Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রানঘাটের দে চৌধুরী বাড়িতে প্রতিপদে জ্বলে ওঠা হোমের আগুন নেভেই না নবমী পর্যন্ত

বনেদি বাড়ির পুজোগুলির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা গল্পকথা, নানা অবাক করা রীতিনীতি আর আচার অনুষ্ঠান। রানাঘাটের দে চৌধুরী বাড়িও তার ব্যতিক্রম নয়।

রানঘাটের দে চৌধুরী বাড়িতে প্রতিপদে জ্বলে ওঠা হোমের আগুন নেভেই না নবমী পর্যন্ত
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বনেদি বাড়ির পুজোগুলির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নানা গল্পকথা, নানা অবাক করা রীতিনীতি আর আচার অনুষ্ঠান। রানাঘাটের দে চৌধুরী বাড়িও তার ব্যতিক্রম নয়। এই পরিবারের দুর্গাপুজোর সূচনা হয় মহালয়ার পরদিন অর্থাৎ প্রতিপদে। সেদিন থেকেই শুরু হয় হোম। প্রতিপদে জ্বলে ওঠা হোমের অগ্নিশিখা নেভে না নবমীর পুজো শেষ না হওয়া পর্যন্ত। রানাঘাটের প্রাচীন নাম ছিল ব্রহ্মডাঙা। ইতিহাস সমৃদ্ধ এই শহরে রয়েছে একাধিক বনেদি বাড়ি ও ঠাকুর দালান। সুবিশাল সিংহদুয়ার পেরতেই চোখে পড়ে প্রাচীন অথচ সযত্নে রক্ষিত দে চৌধুরী বাড়ি। প্রায় ২৮০ বছর আগে, অর্থাৎ ১৭৪৪ খ্রিস্টাব্দে, জমিদার রামসুখ দে চৌধুরী এই বাড়িতে দুর্গোৎসবের সূচনা করেছিলেন। সেই থেকে একচালা প্রতিমা আর নিষ্ঠা সহকারে পুজো হয়ে চলেছে ঠাকুর দালানে। ষষ্ঠী থেকে যেখানে সর্বত্র দেবীপুজো শুরু হয়, সেখানে এই বাড়িতে ঘট স্থাপনের মাধ্যমে প্রতিপদেই সূচনা হয় দুর্গোৎসবের। সেই ঘটকে কেন্দ্র করেই জ্বলে ওঠে হোমের আগুন। প্রতিদিন দিবারাত্রি সেই অগ্নিশিখা প্রজ্বলিত থাকে। ঠাকুর দালানের প্রদীপও জ্বলে ওই হোমের আগুন থেকে। নবমীতে হোম সমাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে নিভে যায় প্রদীপও।

Advertisement

এ বাড়ির পুজো বৈষ্ণব মতে হওয়ায় বলি প্রথা কোনওদিনই ছিল না। দেবীকে দেওয়া হয় নিরামিষ ভোগ। তবে রান্না করা ভোগ নয়, চাল, ডাল, সবজি, মশলা, তেল অপরিষ্কৃত অবস্থায়ই দেবীকে নিবেদন করা হয়। পরিবারের বর্তমান সদস্য অমরনাথ দে চৌধুরীর কথায়, পুরাণ মতে দেবীর জন্য রান্না করতে পারেন কেবল ব্রাহ্মণ। তাই আমরা রান্না না করে কাঁচা সামগ্রীই উৎসর্গ করি। এই পুজো নিয়ে রয়েছে নানা কাহিনি। পুজোর প্রথম পুরোহিত ছিলেন পঞ্চানন ঘোষাল। ঘোষাল মশাই যতটা মাতৃভক্ত ছিলেন ঠিক ততটাই জ্ঞানী পণ্ডিত। পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠরা বলেন, প্রথম পুরোহিত পঞ্চানন ঘোষাল স্বপ্নাদেশে দেবী দুর্গার দর্শন পান। দেবী তাঁকে আশীর্বাদ দিয়ে বলেছিলেন, যতদিন দে চৌধুরী বাড়ির একটি ইটও টিকে থাকবে, ততদিন আমি আসব এখানে দু’টি বেলপাতা আর এক আঁচলা গঙ্গাজলের লোভে। সেই থেকে আজও বিশ্বাস করা হয়, বোধনের সঙ্গে সঙ্গেই দেবী নিজে প্রবেশ করেন এই বাড়ির অন্দরমহলে। কারও কারও মতে, খিলানের পাশে দাঁড়ালে এখনও শোনা যায় তাঁর পদশব্দ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