Bartaman Logo
৮ জুন, ২০২৬
বর্তমান / চতুষ্পর্ণী

প্রভুর প্রসাদ

সামনেই রথ। এই সময় জগন্নাথদেবের কাছে কেমন প্রসাদ নিবেদন করা হয়? তারই দু’টি রেসিপি জানালেন ইসকন মন্দিরের অন্যতম সেবায়েত রাধারমণ দাস।

প্রভুর প্রসাদ
  • ২১ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সামনেই রথ। এই সময় জগন্নাথদেবের কাছে কেমন প্রসাদ নিবেদন করা হয়? তারই দু’টি রেসিপি জানালেন ইসকন মন্দিরের অন্যতম সেবায়েত রাধারমণ দাস।

Advertisement

 রথের সময় জগন্নাথদেবকে মহাপ্রসাদ নিবেদন করা হয়। প্রথমে সেই প্রসাদ প্রভু গ্রহণ করেন, তারপর তা বিমলা দেবীকে অর্পণ করা হয়। সেই প্রসাদই ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করার নিয়ম রয়েছে। এই প্রসাদ মন্দিরের পাকশালায় কাঠকয়লার আগুনে রান্না করা হয়। প্রভু শ্রীজগন্নাথদেব খিচুড়ি খেয়ে রথে চড়েন। এরপর মন্দিরের পাকশালা সাত দিনের জন্য বন্ধ থাকে। এছাড়াও রোজই মন্দিরের পাকশালায় ৫৬ ধরনের ভোগ রান্না হয়। তার মধ্যে খিচুড়ি, ডালমা, বিভিন্ন রকমের পিঠে, রসবলি ইত্যাদি অন্যতম। এই প্রসাদের মধ্যে থেকে দু’টি রেসিপি জানালেন ইসকনের মন্দিরের অন্যতম সেবায়েত রাধারমণ দাস।  বাড়িতেও অনেকেই রথের সময় প্রভুর পুজো করেন। তাঁরা এই রেসিপি সহযোগে বাড়িতেও বানাতে পারেন প্রসাদের এই দু’টি ধরন। তবে এই প্রসাদ বানানোর সময় শুদ্ধ বেশ ও শুদ্ধাচারে তা করা প্রয়োজন। এই দু’টি পদই সাত্ত্বিক, অর্থাৎ পেঁয়াজ-রসুন ছাড়া রাঁধা হয়। শুদ্ধভাবে ভগবানের উদ্দেশ্যে ভালোবাসা ও ভক্তি সহকারে তা প্রস্তুত ও নিবেদন করা হয়।

ওড়িয়া খিচুড়ি

এই খিচুড়ি প্রতিদিনের ভোগে (সকালে ও দুপুরে) প্রভুর কাছে নিবেদিত হয়। রথযাত্রার সময় এই খিচুড়ি ভোগের গুরুত্ব অপরিসীম হয়ে ওঠে। সেই সময় এই খিচুড়ি দেবতাকে অর্পণ করার পর ভক্তদের প্রসাদ হিসেবে বিতরণ করা হয়।

উপকরণ: ১ কাপ কাঁচা বা আতপ চাল (সেদ্ধ চাল নয়), অর্ধেক কাপ মুগ ডাল, ২ টেবিল চামচ ঘি, ১ চা চামচ জিরে, ১-২টি তেজপাতা, ১ ইঞ্চি দারচিনি, ২টি লবঙ্গ, ১ চা চামচ কুচানো আদা, পরিমাণ মতো নুন, ৪ কাপ মতো জল।

প্রণালী: মুগডাল শুকনো কড়াইয়ে ভেজে নিতে হবে যতক্ষণ না তাতে হালকা সোনালি রং ধরে। এরপর তা সামান্য ঠান্ডা করে ধুয়ে রাখুন। চাল ধুয়ে আলাদা করে রাখুন। হাঁড়িতে ঘি গরম করে তাতে জিরে, তেজপাতা, দারচিনি, লবঙ্গ ও আদা দিন। হালকা ভাজুন। সুগন্ধ বেরলে চাল ও ডাল দিয়ে ২-৩ মিনিট নাড়ুন। জল ও নুন দিন। ঢাকা দিয়ে মাঝারি আঁচে রান্না করুন যতক্ষণ না চাল-ডাল সেদ্ধ হয়ে খিচুড়ি ঘন হয়ে যায়। গরম গরম পরিবেশন করুন। এটি সাধারণত ডালমা বা সব্জি দিয়ে ভগবানকে নিবেদন করা হয়।

এন্ডুরি পিঠে

জন্মাষ্টমী এবং বিশেষ উৎসব উপলক্ষ্যে এই পিঠে পরিবেশন করা হয়। এছাড়া  রথের সকালে ভোগের অংশও এই পিঠে ।

উপকরণ: ১ কাপ চাল (ভিজিয়ে বাটতে হবে), অর্ধেক কাপ উরাদ বা বিউলির ডাল (ভিজিয়ে বাটা), ১ কাপ নারকেল কোরা, অর্ধেক কাপ গুড়, ২ টেবিল চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো, (একটু দানা রেখে গুঁড়িয়ে নেবেন), ১ টেবিল চামচ ঘি, হলুদের পাতা সামান্য (মূলত সুগন্ধের জন্য এটি অপরিহার্য)

প্রণালী: 
পুর তৈরির জন্য: কড়াইয়ে ঘি গরম করে নারকেল কোরা ও গুড় দিন। ভালো করে নাড়তে নাড়তে মিশিয়ে নিন। গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে নামিয়ে ঠান্ডা করুন।  

ব্যাটার তৈরি: চাল ও ডাল একসঙ্গে বাটুন ও ভালো করে মেশান। চাইলে ৪–৬ ঘণ্টা রেখে ফারমেন্ট করিয়ে নিতে পারেন। 
পিঠে বানানো: প্রতিটি হলুদের পাতা ধুয়ে নিন। পাতার উপর পুরু করে ব্যাটার ঢালুন। তার মাঝখানে নারকেল গুড়ের পুর দিয়ে পাতা ভাঁজ করুন। স্টিমারে বা ফুটন্ত জলের উপর পাতাগুলি রেখে ঢেকে দিন। ১০–১৫ মিনিট ভাপাতে দিন। ভাপানো হয়ে গেলে দেখবেন পাতার মোড়ক খুলে নেওয়া যাবে। তখন তা খুলে পিঠে পরিবেশন করুন। হলুদের পাতার ঘ্রাণে এই পিঠে হয়ে ওঠে অপূর্ব।

সম্পর্কিত সংবাদ