নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নিম্নচাপের জেরে নাগাড়ে বৃষ্টিতে ফুঁসছে কেলেঘাই। পটাশপুরে আমগাছিয়ায় নদীর জলস্তর প্রি-ডেঞ্জার লেভেল ছুঁয়েছে। এই অবস্থায় পটাশপুর-১ ব্লকের গোপালপুর এলাকায় নদীবাঁধের অনেকটা অংশ ও সংলগ্ন পাকা রাস্তায় ধস নামে। চিস্তিপুর ভেড়ির কাছেও নদীবাঁধে ধস নেমেছে। বাঁধের ধারে ঝুপড়িবাসী বেশ কয়েকটি পরিবারকে নিরাপদ জায়গায় সরানো হয়েছে। এছাড়া আরও তিনটি জায়গায় বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেচদপ্তরের পক্ষ থেকে আমগাছিয়ায় ক্যাম্প অফিস বানিয়ে সেখান থেকে নজরদারি চালানো হচ্ছে। দপ্তরের ইঞ্জিনিয়ার ও কর্মীরা সারাক্ষণ নদীবাঁধে ঘুরছেন। চলছে নাইট পেট্রলিংও।
সেচদপ্তরের মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, কেলেঘাই নদীতে জলস্তর বেড়েছে। এনিয়ে সেচদপ্তরের কাঁথির এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার, কেলেঘাই বেসিনের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ারের সঙ্গে কথা হয়েছে। পটাশপুরে যেঅংশে নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেখানে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। ময়নায় চণ্ডীয়া নদীবাঁধে এক জায়গায় ধস নেমেছে। সেখানেও মেরামতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জল বাড়ার উপর নজর রাখতে বলেছি। পাশাপাশি নাইট পেট্রলিংয়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। পটাশপুর, ভগবানপুরের বিডিও, থানার ওসি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতিদেরও অ্যালার্ট করে দেওয়া হয়েছে। এনিয়ে দুই মেদিনীপুরের জেলাশাসকের সঙ্গেও কথা হয়েছে।
একসময় কেলেঘাই নদীকে বলা হত সবং, পটাশপুরের দুঃখ। বৃষ্টির জলে পুষ্ট কেলেঘাই নদী ভাসিয়ে ফি-বছর ভয়াবহ বন্যার কারণে সবং ও পটাশপুরবাসীর বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হতো। কিন্তু, কেলেঘাই, কপালেশ্বরী নদীতে খননকাজের ফলে নদীর জলধারণ ক্ষমতা বাড়ে। নিম্ন অববাহিকা অঞ্চল দিয়ে নদীর জল দ্রুত নেমে যাওয়ার কারণে ফি-বছর বন্যার হাত থেকে রেহাই মেলে। যদিও ২০২১সালে ১৭সেপ্টেম্বর পটাশপুরের তালছিটকিনি গ্রামে কেলেঘাই নদীবাঁধ ভেঙে ভয়াবহ বন্যা হয়। পটাশপুর-১ ও ভগবানপুর-১ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছিল। ফসলের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়।
গত কয়েকদিন নাগাড়ে বৃষ্টিতে কেলেঘাই নদীতে জলস্তর বেড়ে গিয়েছে। আমগাছিয়া ও তালছিটকিনি এলাকায় নদীতে বড়সড় বাঁক আছে। এর আগেও কয়েকবার ওই এলাকায় নদীবাঁধ ভেঙেছে। তাই কেলেঘাই নদীতে জল বাড়লেই আমগাছিয়া ও তালছিটকিনি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। সেচদপ্তর আমগাছিয়ার ক্যাম্প অফিস বানিয়ে সেখান থেকেই নজরদারি চালাচ্ছে। দপ্তরের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সেখানে রয়েছেন। একাধিক সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার এবং কর্মীরা ধারাবাহিকভাবে নদীবাঁধে নজরদারি চালাচ্ছেন। রবিবার সকাল থেকে নদীবাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত জায়গায় কাঠের বল্লি পুঁতে মাটির বস্তা ফেলে মেরামতির কাজ শুরু হয়েছে। একটানা বৃষ্টি হলে নদীতে জলস্তর বিপদসীমা ছুঁয়ে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াবে বলে সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা মনে করছেন।
কেলেঘাই নদীর একদিকে সবং, অপরদিকে পটাশপুর-১ ও ভগবানপুর-১ব্লক। নদীর দুই পাড়ে সেচদপ্তরের জায়গার উপর অজস্র ইটভাটা গজিয়ে ওঠেছে। তৈরি হয়েছে ভেড়িও। এতে নদীর স্বাভাবিক গতি বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে।
শনিবার পটাশপুর-১ বিডিও শান্ত চক্রবর্তী সহ জনপ্রতিনিধি ও সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা গোপালপুর ও চিস্তিপুর ভেড়ি এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষতিগ্রস্ত নদীবাঁধ দ্রুত মেরামতের নির্দেশ দেন। তারপর রবিবার থেকেই মেরামত নিয়ে তৎপরতা বেড়েছে। ভগবানপুর-১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অরূপসুন্দর পণ্ডা বলেন, ব্যাপক বৃষ্টির কারণে নদীর জলস্তর বেড়েছে। তবে, ভয়ের কোনও কারণ নেই। প্রশাসন ও সেচদপ্তর সতর্ক রয়েছে। পটাশপুর-১ বিডিও বলেন, কেলেঘাই নদীবাঁধে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। মেরামতির কাজও শুরু হয়েছে। আপাতত উদ্বেগের কিছু নেই।