হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত: সুবর্ণভূমি। এটি এক স্থান বা সমুদ্র বন্দরের নাম। বিভিন্ন প্রাচীন বৌদ্ধ পুঁথি, জাতক কাহিনি এমনকী রামায়ণেও এ স্থানের উল্লেখ আছে। খ্রিস্ট পূর্বাব্দের প্রাচীন সুবর্ণভূমি ঠিক কোথায় ছিল বা তার পরিধি কোন কোন দ্বীপমালা নিয়ে বিস্তৃত ছিল, তা বলা আজ কঠিন কাজ। তবে প্রাচীন ভারতবাসী যে দেশকে ‘শ্যাম দেশ’ নামে ডাকত, বর্তমানে যে দেশের নাম থাইল্যান্ড। যে জায়গার মানুষজন মনে করেন থাইল্যান্ডেরই অতি প্রাচীন নাম ছিল সুবর্ণভূমি। সে কারণেই থাইল্যান্ডের বর্তমান রাজধানীতে অবস্থিত সে দেশের সর্ববৃহৎ বিমানবন্দরের নাম সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্ট। বিমান যখন ব্যাংককের সুবর্ণভূমি এয়ারপোর্টের মাটি ছুঁল তখন বিমান সেবিকা জানিয়ে দিলেন স্থানীয় সময় এখন রাত একটা। থাইল্যান্ডের সময় আমাদের দেশের চাইতে দেড় ঘণ্টা এগিয়ে। সত্যি কথা বলতে কী এয়ারপোর্টের ভিতরে প্রবেশ করার পর আমার চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল। ইমিগ্রেশনের কাজ মিটিয়ে পাসপোর্টে ছাপ্পা লাগিয়ে এগলাম। নীচে নামলাম বাইরে বেরবার জন্য। এয়ারপোর্টের বাইরে বেরিয়ে দেখি মধ্য রাত অতিক্রম করলেও থিকথিক করছে হোটেলকর্মী আর ড্রাইভারের ভিড়। একটার পর একটা ফ্লাইট এসে নামছে সুবর্ণভূমিতে। সে সব ফ্লাইটের যাত্রীদের রিসিভ করার জন্য দাঁড়িয়ে আছে তারা। পর্যটন শিল্পই এ দেশের প্রধান শিল্প। সেই ভিড়ের মধ্যে এক থাই যুবতীকে দেখলাম, আমার নাম লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। কাছে গিয়ে নাম পরিচয় বলতেই চিনতে পারল। আমার ছবি আগেই তার কাছে পাঠান ছিল। সে তার নাম জানাল কেওকিও। আমি যে দু’দিন পাটায়াতে থাকব, সেই আমার গাড়ির চালক কাম গাইড। পাটায়ার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করার আগে স্থানীয় একটা দোকান থেকে সিম কার্ড ভরে নিলাম। আলো ঝলমল ব্যাংকক শহরের গা দিয়ে এগিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়ি হাইওয়েতে উঠে পড়ল। নিঝুম রাস্তা, শুধু মাঝে মাঝে কিছু আলোকস্তম্ভ আর পাশের লেন দিয়ে বিপরীত দিক থেকে গাড়ি ছুটে আসছে। রাস্তার দু’পাশে গাঢ় অন্ধকার। ব্যাংকক থেকে পাটায়ার দূরত্ব দেড়শো কিলোমিটার মতো। কেওকিও বলল, ‘ঘণ্টাখানেক তুমি নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে নিতে পার। কাল সকালে তোমাকে বাঘ দেখাতে নিয়ে যাব।’
