নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বনেদি বাড়ির পুজোগুলির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা গল্পকথা, নানা অবাক করা রীতিনীতি আর আচার অনুষ্ঠান। রানাঘাটের দে চৌধুরী বাড়িও তার ব্যতিক্রম নয়। এই পরিবারের দুর্গাপুজোর সূচনা হয় মহালয়ার পরদিন অর্থাৎ প্রতিপদে। সেদিন থেকেই শুরু হয় হোম। প্রতিপদে জ্বলে ওঠা হোমের অগ্নিশিখা নেভে না নবমীর পুজো শেষ না হওয়া পর্যন্ত। রানাঘাটের প্রাচীন নাম ছিল ব্রহ্মডাঙা। ইতিহাস সমৃদ্ধ এই শহরে রয়েছে একাধিক বনেদি বাড়ি ও ঠাকুর দালান। সুবিশাল সিংহদুয়ার পেরতেই চোখে পড়ে প্রাচীন অথচ সযত্নে রক্ষিত দে চৌধুরী বাড়ি। প্রায় ২৮০ বছর আগে, অর্থাৎ ১৭৪৪ খ্রিস্টাব্দে, জমিদার রামসুখ দে চৌধুরী এই বাড়িতে দুর্গোৎসবের সূচনা করেছিলেন। সেই থেকে একচালা প্রতিমা আর নিষ্ঠা সহকারে পুজো হয়ে চলেছে ঠাকুর দালানে। ষষ্ঠী থেকে যেখানে সর্বত্র দেবীপুজো শুরু হয়, সেখানে এই বাড়িতে ঘট স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিপদেই সূচনা হয় দুর্গোৎসবের। সেই ঘটকে কেন্দ্র করেই জ্বলে ওঠে হোমের আগুন। প্রতিদিন দিবারাত্রি সেই অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত থাকে। ঠাকুর দালানের প্রদীপও জ্বলে ওই হোমের আগুন থেকে। নবমীতে হোম সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে নিভে যায় প্রদীপও।



