Bartaman Logo
৭ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নবদ্বীপের যোগনাথতলার ভট্টাচার্য বাড়ির প্রতিমা ‘লালদুর্গা’ নামেই পরিচিত এলাকায়

নবদ্বীপের যোগনাথতলার ভট্টাচার্য বাড়ির প্রতিমা ‹লাল দুর্গা› নামেই পরিচিত। এখানে প্রতিমার গায়ের রং রক্তবর্ণ অর্থাৎ লাল

নবদ্বীপের যোগনাথতলার ভট্টাচার্য বাড়ির প্রতিমা ‘লালদুর্গা’ নামেই পরিচিত এলাকায়
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সমীর সাহা, নবদ্বীপ: নবদ্বীপের যোগনাথতলার ভট্টাচার্য বাড়ির প্রতিমা ‹লাল দুর্গা› নামেই পরিচিত। এখানে প্রতিমার গায়ের রং রক্তবর্ণ অর্থাৎ লাল। এই পুজো প্রায় সাড়ে তিনশো বছর ধরে হয়ে আসছে। এই পুজোর জন্য  ভট্টাচার্য বাড়িও লাল দুর্গা বাড়ি পরিচিতি পেয়েছে। দেবীর গায়ের রং কেন রক্ত বর্ণ ? এই প্রশ্নের উত্তরে ভট্টাচার্য পরিবারের সদস্যরা জানান, এর পেছনে এক অলৌকিক কাহিনী রয়েছে। ভট্টাচার্য পরিবারের একাদশতম বংশধর ৯৭ বছরের পণ্ডিত কুমারনাথ ভট্টাচার্য বলেন, সপ্তদশ শতাব্দীর শেষ দিকে বাংলাদেশের ঢাকা জেলার মিতরা গ্রামে এই পুজো শুরু করেছিলেন রাঘব রাম ভট্টাচার্য।

Advertisement

কথিত আছে, নবমীর দিন এই বংশের পূর্বপুরুষ রাঘবরাম চণ্ডীপাঠ করছিলেন। সেই বছর নবমী তিথির সময় খুবই কম থাকায় রাঘবরাম দ্রুত চণ্ডীপাঠ করছিলেন। রাঘবরামের ছেলে রামভদ্র পিতার চণ্ডীপাঠ পড়া শুনতে পেয়ে তাঁর গর্ভধারিণী মা অর্ধকালীকে বলে ওঠেন, যেভাবে চণ্ডীপাঠ করা হচ্ছে সেটি যথার্থ উচ্চারণ হচ্ছে না। রাঘবরামের কানে এই কথা পৌঁছালেও তিনি একইভাবে চণ্ডীপাঠ করতে থাকেন। এমনকী তিনি তাঁর ছেলে রামভদ্রকে পূর্ব মুখ হয়ে চণ্ডীপাঠ করার নির্দেশ দেন। ছেলে রামভদ্র পিতার নির্দেশ পেয়ে পূর্বমুখী হয়ে চণ্ডীপাঠ করতে বসেন। সেই সময় এক অলৌকিক ঘটনা ঘটে। দেবী মূর্তিটি পশ্চিমমুখী ঘুরে মুখোমুখি হয়ে যায় রামভদ্রের।
অতসী পুষ্পবর্ণ দেবীর রং ধীরে ধীরে রক্তবর্ণ হতে শুরু করে। আর এদিকে রক্তশূন্য হয়ে রামভদ্রের দেহ ফ্যাকাসে হয়ে যায়। রামভদ্র দশমীর দিনই প্রাণ ত্যাগ করেন। সেই সময় থেকেই রাঘবরামের নির্দেশে দেবীর সামনে অর্ধকালী বংশে অর্থাৎ ভট্টাচার্য পরিবারে আর চন্ডীপাঠ হয় না। ভট্টাচার্য বাড়ির দেবীকে নবমীর দিন বোয়াল মাছ আর থোড় বিশেষ ভোগ হিসাবে দেওয়া রীতি রয়েছে। বর্তমান গৃহকর্তা কুমারনাথ বাবু জানান, বোয়াল মাছ আর থোড় ঘিরেও অলৌকিক কাহিনী রয়েছে। পূর্ববঙ্গের কাঠালিয়া গ্রামে থাকাকালীন পিতামহের সময়কালে প্রচন্ড ঝড় বৃষ্টি হয়েছিল। বোয়াল মাছ সেই সময় পাওয়া যাচ্ছিল না। ওই দিন সন্ধের সময় বিষন্ন মনে পিতামহ চিন্তা করছিলেন কিভাবে এতদিনের থোড় ও বোয়াল মাছের দেবীকে দেওয়ার নিয়ম রক্ষা করব। আমার পিতামহ গ্রামের বয়স্কা এক মহিলাকে জেঠিমা বলে ডাকতেন। সেই সময় তিনি এসে বললেন, তুমি কি ভাবছো শিবনাথ ? সেই সময় পিতামহ ওনাকে বললেন, বোয়াল মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। তাহলে কি এত দিনের নিয়ম ভঙ্গ হয়ে যাবে।জেঠিমা পিতামহকে বললেন পুকুর ঘাটে যেখানে জলে বাসন ভেজানো আছে। বাড়ির কর্মচারীদের বল সেই জায়গায় খোঁজ করতে। এখানেই পাওয়া যেতে পারে বোয়াল মাছ সহ অন্যান্য মাছও। এ কথা বলে তিনি চলে যান। এরপর যথারীতি পিতামহ সেখানে গিয়ে খোঁজ করতে বলেন। কর্মচারীদের কিছুক্ষণ পর তিনি জানতে পারেন বোয়াল মাছ পাওয়া গিয়েছে। তারপর সেই মাছ রান্না করে সেদিন দেবীকে ভোগ নিবেদন করা হয়। পরের দিন জেঠিমা আবার বাড়িতে এলেন। তিনি বললেন, গতকাল এত ঝড় বৃষ্টি হয়েছে আসবো ভেবেছিলাম কিন্তু দেবীমাকে আর দেখতে আসতে পারিনি। সে কারণে আজকেই এসেছি প্রণাম করতে। তখন শিবনাথ বুঝতে পারলেন মা স্বয়ং জেঠিমার রূপ ধরেই বাড়িতে এসেছিলেন। লালদুর্গা বাড়ির নতুন প্রজন্মের সদস্য তপব্রত ভট্টাচার্য জানান, পূর্বের রীতি অনুযায়ী পুজো হয়ে আসছে। তবে এই পুজোতে বিভিন্ন ধরনের মাছ ভোগ দেওয়ার রীতি আছে  যেমন বোয়াল, কাতলা, রুই, আর। অষ্টমী তিথিতে ১০৮ পদ্মফুল নিবেদন করা হয়। ২০১৩ সাল থেকে ছাগ বলি বন্ধ। তবে গুরুদেবের নির্দেশে ছাগ বলির পরিবর্তে এখন শুধুমাত্র চালকুমড়ো বলি দেওয়া হয়। -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