ে উপেনের মুখটা হাঁ হয়ে গেল।
কানাই, অর্থাৎ চন্দননগরের কানাইলাল দত্ত কারওর লুকানো কৌটো থেকে একরাশ বিস্কুট খুঁজে বের করেছেন। কানাই আর তাঁর চার-পাঁচজন সঙ্গী ঘুমের ব্যাপারটা সন্ধেবেলাতেই সেরে ফেলেন। তারপর মাঝরাতে তাঁদের খেলা শুরু হয়। আজকের খেলার মূল পর্ব হিসেবে কানাইরা এই বিস্কুট-উদ্ধার-পর্ব এইমাত্র সাঙ্গ করেছেন এবং রীতিমতো নাচছেন। তারই শব্দে উপেনের ঘুম ভেঙে গিয়েছে। 
উপেন্দ্রনাথ সবেমাত্র কানাইকে একটা ধমক দিতে যাচ্ছিলেন। তার আগেই কানাইয়ের পাশে শুয়ে থাকা মানুষটির ঘুম ভেঙে গেল। মুখের উপর থেকে চাদর সরিয়ে কানাইয়ের দিকে কটমট করে তাকালেন তিনি। 
এক মুহূর্তের জন্য অপ্রস্তুত হয়ে গেলেন কানাইলাল। পরক্ষণেই একগাল হেসে একমুঠো বিস্কুট বাড়িয়ে দিলেন সেই মানুষটির দিকে। অমনি চাদরের তলা থেকে একটা হাত বেরিয়ে এসে বিস্কুটগুলোকে মুঠোবন্দি করে আবার চাদরের তলায় অদৃশ্য হয়ে গেল।
উপেন্দ্রনাথের চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেল। অরবিন্দ ঘোষ শেষে কি না কানাইয়ের বিস্কুট চুরির সাক্ষী হয়েও মুখ বন্ধ করে ফেললেন ঘুষ খেয়ে! তাড়াতাড়ি নিজের মুখের উপর চাদর চাপা দিয়ে ফুলে ফুলে হাসতে লাগলেন উপেন। 
মজফ্‌ফরপুরে ক্ষুদিরামের কাণ্ডের পর থেকে পুলিশ যেন ক্ষুধার্ত হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়েছিল বাংলার বিপ্লবীদের উপরে। তখনই মানিকতলার বাগানবাড়িটা চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হয় বহু বিপ্লবীকে। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁদের নিয়ে আসা হয়েছিল আলিপুর জেলে। সম্প্রতি সংখ্যাটি বড্ড বেড়ে যাওয়ায় তাঁদের সকলকে রাখা হয়েছে একটা ওয়ার্ডের তিনটে ঘরে ভাগ করে। তারপর থেকে সকলে মিলে একেবারে নরক গুলজার করে তুলেছেন। বিশেষত ছোটোদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এমনকি পুলিশেরও সাধ্য নয়। তাঁরা জেলের গাছের ফল চুরি করেন, মধ্যরাতে চিৎকার করে গান করেন। যে ভয়ংকর ভবিষ্যৎ এই বিপ্লবীদের জন্য অপেক্ষা করে রয়েছে, তা যে তাঁরা জানেন না— এমন নয়। কিন্তু সেটাকে আমল দিতেই রাজি নন। অরবিন্দ, দেবব্রত ও বারীন্দ্র এর মধ্যে একটু গম্ভীর প্রকৃতির। তবে সর্বদাই যে তাঁরা ছাড় পেয়ে যান, এমনটা নয়। 
এর কয়েকদিন পরেই অবশ্য পরিস্থিতি একটু গুরুতর হয়ে দাঁড়াল। 
শ্রীরামপুরের হৃষীকেশ কাঞ্জিলাল একদিন হঠাৎ এসে বললেন, ‘কয়েকটা বেয়াড়া রকমের মাদ্রাজি আর মারাঠি নাম বানিয়ে দে দেখি!’ 
‘কেন? নাম দিয়ে কী হবে?’ 
