ক্রাইস্টচার্চ: ম্যাট হেনরির বলে ছক্কা মেরে নমন ধীর যখন দু’বল বাকি থাকতেই ভারতের জয় নিশ্চিত করলেন, তখন বোঝার উপায় ছিল না কতটা বারুদ ঠাসা ছিল সারা ম্যাচে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড ৪ উইকেটে ২২৫ তোলার পর টিম ইন্ডিয়ার সমর্থকদের চক্ষু চড়কগাছ। কারণ পরিসংখ্যান বলছে, এর আগে ২০২৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি ২০৯ রান সফলভাবে চেজ করেছিল ‘মেন ইন ব্লু’। অর্থাৎ ক্রাইস্টচার্চে বৃহস্পতিবার নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে রেকর্ড গড়তে ভারতের অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করা প্রয়োজন। পাওয়ার প্লে’তে সঞ্জু স্যামসন ও অভিষেক শর্মা সেই কাজটাই করেন। ঝড়ের গতিতে রান যোগ করায় কিছুটা ব্যাকফুটে চলে যায় আয়োজক দেশ। একটা সময় টিম ইন্ডিয়ার স্কোর ছিল বিনা উইকেটে ৯৩। সঞ্জু ছিলেন চেনা ছন্দে। আর অভিষেক শর্মা বরাবরের মতোই টর্নেডোর গতিতে চালিয়ে খেলছিলেন। এতক্ষণ সবকিছু ঠিকই এগচ্ছিল। কিন্তু পাওয়ার প্লে শেষ হতে না ঘটল ছন্দপতন। অভিষেক আউট ১২ বলে ২৯ রান করে। হাফ-সেঞ্চুরির পর আরও দ্রুত গতিতে রান যোগ করতে মরিয়া হয়ে ওঠেন সঞ্জু। কিন্তু স্যান্টনারের বলে বোল্ড হন তিনি। ৩৩ বলে তাঁর সংগ্রহ ৬৭। সঞ্জুই মূলত গড়ে দেন ভারতের জয়ের ভিত। পর পর উইকেট পতনে কিছুটা চাপে পড়ে যায় টিম ইন্ডিয়া। ব্যর্থ তিলক ভার্মা (৬), ঈশান কিষান (১)। এর পরেও তরুণ তুর্কি বৈভব সূর্যবংশীকে ডাগ-আউটে বসে থাকতে দেখে হতাশ হওয়াই স্বাভাবিক।
চাপের মুখে শ্রেয়স আয়ারের অধিনায়কোচিত ইনিংস এবং নমন ওঝার সাহসী ব্যাটিং দলকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে নিউজিল্যান্ডের আলগা ফিল্ডিংয়ের সুবিধাও পেয়েছে ভারত। ২৭ রানে শ্রেয়সের ক্যাচ না পড়লে ম্যাচের ফল অন্যরকমও হতে পারত। শেষ পর্যন্ত শ্রেয়স ২৮ বলে করেন ৪২ রান। অক্ষর প্যাটেলের সংগ্রহ ২৪। কিন্তু ২৬ বছর বয়সি নমন ধীর কিন্তু ধীরে ধীরে পায়ের তলার জমি শক্ত করছেন। টিম ম্যানেজমেন্টের আস্থার মর্যাদা দিতেও সফল। ১৫ বলে পাঁচটি চার ও দু’টি ছক্কায় সাজানো ৪২ রানের অপরাজিত ইনিংসই প্রমাণ করে, তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া।
তবে জয়ের দিনেও ভারতীয় বোলিংয়ের দুর্দশা কাঁটা হয়ে বিধঁছে কোচ গৌতম গম্ভীরকে। প্রায় চার বছর পর জাতীয় দলে ফেরা ভুবনেশ্বর কুমারের পারফরম্যান্স আহামরি লাগেনি। বাকি তিন পেসার মায়াঙ্ক যাদব, অর্শদীপ সিংদের বেশ অসহায় দেখিয়েছে ফিন অ্যালেন (৪৫), গ্লেন ফিলিপসদের (৮২) মারকাটারি ব্যাটিংয়ের সামনে। নীতীশ কুমার রেড্ডি, অক্ষর প্যাটেলরাও রানের গতিতে লাগাম টানতে ব্যর্থ। ভারতের পাঁচ বোলারই ওভার পিছু দশের অধিক রান বিলিয়েছেন, যা সত্যিই লজ্জার! এই ছবি দ্রুত না বদলালে নিউজিল্যান্ডে শ্রেয়সদের সুহানা সফরের স্বপ্ন জোর ধাক্কা খাবে।
নিউজিল্যান্ড ২২৫/৪ (ফিলিপস অপরাজিত ৮২, অ্যালেন ৪৫; মায়াঙ্ক ১-৪০)। ভারত ২৩০/৬ (স্যামসন ৬৭, নমন অপরাজিত ৪২; ব্রেসওয়েল ২-৩৭)।
৪ উইকেটে জয়ী ভারত ম্যাচের সেরা-সঞ্জু স্যামসন



