সুব্রত ধর, শিলিগুড়ি: জালিয়াতির টাকা লেনদেনের মাধ্যম ‘মিউল’ অ্যাকাউন্ট! যার নেপথ্যে সাইবার প্রতারণা চক্রের মাস্টার মাইন্ডরা। এদের ঘাঁটি মূলত দু’টি রাজ্যে, রাজস্থান ও ঝাড়খণ্ডে। শিলিগুড়িতে অনলাইন প্রতারণার বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে এমন তথ্য জানতে পেয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। তারা এজন্য মাসে ২০ বারের বেশি লেনদেন হচ্ছে এমন নতুন অ্যাকাউন্টগুলির উপর নজর রাখছে। একই সঙ্গে তারা গ্রামে গ্রামে ক্যাম্প করে বাসিন্দাদের সচেতন করছেন।
শিলিগুড়ি তো বটেই, উত্তরবঙ্গের সর্বত্র ছড়িয়েছে অনলাইন প্রতারণা চক্রের জাল। আর প্রতারণার যতকাণ্ড মিউল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে! ইতিমধ্যে শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং জেলা পুলিশ বেশকিছু মিউল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের হদিশ পেয়েছে। গোয়েন্দা সূত্রের খবর, কোনও কাজ নেই। ঘরে বসে বিনা পারিশ্রমিকে মিলবে মোটা অংকের টাকা ইনকামের সুযোগ! এমন টোপেই বস্তি ও গ্রামের সহজ-সরল বাসিন্দাদের কাছ থেকে আধারকার্ড, ভোটারকার্ড সহ বিভিন্ন নথি হাতিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলছে অনলাইন প্রতারকদের এজেন্টরা। তারাই অ্যাকাউন্টগুলি নিয়ন্ত্রণ করছে। সেব্যাপারে পুরোপুরি অন্ধকারে থাকছেন অ্যাকাউন্টের প্রকৃত গ্রাহকরা।
ব্যাংক ও পুলিশ অফিসাররা বলেন, পিঠে বোঝা নিয়ে মাইলের পর মাইল যেতে পারে খচ্চর। ঠিক সেই ভাবেই কমিশনের টোপ দিয়ে খোলা ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলিতে জালিয়াতির টাকা ছোট ছোট অংকে একাধিকবার লেনদেন করা হয়। এজন্য প্রতারণার টাকা সহজে উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। সেজন্যই সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলিকে বলা হয় ‘মিউল অ্যাকাউন্ট’। এজেন্টদের এমন ফাঁদে পা দিয়ে সাধারণ মানুষ ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুললেও তাঁরা লেনদেনের ব্যাপারে পুরোপুরি অন্ধকারে থাকেন। তাঁরা শুধু কমিশন পেয়েই খুশি।
কিন্তু এমন চক্রের ঘাঁটি কোথায়? গোয়েন্দা সূত্রের খবর, বর্তমানে জালিয়াতির টাকা মিউল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বের করার চক্রের ঘাঁটি রাজস্থান ও ঝাড়খণ্ড। সেখানে বসেই চক্রের মাস্টারমাইন্ডরা মিউল অ্যাকাউন্টগুলি নিয়ন্ত্রণ করছে। ভাড়ায় অ্যাকাউন্ট জোগাড় করার জন্যই তারা শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গে ছড়িয়ে রেখেছে এজেন্ট। এরাও কমিশনে কাজ করে। দার্জিলিং জেলার লিড ব্যাংক ম্যানেজার রাজেশ কুমার বলেন, অনলাইন প্রতারণার বেশকিছু ঘটনা নিয়ে তদন্ত করেই এমনই তথ্য মিলেছে। এই বিষয়টি পুলিশ ও গোয়েন্দারা গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। তাদেরকে বিভিন্ন রকমভাবে সহযোগিতা করছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এমন চক্রের বিরুদ্ধে বেশকিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। সেই সঙ্গে অনলাইন প্রতারণা চক্রে ব্যাংকের একাংশও জড়িত বলে সন্দেহ। দার্জিলিংয়ের লিড ব্যাংক ম্যানেজার বলেন, নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মাসে ২০ বার লেনদেন হলেই সেগুলির উপর নজরদারি শুরু হয়। এজন্য বেশকিছু অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। এছাড়া অনলাইন প্রতারণার বিরুদ্ধে গ্রামে গ্রামে গিয়ে বাসিন্দাদের সচেতন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট চক্রে ব্যাংকের কেউ জড়িত আছে কি না তা বলা সম্ভব নয়। এটা পুলিশি তদন্তের বিষয়।