‘গোস্বামীদের নরেন বোধহয় পুলিশকে খবর দিচ্ছে। ওকে একটু ভাঁওতা দিতে হবে।’ 
তাই করা হল। কয়েকটা উদ্ভট নাম বানিয়ে হৃষীকেশ সেগুলো তুলে দিলেন নরেনের কানে। এইবার পুলিশ বুনোহাঁসের পেছনে দৌড়ে মরুক গে যাক। 
ব্যাপারটা অবশ্য এত সহজে শেষ হল না। হৃষীকেশ ভুল কিছু বলেননি। আদালতে বিচার শুরু হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই নরেন গোস্বামী রাজসাক্ষী হয়ে দাঁড়াল। তার ফাঁস করে দেওয়া কথার সূত্র ধরে নতুন করে শুরু হল খানাতল্লাশি। আরও বিপ্লবীরা ধরা পড়তে লাগলেন। নরেনকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল ইউরোপিয়ান বন্দিদের ওয়ার্ডে, যাতে বাঙালি বিপ্লবীরা তার নাগাল না পায়। 
একদিন দুপুরে গল্প করতে করতে কানাই হঠাৎ বলে উঠলেন, ‘ছাড়া পাওয়ার কথা ভুলে যাও সব। বিশ বছর ধরে কালাপানি।’ 
শচীন উত্তেজিত ভঙ্গিতে হাত তুলে বললেন, ‘কোনোমতেই নয়। আমার কথা শুনে রাখ। বিশ বছরের মধ্যে দেশ স্বাধীন হয়ে যাবে, আমরাও সব ছাড়া পেয়ে যাব।’ 
শুনে কানাইয়ের মুখ গম্ভীর হয়ে গেল। কিছুক্ষণ চুপ করে বসে থেকে বললেন, ‘কুড়ি বছর ধরে জেল-খাটা আমার পোষাবে না। দেশ মুক্ত হোক বা না হোক, আমি ঠিক মুক্ত হয়ে যাব।’ 
উপেন্দ্রনাথ কাছেই বসে ছিলেন। মৃদু বিস্ময় নিয়ে তিনি তাকিয়ে রইলেন কানাইলালের দিকে। জেলখানার গরাদে পিঠ ঠেকিয়ে বসে থাকা কোনো রাজবন্দির মুখ থেকে এরকম কথা শুনলে একটু অবাক লাগে বইকি! কোন মুক্তির কথা বলছেন কানাই? কীভাবে মুক্তি পাবেন তিনি?
....
এর কয়েকদিনের মধ্যেই একটা ভয়ংকর কাণ্ড হয়ে গেল। ‌
একদিন সন্ধ্যায় কথা বলতে বলতে হঠাৎ কানাইয়ের পেটে ভয়ানক যন্ত্রণা হতে লাগল। ছটফট করতে লাগলেন বেচারা। তাড়াতাড়ি তাঁকে নিয়ে যাওয়া হল জেল-হাসপাতালে। মেদিনীপুরের সত্যেন্দ্রনাথ বসু কয়েকদিন আগেই ধরা পড়েছেন। ভয়ানক কাশরোগ হয়েছিল বলে তিনি আগে থেকেই হাসপাতালে ছিলেন। ‌
তিন-চারদিন পর একদিন সকালে, সবে বিপ্লবীরা ঘুম ভেঙে উঠেছেন, এমন সময় হাসপাতালের দিক থেকে গুলি চলার শব্দ পাওয়া গেল। জেলের ভিতরে এই শব্দটা এমনই অপ্রত্যাশিত যে, সকলেই চমকে উঠলেন। কী যে হয়েছে, তা বোঝা যাচ্ছে না কিছু। কেবল দেখা যাচ্ছে— সাধারণ কয়েদি, পাহারাওয়ালা, সবাই হাসপাতালের দিকে ছুটছে। 
এমন সময় দেখা গেল, সতু এই ওয়ার্ডের দিকে আসছে। সতু সিঁধেল চোর, জেল ওর ঘরবাড়ি। কয়েদিদের পান-তামাক এনে দেয় পয়সা দিলে। আজ তার মুখের ভাব একেবারে বদলে গিয়েছে। সতর্ক চোখে এদিক-সেদিক তাকাতে তাকাতে সে হেঁটে আসছে এদিকেই। 
