বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: পঞ্চাশের দশকের বিভাগ, যখন দেশের আচ্ছা আচ্ছা নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগ বা গবেষণাকেন্দ্র চালুই হয়নি। এহেন প্রাচীন একটি নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিভাগ এখন রীতিমতো ধুঁকছে রাজ্যের এক নম্বর সুপারস্পেশালিটি হাসপাতাল পিজিতে। বিভাগীয় প্রধানের অবসর ২০২৭ সালে। এক বিভাগীয় শিক্ষক চিকিৎসক অসুস্থ। পৃথিবীজুড়ে রোগ চিহ্নিতকরণ ও চিকিৎসায় যে নিউক্লিয়ার মেডিসিন নিয়ে এখন হইহই রইরই কাণ্ড, পিজিতে সেই বিভাগের সমস্যা আসলে আরও গভীরে!
পিজি সূত্রের খবর, ২০০৮ সাল থেকে এখানে (রোনাল্ড রস বাড়ির পাঁচতলায়) রয়েছে আনুমানিক ৮০ লক্ষ টাকা দামের গামা ক্যামেরা। সেটির মাধ্যমে দেহের অধিকাংশ অঙ্গের ফাংশনাল কাজকর্ম বোঝা সম্ভব। ফাংশনাল কাজ মানে? চিকিৎসকরা জানান, এক্স রে, ইউএসজি, সিটি স্ক্যান, এমআরআই ইত্যাদি যন্ত্রের মাধ্যমে যে কোনো অঙ্গের গঠন ও বর্তমান পরিস্থিতি বোঝা সম্ভব। আর গামা ক্যামেরার মতো নিউক্লিয়ার মেডিসিনের যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত অঙ্গ সেই সময় কেমন ও কতটা কাজ করছে, তা বোঝা সম্ভব। তাই সার্থকভাবে যন্ত্রটি কাজে লাগালে প্রভুত উপকৃত হতে পারেন রোগীরা। আর দুর্ভাগ্যের বিষয় এখানেই! যন্ত্রটি চালাতে অ্যাটমিক এনার্জি রেগুলেটরি বোর্ডের নিয়মানুযায়ী দু’ধরনের প্রশিক্ষিত কর্মী প্রয়োজন। এক, টেকনিক্যাল অফিসার (নিউক্লিয়ার মেডিসিন)। দুই, রেডিয়েশন সেফটি অফিসার (নিউক্লিয়ার মেডিসিন)। কারণ যন্ত্রটি রেডিয়ো অ্যাকটিভিটি বিকিরণ করে। রেডিয়ো ফার্মাসিউটিক্যাল পদার্থ নিয়ে কাজ করে। ঠিক কতটা বিকিরণে রোগীদের বিপদ হবে না ও অঙ্গের সঠিক ইমেজ পাওয়া যাবে, ঠিক কতটায় হাসপাতালে তেজষ্ক্রিয়তা ছড়াবে না, তা দেখেন এই দুই আধিকারিক।
১৮ বছর ধরে এখানে এই দুই ধরনের কর্মীই নেই! তৃণমূল জমানায় অস্থায়ীভাবে নিয়োগ করে পরিস্থিতি সামলানোর চেষ্টা হয়েছিল। লাভ হয়নি। যাঁরা এসেছিলেন, বেসরকারি জায়গা বা আরও ভালো বেতনের সরকারি জায়গায় চলে গিয়েছেন। এদিকে যন্ত্রটি থেকেও না থাকায় পিজি’র অন্যান্য বিভাগের বাছাই কেসে বিশেষজ্ঞ মতামত দেওয়া ছাড়া এই বিভাগের এখন কোনো কাজই নেই। এদিকে বুড়ো হতে হতে ৮০ লাখি সেই যন্ত্রের এখন ‘স্ক্র্যাপ’ হওয়ার দশা। প্রশিক্ষিত যন্ত্রী এলেও আগের প্রজন্মের, দেড় দশক পুরানো যন্ত্রটি কাজে লাগানো অসম্ভব।
তাহলে উপায়? এক পদস্থ সূত্র জানিয়েছে, নতুন গামা ক্যামেরা কিনতে কমপক্ষে ৩-৪ কোটি টাকা খরচ। পিজিতে ইতিমধ্যে পেট সিটি স্ক্যান চালু হওয়ার কথা। নতুন সরকার এই বিভাগে সেই যন্ত্রটি আনার অনুমোদন দিতে পারে। এমন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। সঙ্গে দরকার লোকবলেরও ঘাটতি মেটানো। রাজ্যের স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, ‘বিষয়টি এখনই দেখা হচ্ছে।’