দুবাই: মাঝআকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতি। কো পাইলটের আঘাতে রক্তাক্ত পাইলট স্মিত মচ্ছর পড়ে রয়েছেন মেঝেতে। দেহে একাধিক গভীর ক্ষত। টি-শার্ট দিয়ে চেপে ধরেও কিছুতেই বন্ধ করা যাচ্ছে না রক্তক্ষরণ। কমে আসছে হৃদস্পন্দন। সবমিলিয়ে ১৭৪ যাত্রীর প্রাণ বাঁচানো ভারতীয় পাইলটকে নিয়ে তখন যমে-মানুষে টানাটানি। স্মিত মচ্ছরকে বাঁচিয়ে রাখার সেই অসম লড়াইটা লড়েন দন্ত চিকিৎক মুসাইভ শোটা। সেই রুদ্ধশ্বাস ৪৫ মিনিটের বর্ণনা করতে গিয়ে এক সপ্তাহ পরেও শিউরে উঠলেন তিনি। শোটার কথায়, ‘বুঝতে পারছিলাম স্মিতের হাতে সময় কমে আসছে। তাঁকে জাগিয়ে রাখার চেষ্টা করছিলাম। এই মুহূর্তে দুবাইয়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন স্মিত। ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন তিনি।
এক সংবাদমাধ্যমকে শোটা জানিয়েছেন, ‘স্মিতের মাথা ও বাঁ হাতে গভীর জখম ছিল। প্রাথমিকভাবে টিশার্ট দিয়ে প্রেসার ব্যান্ডেজ বাঁধি। বিমানকর্মীর কাছ থেকে বরফ চাই। কিন্তু কিছুতেই রক্তক্ষরণ ঠেকানো যাচ্ছিল না। টিশার্ট সরাতেই গলগল করে বেরিয়ে আসছিল রক্ত। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে আমি স্মিতের দেহে ব্যান্ডেজ চেপে ধরে বসেছিলাম।’ তবে যন্ত্রণায় কাতরালেও স্মিতকে পেইনকিলার দিতে রাজি হননি শোটা। তার পরিবর্তে একটু একটু করে জল খাওয়ান তিনি।
শোটা আরও জানিয়েছেন, ‘আমি ওঁকে জাগিয়ে রাখার চেষ্টার করছিলাম। বলছিলাম, দয়া করে তুমি জ্ঞান হারিয়ো না। তোমাকে আমাদের প্রয়োজন। আমি ওকে ওঁর সন্তানদের বিষয়ে জিজ্ঞেস করি। বলি, ভয় পেয়ো না। তুমি পরিবারের কাছে ফিরে যাবে। আমরা খুব তাড়াতাড়ি অবতরণ করব।’ এক পর্যায়ে স্মিতের হৃদস্পন্দন খুবই কমে গিয়েছিল। পা উপরে তুলে ধরে হৃদস্পন্দন ফিরিয়ে আনেন শোটা। স্মিতের ঠোঁট নীল হয়ে গিয়েছিল। অভিজ্ঞ শোটা বুঝতে পারেন স্মিতের হাতে সময় কমে আসছে। তবে ৪৫ মিনিটের এই রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের কৃতিত্ব নিতে রাজি নন শোটা। তাঁর কথায়, ‘স্মিত আমাদের প্রাণ বাঁচিয়েছিল। আমার পরিবার ও যাত্রীদের বাঁচাতে ও জীবনের পরোয়া করেনি। সে আগে আমাদের প্রাণ বাঁচিয়েছে। আমরা পরে তার প্রাণ বাঁচিয়েছি। এটাই হয়তো কর্মফল’
ফ্লাইদুবাইয়ের জঙ্গিহানা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলেই মনে করছেন ইজরায়েলের রাষ্ট্রদূত রুভেন আজার। সম্প্রতি পাকিস্তান ও বাংলাদেশে হামাস জঙ্গিদের সক্রিয়তা বৃদ্ধির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ভারতের বুকেও জঙ্গিহানার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।