খেয়াল করে দেখলাম গাড়ির স্পিড মিটারের কাঁটা একশো অতিক্রম করে গিয়েছে। ঘুমিয়েই পড়েছিলাম আমি। ঘুম ভাঙল ব্যান্ডের শব্দে। কেওকিও কোনও কারণে তার জানলার কাচটা নামিয়েছিল তাই তার ফাঁক দিয়ে শব্দটা ঢুকে পড়েছে। রাস্তার দু’পাশে আলো ঝলমল করছে। বুঝলাম পাটায়া শহরে প্রবেশ করেছি। একটা উন্মুক্ত পানশালাতে ব্যান্ড বাজছে। তার ঘূর্ণায়মান আলো চারপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। গাড়ির ওপরেও এসে পড়ছে। সেই পানশালার ভিতর উদ্দাম নাচ-গানে মত্ত কিছু মানুষ। ছোট ছোট কিয়স্কে খাবার বিক্রি হচ্ছে। গাড়ির কাচ নামাতেই অ্যালকোহল-তামাক আর কিয়স্কের থেকে আসা ঝলসানো বা রোস্ট করা মাছ-মাংসের মেলানো মেশানো গন্ধ নাকে এসে লাগল। রাত শেষ হতে চলেছে। ঘড়িতে তিনটে বাজে। আর ঘণ্টা দুই পর ভোরের আলো ফুটবে। এত রাতেও পর্যটকদের ভিড় রাস্তায়। কেওকিও আমাকে বলল, ‘এ শহর রাতের শহর। সন্ধ্যা নাগাদ এ শহর জেগে ওঠে। ভোরের আলো ফোটার পর সাধারণত এ শহরের অনেক জায়গা ঘুমিয়ে পড়ে। তোমার হোটেলের কাছে সমুদ্রতটও আছে। কয়েক ঘণ্টা রেস্ট নিয়ে সানরাইজও দেখতে পার। এখানকার হোটেলের দরজা কখনও বন্ধ হয় না। দিন-রাত খোলা থাকে।’ তার কথা শুনতে শুনতেই হোটেলে পৌঁছে গেলাম। বেশ বড় পাঁচতলা একটা হোটেল। রিসেপশনের দিকে যাওয়ার আগে কেওকিও আমাকে একটা পরামর্শ দিল, ‘রুমের ফ্রিজে নানারকম খাবার-পানীয় থাকে। ওগুলো ছুলে সমস্যা হতে পারে। একে তো বাইরের থেকে তিন গুণ বেশি দাম নেবে। তাছাড়া তা না খেলে অনেক সময় তুমি কিছু খেয়েছ বা প্যাকেট খুলেছ বলে চেক আউটের সময় বাড়তি অর্থ দাবি করে। এখানকার অনেক হোটেলের এই এক সমস্যা। চেক আউটের সময় ট্যুরিস্টদের সঙ্গে প্রায়শই ঝামেলা হয় এ ব্যাপার নিয়ে। সব চাইতে ভালো হয় তুমি যদি রিসেপশনে বল যে, ফ্রিজ থেকে সব জিনিস সরিয়ে নিতে বা ফ্রিজ চাবি দিয়ে লক করে দিতে। এখানে কিছুটা অন্তর অন্তরই ডিপার্টমেন্টাল স্টোর আছে। সেখানে ন্যায্য দাম। তোমার সমস্যা হবে না।’ কেওকিওর এ পরামর্শ আমার কাজে লেগেছিল। চেকআউটের দিন রিসেপশনে বসা নতুন এক কর্মী আমার কাছ থেকে পাঁচশো থাই মুদ্রা বা ভাট দাবি করেছিল ফ্রিজ থেকে পানীয় খেয়েছি বলে। তখন আমি তাকে জানিয়েছিলাম, চেকইনের দিনই আমার কথা মতো ফ্রিজ লক করে দেওয়া হয়েছিল। যাইহোক কেওকিও জানিয়েছিল, পরের দিন সকাল নটা নাগাদ সে আসবে আমাকে বাঘের ডেরায় নিয়ে যাবে। সে জায়গা নাকি খুব রোমাঞ্চকর।
