Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দক্ষিণবঙ্গের বহু হাসপাতালে যন্ত্রাংশ চুরির মূল পান্ডা জালে, সাফল্য বিষ্ণুপুর থানার, ধৃত দক্ষিণ ২৪ পরগনার যুবক

দক্ষিণবঙ্গের একের পর এক জেলায় এই ঘটনা ঘটলেও পুলিস কিনারা করতে পারছিল না।

দক্ষিণবঙ্গের বহু হাসপাতালে যন্ত্রাংশ চুরির মূল পান্ডা জালে, সাফল্য বিষ্ণুপুর থানার, ধৃত দক্ষিণ ২৪ পরগনার যুবক
  • ১ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: হাসপাতালের অপারেশন রুমে ঢুকে চুরি করছিল যন্ত্রাংশ। কখনও খারাপ যন্ত্রাংশ সারানোর নামে, আবার কখনও চিকিৎসা সামগ্রী পরীক্ষার নামে ঢুকে সবার চোখে ধুলো দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকার যন্ত্রাংশ নিয়ে সে চম্পট দিচ্ছিল। হাসপাতালের ভিতর থেকে এভাবে চিকিৎসা সামগ্রী উধাও হওয়ায় কর্তৃপক্ষ বিপাকে পড়ছিল। দক্ষিণবঙ্গের একের পর এক জেলায় এই ঘটনা ঘটলেও পুলিস কিনারা করতে পারছিল না। শেষমেশ বিষ্ণুপুর থানার পুলিস সাফল্য পেল। দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর থেকে এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধৃতের নাম সমীর মণ্ডল। তার বাড়ি সোনারপুর থানার রাজপুরের প্রমোদনগরে। বৃহস্পতিবার বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে তুলে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিস।

Advertisement

বৃহস্পতিবার ধৃতকে নিয়ে বাঁকুড়ার অতিরিক্ত জেলা পুলিস সুপার (অপারেশন) মকসুদ হাসান সাংবাদিক সম্মেলন করেন। তিনি বলেন, ধৃত যুবক রাজ্যের বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে দামি চিকিৎসা সরঞ্জাম চুরি করে তা বাইরে বিক্রি করত। সে বিষ্ণুপুর হাসপাতাল থেকেও যন্ত্রাংশ চুরি করে। সিসি ক্যামেরা ও বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে সমীরকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। তার কাছ থেকে ল্যাপরোস্কোপি অপারেশনের জন্য ব্যবহৃত ১২টি টেলিস্কোপ উদ্ধার করা হয়েছে। যার বাজার মূল্য প্রায় ১২লক্ষ টাকা। সে মুর্শিদাবাদের ডোমকল ও কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেও চুরির ঘটনায় যুক্ত। তাকে হেফাজতে নিয়ে আরও তথ্য উদ্ধারের চেষ্টা করা হবে। 
পুলিস ও বিষ্ণুপুর হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১ এপ্রিল এক যুবক বিষ্ণুপুর হাসপাতালে আসে। সে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে নিজেকে চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ কোম্পানির কর্মী পরিচয় দেয়। হাসপাতালের ল্যাপরোস্কোপি সরঞ্জামগুলি ঠিকঠাক আছে কি না, তা দেখার জন্য কোম্পানির পক্ষ থেকে তাকে পাঠানো হয়েছে বলে জানায়। কর্তৃপক্ষ তার কথা বিশ্বাস করে। হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির এক কর্মী তাকে স্ত্রী ও প্রসূতি রোগের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যান। কিছুক্ষণ পর চতুর্থ শ্রেণির ওই কর্মী চেঞ্জিং রুমে ঢুকলে সেই ফাঁকে ওই যুবক অপারেশন থিয়েটার থেকে বেশ কিছু সরঞ্জাম নিয়ে বেরিয়ে যায়। পরে ওই যুবকের খোঁজ না পেয়ে পুলিসের কাছে অভিযোগ দায়ের করা হয়। 
বিষ্ণুপুর জেলা হাসপাতালের সুপার শুভঙ্কর কয়াল বলেন, একটি বিদেশি কোম্পানির ল্যাপরোস্কোপি যন্ত্রপাতি হাসপাতালে সরবরাহ করা হয়েছিল। অভিযুক্ত যুবক ওই কোম্পানির থেকেই তা পরীক্ষা করার জন্য এসেছে বলে পরিচয় দেওয়ায় কারও সন্দেহ হয়নি। কিন্তু, যাকে তার সঙ্গে অপারেশন থিয়েটারে পাঠানো হয়েছিল তিনি একটু আড়াল হতেই ওই যুবক যন্ত্রপাতি নিয়ে পালিয়ে যায়। তারপরেই থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত সমীর এর আগে একটি চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহকারী সংস্থায় কাজ করত। সেই সুবাদে কোন হাসপাতালে কোন কোম্পানির সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়, সেটা তার নখদর্পণে ছিল। সেইমতো ছক কষে সে রাজ্যের বিভিন্ন সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে চুরি করছিল। চুরির সামগ্রী সে বিভিন্ন নার্সিংহোমে বিক্রি করে দিত। সে মুর্শিদাবাদের ডোমকল এবং পূর্ব বর্ধমানের কালনা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালেরও যন্ত্রাংশ চুরি করে। ডোমকলে সে যন্ত্রাংশ সারানোর নামে ঢুকে কয়েক লক্ষ টাকার সামগ্রী চুরি করে চম্পট দেয়। তবে শেষ রক্ষা হল না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