হায়দরাবাদ ২২৬-৮ কলকাতা ১৬১
সুকান্ত বেরা, কলকাতা: খান চারেক বল তখনও বাকি। সোনালি-বেগুনি পতাকা গুটিয়ে বাড়ির পথে হাঁটা দিয়েছেন অনেকেই। ধীরে ধীরে ফাঁকা হচ্ছে ইডেনের গ্যালারি। এমন লজ্জার আত্মসমর্পণ কী করেই বা বসে দেখা সম্ভব। খেলায় হার-জিত থাকে। কিন্তু ঘরের মাঠে সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে কোনও চ্যালেঞ্জই জানাতে পারল না সাধের কলকাতা নাইট রাইডার্স। ৬৫ রানে হারের লজ্জা নিয়েই মাঠ ছাড়লেন রাহানেরা।
গত ম্যাচে ডুবিয়েছিল বোলিং। এই ম্যাচেও হায়দরাবাদের ব্যাটারদের তাণ্ডবে নাভিঃশ্বাস উঠল বরুণ চক্রবর্তী, বৈভব আরোরাদের। তবুও আশা ছিল শক্তিশালী ব্যাটিংয়ে ভর দিয়ে ২২৭ তাড়া করতে সফল হবে কেকেআর। শুরু থেকেই চালিয়ে খেলছিলেন কিউয়ি ওপেনার ফিন অ্যালেন। তাঁর মারকাটারি ব্যাটিং আশার আলো জ্বালিয়েছিল। কিন্তু ক্রিকেট বড়ই অনিশ্চয়তার খেলা। ৭ বলে ২৮ করে সেই অ্যালেনই ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন ডাগ-আউটে। আসলে পিচ যেমনই হোক, ২২৬ তাড়া করা সহজ নয়। তাই পাওয়ার প্লে’কেই টার্গেট করেছিল কেকেআর। কিন্তু রাহানের ব্যর্থতা (৮) এবং গ্রিনের রান-আউটে চাপে পড়ে যায় শাহরুখের দল। তা সত্ত্বেও অঙ্গকৃশ রঘুবংশী ও রিঙ্কু সিং জুটি বেঁধে দলকে টানছিলেন। ৫৫ বলে দরকার তখন ১০৭। ঠিক তখনই নিজের ভুলে রঘুংবশী (৫২) রান আউট হয়ে ম্যাচ পুরোপুরি হাতে তুলে দেন হায়দরাবাদের। এরপর রিঙ্কু ৩৫ করে ফিরতেই আশা শেষ। ১৬ ওভারে মাত্র ১৬১ রানে গুটিয়ে যায় তিনবারের চ্যাম্পিয়নরা।
গত ম্যাচে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে ২২০ তুলেও জিততে না পারার মধ্যেই প্রতিফলিত হয়েছিল কেকেআরের বোলিং দুর্বলতা। ইডেনেও ছবিটা বদলাল না। প্রথম ৫ ওভারেই সানরাইজার্স তোলে ৭১। বড় অসহায় দেখাচ্ছিল ক্যাপ্টেন রাহানেকে। দলের সেরা বোলার বরুণ যদি প্রথম ওভারে ২৫ দেন, তাহলে তাঁর কী-ই বা করার আছে! কমলা ব্রিগেডের প্রচণ্ড প্রহারের মুখে নাইটদের প্রথম সাফল্যটি এনে দেন কার্তিক ত্যাগী। তাঁর শিকার ট্রাভিস হেড (৪৬)। তবে মুজারাবানির বলে ডিপ স্কোয়ার লেগে অভিষেকের (৪৮) ক্যাচটি বরুণ যেভাবে সামনে ঝাঁপিয়ে ধরেন, তা এক কথায় অনবদ্য। একটা সময় হায়দরাবাদের রান ছিল ১ উইকেটে ১১১। সেখান থেকে স্কোর দাঁড়ায় ১১৮-৪। ব্যর্থ ঈশান (১৪), অনিকেত (১)। ধাক্কা সামলে নীতীশের (৩৯) সঙ্গে জুটি বেঁধে দলকে টানেন ক্লাসেন। ৩৫ বলে প্রোটিয়া তারকার সংগ্রহ ৫২। হায়দরাবাদ তোলে ৮ উইকেটে ২২৬।
ঘরের মাঠে নাইটদের প্রথম ম্যাচে অবশ্য শাহরুখ খানকে দেখা গেল না। ভালোই করেছেন আসেননি। না হলে এমন বোলিং দেখে নির্ঘাত সিইও বেঙ্কি মাইসোরকে ডেকে বলতেন, তুমি তো ভায়া টাকাগুলো গঙ্গায় ঢেলে দিচ্ছ হে!