উপেন্দ্র চাপা গলায় বললেন, ‘অ্যাই সতে। শোন এদিকে।’ 
এবার প্রায় ছুটে এল সতু। গরাদের সামনে এসে চাপা তীব্র গলায় বলল, ‘নরেনবাবু ঠান্ডা হয়ে গেছেন।’ 
‘কী বলছিস তুই!’ শিউরে উঠল উপেনের সর্বাঙ্গ। 
‘আর বলছি কী! কানাইবাবু তাঁকে পিস্তল দিয়ে ঠান্ডা করে দিয়েছেন। দেখুন গে, কারখানার সমুখে একেবারে লম্বা হয়ে পড়ে আছে।’ 
উপেন কাঠ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন। অন্যরাও যেন পাথর। সতু যেমন নিঃশব্দে এসেছিল, তেমন করে পালাল। অন্তত এই ওয়ার্ডে আজ পর্যন্ত কখনো এমন নৈঃশব্দ্য নেমে আসেনি। 
আর সেই নীরবতা ভেদ করে হঠাৎ তারস্বরে বেজে উঠল পাগলা ঘণ্টি। ঢং ঢং ঢং...।
‘ঠিক করে বল দেখি, কী হয়েছিল?’ 
‘আজ্ঞে কী আর বলব বাবু! একেবারে সর্বনাশ হয়ে গেল। এবার দেখুন আপনাদের কী দশা হয়।’ 
‘তা নিয়ে ভাবনা থাকলে এই পথে আসতাম না। তুমি কী জেনেছ, তাই বল। ঠিক কী হয়েছিল গতকাল সকালে?’ 
সকালের খাবার দেওয়ার পর কিছুক্ষণের জন্য রাজবন্দিদের জেলের উঠোনে ছেড়ে দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা এইটুকু সময় একটু হাঁটাচলা করতে পারেন। তারই অবসরে হাসপাতালের এক পাহারাদারকে পেয়ে গিয়েছেন উপেন্দ্রনাথ। 
‘সব খবর তো এখনও পাইনি। তবে যা শুনলাম, আপনাদের দলের সত্যেন্দ্রবাবু ভেবেছিলেন, যেরকম কাশরোগ হয়েছে, তাতে এমনিতেও মরেই যাবেন। তার আগে নরেন গোঁসাইকে মেরে মরলে একটা কাজের কাজ হয়। কানাইবাবু সে-কথা জানতে পেরে দু’খানা পিস্তল জোগাড় করে হাসপাতালে ভরতি হয়ে যান।’ 
উপেন্দ্র বললেন, ‘পিস্তল ছেলের হাতের মোয়া নাকি? জেলের মধ্যে দু’খানা পিস্তল এল কী করে?’
‘সে কথা এখনও জানা যায়নি বাবু। তবে...’ এই বলে এদিক ওদিক তাকিয়ে নীচু গলায় পাহারাওলাটি বলল, ‘শুনলাম এ-ও নাকি সেই শ্রীশবাবুর কাজ।’ 
চোখ বড়ো বড়ো হয়ে গেল উপেনের। ফিসফিস করে তিনি বললেন, ‘চন্দননগরের শ্রীশচন্দ্র ঘোষ? এখানেও?’ 
‘তিনি কোথায় নেই বাবু?’ 
‘তারপর?’ 
‘সত্যেন্দ্রবাবু নরেনবাবুকে ভুয়ো খবর দিয়েছিলেন, তিনিও তাঁর সঙ্গে রাজসাক্ষী হতে চান। নরেনবাবু একজন ইংরেজ পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দেখা করতে এসেছিলেন। তখনই সত্যেন্দ্রবাবু গুলি চালিয়ে দেন। সে গুলি লাগল নরেনবাবুর ঊরুতে। তিনি তো প্রাণপণে পালাতে লাগলেন। এদিকে গুলির শব্দ পেয়ে কানাইবাবু পিস্তল হাতে ছুটে এলেন হাসপাতালের দোতলায়। সেই গোরা পুলিশকে জখম করে তিনিই নরেনবাবুর পিছু নিলেন।’ 
‘গোরা পুলিশকে জখম করে? কী সাংঘাতিক!’ 