হোটেলে ঢুকে ঘণ্টাখানেক বিছানায় গড়িয়ে নিলাম। দেওয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বুঝলাম এবার ভোর হতে চলেছে। বেরিয়ে পড়লাম হোটেল থেকে। আধো অন্ধকার। রাস্তা নিঝুম। সামান্য খানিকটা হেঁটেই সমুদ্রতটে যখন পৌঁছলাম, নির্জন জনমানব শূন্য শান্ত সমুদ্রতট। এরপর সমুদ্রের বুক থেকে ধীরে ধীরে সূর্য উঠতে শুরু করল, অপূর্ব সেই দৃশ্য। তার সঙ্গে চোখে পড়তে লাগল এতক্ষণ অন্ধকারের আড়ালে থাকা ছোট-বড় প্রমোদতরীগুলো। একসময় ভোরের আলো ছড়িয়ে পড়ল সমুদ্র তটে। ঝলমল করে উঠল চারপাশ। নীল আকাশ নীল সমুদ্র। অনেক দূরে এক জায়গাতে দেখা যাচ্ছে সমুদ্রের বুক থেকে স্তম্ভর মতো জেগে থাকা পান্না সবুজ পাথর বা পাহাড়ের মতো জায়গা। সমুদ্রের দিক থেকে ভেসে আসছে মলয় বাতাস। নিজের দেশে তো বটেই, পৃথিবীর নানা দেশের সমুদ্র তটে আমি গিয়েছি। সূর্যোদয়ও দেখেছি। কিন্তু সেদিন সমুদ্র তটের ঝলমলে আলো আর বাতাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে মনে হয়েছিল দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা মনের ক্লান্তি যেন দূর হয়ে গেল। বেশ খানিকটা সময় সেই তটে দাঁড়িয়ে থাকার পর হোটেলে ফেরার পথ ধরলাম। ফেরার পথে বুঝলাম গাইডের কথাই সত্যি। সাধারণত ভোরের আলো ফোটার পরই শহর জেগে ওঠে। শুরু হয় কর্মচাঞ্চল্য। কিন্তু এ শহরের ক্ষেত্রে অন্যরকম। অধিকাংশ দোকানপাটই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রাস্তায় লোকজনও বিশেষ নেই। শুধু কিছু ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের দরজা খোলা। সারাদিন রাত খোলা থাকে। কমপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট সেরে বসেছিলাম হোটেলের লবিতে। নির্দিষ্ট সময়ই কেওকিও এল। আমি উঠে বসলাম তার গাড়িতে বাঘের ডেরা বা টাইগার পার্ক দেখতে। জায়গাটার অবস্থান শহরের কিছুটা বাইরের দিকে। যাত্রাপথে সে জানাল, এখানে টাইগার পার্ক ছাড়াও ডলফিন পার্ক আছে। তাদের নিয়ে নানা খেলা দেখানো হয় সেখানে। তবে যেখানে যাচ্ছি, সেখানে তুমি বাঘের গায়ে হাত রাখতে পারবে, তাদের সঙ্গে ছবি তুলতে পারবে। এখানে কয়েকটা বুদ্ধ মন্দিরেও আগে বাঘ ছিল। লোকে তা দেখতেও যেত। পয়সা লাগত না। কিন্তু সরকার থেকে সে সব জায়গাতে এখন বাঘ রাখা বন্ধ করে দেওয়া কিছুক্ষণের মধ্যে পৌঁছে গেলাম টাইগার পার্কে। পোর্টিকোর মতো একটা জায়গায় নামিয়ে পার্কিং লটে গাড়ি রেখে আমাকে নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করল কেওকিও। হোটেলের রিসেপশনের