নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা তছরুপের ঘটনায় অন্যতম মূল অভিযুক্ত নেপালে আত্মগোপন করে রয়েছেন। মাঝে বেশ কিছুদিন তিনি এরাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপন করেছিলেন। ইডি এই কেস নাড়াচাড়া শুরু করতেই তিনি নেপাল চলে গিয়েছেন বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে। অর্থ বিভাগের ওই কর্মীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। তাঁকে গ্রেপ্তার করা গেলে পুরো ঘটনার রহস্য উন্মোচন হবে বলে আধিকারিকরা মনে করছেন। এছাড়া ইডি জোর কদমে তদন্ত শুরু করলে অনেক রাঘব বোয়াল জালে জড়িয়ে যাবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন কর্মী এনামুল হক। তিনি এখন জামিনে মুক্ত রয়েছেন। তাঁর কাজ ছিল কর্তাদের নির্দেশ মতো বিভিন্ন জায়গায় কাগজ নিয়ে যাওয়া। তিনি বলেন, একদিন হঠাৎ করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ বিভাগের এক কর্মী ফিক্সড ডিপোজিটের কয়েকটি নথি দিয়ে একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে জমা করতে বলেন। তাঁর কথামতো সেই নথি ব্যাঙ্কে নিয়ে যাই। তা দেখে ব্যাঙ্কের ম্যানেজারের সন্দেহ হয়। তিনি তখনই ফোন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনও একজনের সঙ্গে কথা বলেন। নথি জমা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে চলে আসি। কয়েক দিন পর এক শীর্ষস্তরের আধিকারিক বলেন, ‘তুমি জামিন নিয়ে এস’। কিসের জামিন? কেন জামিন কোনও কিছুই বুঝতে পারেনি। ওই আধিকারিককে বিষয়টি জানতে চাওয়া হলে আমতা আমতা করে উত্তর দেন। আমি কোনও অন্যায় করিনি। তাই জামিন নেওয়ার প্রশ্ন নেই। ওই দিনের পর থেকে পদস্থ আধিকারিকরা ঘনঘন বৈঠক করেন। বুঝতে পারি কিছু একটা হয়েছে। তিনি বলেন, আমার মতো আরও কয়েকজন ব্যাঙ্কে নথি জমা করার কাজ করেন। তাঁদের সন্দেহের ঊর্ধ্বে রাখা হল। আমার নামে অভিযোগ করা হয়। সিআইডি আমাকে গ্রেপ্তার করে।সিআইডি সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দিন এনামুলসাহেব যে নথি জমা দিয়ে ছিলেন তাতে অসঙ্গতি ছিল। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিক্সড ডিপোজিটের টাকা ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে জমা করার জন্য বলা হয়। তাতেই ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এনামুল সাহেবের দাবি, কর্তাদের নির্দেশমতো নথি ব্যাঙ্কে জমা করা ছাড়া তাঁর আর কোনও ভূমিকা ছিল না। সমস্ত নথি খামে ভরে দেওয়া হয়েছিল। তা খুলেও দেখিনি। দেখার কথাও নয়।গোয়েন্দা সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ে জানানোর পর আধিকারিকদের চক্ষু চড়কগাছ হওয়ার জোগাড় হয়। এই ঘটনার আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় দু’কোটি টাকা উধাও হয়ে গিয়েছে। কে কীভাবে টাকা উধাও করল, এসব প্রশ্নের উত্তর অর্থ বিভাগের ওই কর্মী দিতে পারবেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন। তিনি এখন ভিন দেশে গা ঢাকা দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।