‘তার হাতে গুলি লেগেছিল। সে সেখানে পড়ে চিৎকার করতে লাগল। এদিকে কানাইবাবু ছুটতে ছুটতে নেমে এসে দেখলেন, নরেন গোঁসাই হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে পালিয়েছে। একজন পাহারাওলা দরজা বন্ধ করে দিয়েছিল। কানাইবাবু সোজা তার বুকের উপর পিস্তল ঠেকিয়ে দিলেন। সে দরজা তো খুলে দিলই, উলটে দেখিয়ে দিল নরেনবাবু কোনদিকে গিয়েছেন। অমনি কানাইবাবু তাঁর পিছু নিয়ে পরপর গুলি চালিয়ে দিলেন। নরেনবাবু কারখানার সামনেই পড়ে গেলেন।’ 
‘আর কানাই নিজে?’ 
‘ততক্ষণে জেলার সাহেব আর অন্যরা এসে গিয়েছিল‌। কানাইবাবুর পিস্তলের গুলিও ফুরিয়ে গিয়েছিল। ধরা পড়ে গেলেন। অবশ্য পালাবার চেষ্টাও করেননি।’ 
কানাই! সেই কানাইলাল— যে ক’দিন আগেই বিস্কুট চুরি করে খাচ্ছিলেন মহানন্দে, আর অরবিন্দ ঘোষকেও চুরির ভাগ দিয়েছিলেন! ওঁর যে এখনও কুড়ি বছর বয়স হয়নি!
পরাজিত সৈনিকের মতো মাথা নীচু করে নীরবে নিজের ওয়ার্ডে ফিরে এলেন উপেন্দ্রনাথ, তারপর অসময়ে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লেন চুপ করে। 
....
এরপর আর একদিন মাত্র কানাইকে দেখতে পেয়েছিলেন তার সহযোদ্ধারা। ফাঁসির কয়েকদিন আগে তাঁদের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল দেখা করার। হতবাক হয়ে উপেন্দ্রনাথ দেখেছিলেন— কানাইয়ের চেহারা ফিরে গিয়েছে। ছেলেবেলা থেকেই ও রুগ্ন। এখন ওর ঝকঝকে চেহারা দেখলে সে কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। ছোটোরা যখন কানাইয়ের কাছাকাছি যাওয়ার জন্য লড়াই করছে, তখন দূর থেকে শুধু ওঁর প্রফুল্ল মুখটার দিকে তাকিয়েছিলেন উপেন্দ্রনাথ। সে মুখে দুঃখ, দুশ্চিন্তা, আসন্ন মৃত্যুর রেখা-মাত্র নেই। যেন এক অনন্ত আনন্দের স্রোতে মগ্ন হয়ে রয়েছেন কুড়ি বছরের ছেলেটা। দেশের কাজে জীবন দিচ্ছেন তিনি। এই মৃত্যুতে শোকের ঠাঁই নেই। 
‘কী সুন্দর চেহারা হয়েছে ওর!’ ফিসফিস করে বলেছিলেন উপেন্দ্রনাথ।
পাশে দাঁড়ানো প্রহরীটি অদ্ভুতভাবে হেসে বলেছিল, ‘ফাঁসির হুকুম হয়ে যাওয়ার পর কানাইবাবুর ষোলো পাউন্ড ওজন বেড়েছে।’ 
‘তা হবেই তো।’ মাথা নেড়ে মনে মনে বলেছিলেন উপেন্দ্রনাথ, ‘চিত্রকূটের এক সাধু বলেছিলেন, জীবন আর মৃত্যুতে যে ভেদ করে না, সে-ই পরমহংস। আমাদের কানাইয়ের মধ্যে তার পূর্ণরূপটুকু দেখে নিলাম। এ জীবনে আর কিছু না দেখলেও দুঃখ নেই। কখনো যদি জেল থেকে ছাড়া পাই, আমি সবাইকে বলব— আমি কানাইলাল দত্তকে দেখেছি।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