মতো একটা ঘর। তার মধ্যবর্তী স্থানে একটা রাউন্ড টেবিলের মাঝখানে বসে আছে ইউনিফর্ম পরা কয়েকজন তরুণী-পার্ক কর্মচারী। দেওয়ালের গায়ে ঝুলছে অসংখ্য বাঘের ছবি ও বাঘকে আলিঙ্গন করা নানা দেশের মানুষের ছবিও। টিকিট আমার অনলাইন আগেই কাটা ছিল। রিসেপশনে গিয়ে দাঁড়াতেই তারা আমাকে একটা ফর্ম হাতে ধরিয়ে দিল। অনেক কিছু লেখা আছে তাতে। একঝলক তা পড়ে যা বুঝলাম তাতে লেখা আছে বাঘ হিংস্র ও আক্রমণাত্মক প্রাণী। কাজেই তাদের সংস্পর্শে গেলে দুর্ঘটনা বা জীবনহানির আশঙ্কা থাকেই। কাজেই আমাকে জানানো হচ্ছে যে, আমি নিজের ইচ্ছাতেই তাদের কাছে যাচ্ছি। দুর্ঘটনা যদি ঘটে তার জন্য পার্ক কর্তৃপক্ষ কোনওরকম দায়িত্ব নেবে না। সই করে দিলাম কাগজটাতে। যে জায়গা থেকে একটা খাঁচার মতো টানেল বেরিয়েছে বাঘের সঙ্গে মোলাকাতের জন্য। টানেলের দু’পাশে জাল লাগানো। তারপর একটা দরজা দিয়ে আরও ভিতরে প্রবেশ করতে হয়। টানেলের ভিতর চেয়ারে বসে প্রতীক্ষা করতে হয় ডাক আসার জন্য। আরও কিছু ট্যুরিস্ট সেখানে বসে আছে। কেউ বা জালের বাইরে দেখছে। সেই বারান্দাতে গিয়ে ঢুকতেই দেখতে পেলাম একপাশে একটা সুইমিং পুল। যেখানে একটা বড় বাঘ জলে নেমে সাঁতার কাটছে। সেই বারান্দার অন্যপাশে প্রাচীর ঘেরা ছোট একটা ফাঁকা জমিতে একটা বিরাট বাঘ গাছের ছায়ায় টান টান হয়ে দিবা নিদ্রা দিচ্ছে। আমার ডাক আসল কিছুক্ষণের মধ্যেই। খাঁকি জামা পরা হাতে লাঠি বুকে ওয়াকিটকি ঝোলানো একজন কিপার আমাকে সেই টানেলের বাইরে নিয়ে বেরল। টানেলের বাইরে একটা উন্মুক্ত জায়গা। টাইলস বসানো রাস্তা চলে গিয়েছে এদিক ওদিকে। দু’পাশে সার সার গাছ। ঠিক যেন একটা পার্ক। খানিক এগিয়েই চোখে পড়ল সার সার ঘরের মতো খাঁচা। তার ভিতর নানা আকৃতির বাঘ। কেউ ঘুমাচ্ছে, কেউ বসে আছে, কেউ বা গম্ভীরভাবে পায়চারি করছে। বাঘের গায়ের বোঁটকা গন্ধ চারপাশে। সেই খাঁচাগুলোর মধ্যে দিয়ে আমাকে নিয়ে তারা প্রবেশ করল একটা ফাঁকা জায়গাতে। এখানে ওখানে বেশ কয়েকটা ছোট-বড় বাঘ শুয়ে বসে আছে। কিছু ট্যুরিস্টকে বাঘ দেখাচ্ছে, তাদের সঙ্গে ছবি তোলাচ্ছে। খেয়াল করলাম তাদের সঙ্গে অস্ত্র না থাকলেও একটা করে লাঠি আছে। আর তার মাথায় বাঁধা সবুজ ঝোপের মতো পাতা। আমার কিপার আমাকে নিয়ে উপস্থিত হল এক জায়গায়, যেখানে একটা টেবিলের উপর বুকে ভর দিয়ে শুয়ে চারপাশে তাকাচ্ছে বিশাল একটা বাঘ! আমাকে কিপার নিয়ে গিয়ে দাঁড় করাল বাঘটার ঠিক পিছনে। কেওকিও তার মোবাইল ফোনে সে দৃশ্যের ছবি তুলল। তারপর