শহর উৎসবমুখর। তবে কিছু মানুষ একাকী। একাকিত্বের মনখারাপ কাটিয়ে কোন পথে তাঁরা উৎসব উপভোগ করবেন? রইল পরামর্শ।
শহর উৎসবমুখর। তবে কিছু মানুষ একাকী। একাকিত্বের মনখারাপ কাটিয়ে কোন পথে তাঁরা উৎসব উপভোগ করবেন? রইল পরামর্শ।
বাঙালির শ্রেষ্ঠ সময় দোরগোড়ায়। রাত পোহালেই বোধন। পিতৃপক্ষের অন্ধকার সরিয়ে আলো নিয়ে আসে দেবীপক্ষ। তবু মানুষের মন বড় বিচিত্র। বহু রঙের মাঝে সেখানে ঘাপটি মেরে থাকে অন্ধকার মনখারাপ। তার উপর আমাদের চারপাশে একাকী মানুষদের সংখ্যাও কিন্তু কম নয়। পুজোর সময় এত আলো, এত উৎসবের মাঝে, তাঁদের কারও কারও মনে মেঘ জমে। সারাবছর ব্যস্ততায় থেকে হয়তো একাকিত্ব বোঝার অতটা সময় বা সুযোগ পান না, কিন্তু যে কোনও উৎসবের আবহে সে বোধ তীব্র হয়ে ওঠে। আবার কেউ কেউ এই একা জীবনে নিজের মতো করে থাকার স্বাধীনতা উপভোগ করেন। তবে পুজোয় কারও মনখারাপই কাম্য নয়। বরং কিছু ছকভাঙা সিদ্ধান্তে একা থাকা সকল মানুষ উপভোগ করতে পারেন উৎসব ও ছুটির আবহ।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ অমিতাভ মুখোপাধ্যায়ের মতে, ‘কিছু পরিকল্পনা আগাম করে রাখলে তাঁরাও এই উৎসব আনন্দের সঙ্গে উপভোগ করতে পারেন। একা থাকা মানুষদের আনন্দ দেওয়ার দায় কিন্তু কিছুটা তাঁদের নিকটাত্মীয়দেরও। তবে যাঁদের আত্মীয়স্বজন কম বা দূরে থাকেন, তাঁদের বেলায় ভালো থাকার রেসিপি খুঁজে বের করতে হবে নিজেকেই।’ ভালো থাকার রসদ বাড়াবে কোন পথে? জানালেন তিনি।
সোলো ট্রাভেল: পুজোর সময় অনেকেই বেড়াতে যান। একা মানুষদের বেড়াতে নিয়ে যান এমন অনেক ভ্রমণ সংস্থা আছে। একান্ত সেসব জানা না থাকলে, নিজেই পরিকল্পনা করে বেরিয়ে পড়ুন। পুজোর দিনগুলোর জন্য এত দেরিতে আর ট্রেনের টিকিট মিলবে না ঠিকই। তবে অ্যাপ ক্যাব ব্যবহার করে বা সাধারণ গাড়ি ভাড়া করে ধারেকাছে ঘুরে আসতেই পারেন এই কয়েকটা দিন।
পুজোর আনন্দযজ্ঞ: পুজোয় শামিল হওয়া যে কোনও মানুষের সেরা যাপন। পাড়ার পুজো হোক বা আবাসনের, এই কয়েকটা দিন ওখানেই কাটান বেশিরভাগ সময়। পুজোর আয়োজন, অনুষ্ঠান, খাওয়াদাওয়া ইত্যাদিতে সময় কাটাতে পারেন।
আত্মীয়দের বাড়ি: সারা বছর একা থাকলেও এই সময় অনেকেই আত্মীয়দের বাড়িতে বেড়াতে যান, তাঁদের সঙ্গে আনন্দ করে সময় কাটাতে চান। এভাবেও পুজোর আনন্দ পুরোপুরি উপভোগ করতে পারেন।
সহায়হীন একাকিত্ব: বয়স্ক ও আত্মীয়বিহীন বহু মানুষ আছেন, যাঁদের সেভাবে কোথাও যাওয়ার নেই বা বেড়াতে যাওয়ায় উপায় নেই। সেক্ষেত্রে এলাকার পুজো, টিভিতে প্রতিমা দর্শন ও নিজের জন্য মনপসন্দ খাবার অর্ডার করা বা রান্না করা যাপনে আলাদা রং যোগ করতে পারে। একা হাতে সবটা করতে না পারলে গৃহকাজে সহযোগিতার মানুষটির সাহায্য নিন। সিনেমা-ওটিটি: প্রতি বছর পুজোয় তিন চারটি ছবি মুক্তি পায়। নিকটবর্তী সিনেমা হল-এ গিয়ে পুজোর ক’টা দিন সিনেমা দেখতে পারেন। অনলাইন অ্যাপেও দেখতে পারেন নানা ওটিটি সিরিজ। নাটক ভালবাসলে থিয়েটারের শো কোথায় কী আছে জেনে, তাও রাখতে পারেন রুটিনে।
আড্ডা: পাড়া হোক বা স্কুল কলেজের বন্ধু, দল বেঁধে আড্ডা মারার মতো আনন্দ আর কিসে? ফোন করে বা হোয়াটসঅ্যাপে গ্রুপ তৈরি করে স্কুল কলেজের বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডার আয়োজন করে ফেলতে পারেন কয়েকটা দিন। এতেও মন ভালো থাকবে।
তবে পুজোর সময় শুধু সময় কাটানো বা উৎসব উপভোগ করাই শেষ কথা নয়। একা থাকা মানুষদের খেয়াল রাখতে হবে আরও কিছু খুঁটিনাটি বিষয়ে।
• এই সময় এলাকার অনেকেই বাইরে থাকেন বা পাড়া ফাঁকা থাকে। তাই নিরাপত্তা খাতে কোনও ভুল নয়। পুজোর আগেই স্থানীয় থানায় জানিয়ে রাখুন একা থাকার কথা। বাড়িতে থাকলে মূল দরজা বন্ধ রাখুন। বাড়ি থেকে বেরনোর সময় ভালো করে গেটে তালা দিন। সিসিটিভি থাকলে সেদিকেও নজর রাখুন ঘন ঘন।
• অসুস্থ একা মানুষ বা বয়স্কদের জন্য নানা সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা দেখভালের ব্যবস্থা রাখেন। তাঁদের ফোন নম্বর হাতের কাছে রাখুন। কলকাতা পুলিশের তরফে ‘প্রণাম’প্রকল্পটি এমনই। কলকাতার বাসিন্দা হলে প্রণাম-এ নাম নথিভুক্ত করতে পারেন।
• বেড়াতে গেলে ব্যাগ গোছানোর সময় অবশ্যই প্রয়োজনীয় ওষুধ, ইনহেলার
সঙ্গে নিন।
• পুজোয় সুস্থ থাকা খুব জরুরি। তাই নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র কিনে রাখুন। স্থানীয় হাসপাতালে ও অ্যাম্বুলেন্সের নম্বর হাতের কাছে মজুত রাখুন।
মনীষা মুখোপাধ্যায়