ইশারা করল বাঘটার পিঠে হাত রাখার জন্য। খানিকটা ইতস্তত করে হাত রাখলাম তার পিঠে। রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু তার পিঠে হাত রাখতেই সে ফিরে তাকাল আমার দিকে। ভয় পেয়ে আমি হাত সরিয়ে নিতে যাচ্ছিলাম। বাঘটার চোখে স্পষ্ট বিরক্তির চাউনি। হয়তো বা উঠেও দাঁড়াতে যাচ্ছিল সে। কিন্তু তার সামনে যে কিপার দাঁড়িয়েছিল সে তার লাঠির অগ্রভাগটা বিশাল বাঘটার মুখের সামনে ধরতেই সে শান্ত হয়ে গেল। নানা অ্যাঙ্গেল থেকে কেওকিও আমার ছবি তুলতে লাগল। তারপর আমাকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হল সেই বিশাল বাঘটার কাছ থেকে। আরও কয়েকজন ট্যুরিস্ট এসে দাঁড়িয়েছে সে জায়গাতে বাঘের সঙ্গে ছবি তোলার জন্য। আমাদের সঙ্গে থাকা কিপার এরপর অন্যত্র চলে গেল। কেওকিও আমাকে নিয়ে ঘুরতে শুরু করল যে জায়গায় আরও বেশকিছু বাঘ শুয়ে বসে আছে সে জায়গাতে। দিনের উজ্জ্বল আলোতে ঝলমল করছে তাদের ডোরাকাটা সোনালি শরীর। ট্যুরিস্টরা ঘুরে ঘুরে তাদের সঙ্গে ছবি তুলছে। আমিও তুললাম। সে জায়গা থেকে বেরবার আগে দেখলাম একটা বাঘ এক জায়গায় শুয়ে আছে। বাঘের গায়ে হাত দিয়ে এখন আমার সাহস বেড়ে গিয়েছে। ভাবলাম শেষ একবার বাঘের গায়ে হাত দিয়ে ছবি তুলি? এ কথা ভেবে এগছিলাম তার দিকে। হঠাৎই দু’পাশ থেকে দু’জন কিপার ছুটে এল। একজন অন্যজনকে ভর্ৎসনার স্বরে কী যেন বলল। যাকে বলা হল সে এরপর একটা মোটা চেন এনে বাঘের গলায় পরিয়ে তাকে টেনে নিয়ে গেল অন্যদিকে। কেওকিও বলল, ‘ওর গায়ে তুমি হাত দিলে বিপদ হতে পারত। ওকে সদ্য আনা হয়েছে পার্কে। ভুলবশত এখানে ছেড়ে রাখা হয়েছিল।’
এক অদ্ভুত সফর শেষ করে গাড়িতে উঠে রওনা হলাম ফেরার জন্য। এখনও বাঘের গায়ের গন্ধ আমার নাকে। দেখলাম হাতের ঘামেও আটকে আছে কয়েকটা সোনালি লোম। বাঘের লোম! হঠাৎ একটা প্রশ্ন উদয় হল আমার মাথায়। আমি গাইডকে জিজ্ঞেস করলাম, ‘বাঘগুলোকে কি কোনও মাদক সেবন করানো হয়? নইলে এত মানুষের মধ্যেও ওরা শান্ত থাকে কীভাবে? কিপারদের হাতের লাঠিতে যে পাতা বাঁধা আছে তার মধ্যে কি কোনও বিশেষ ব্যাপার আছে?’
আমি জানি না আমার প্রশ্নের উত্তর সত্যি কেওকিওর জানা ছিল কি না? সে জবাব দিল, ‘পার্কের লোকে বলে এটা ওদের প্রতি ভালোবাসা আর ট্রেনিং দেওয়ার ফল। তাই মানুষদের ওরা বন্ধু ভাবে।’
এ কথা বলার পর একটু থেমে সে বলল, ‘এ জায়গার অনেক জিনিসই পরে তোমার এমনই আশ্চর্য-অদ্ভুত লাগতে পারে। তবে মনে রাখবে আমাদের প্রধান শিল্প হল পর্যটন।