সংবাদদাতা, হরিশ্চন্দ্রপুর: পারিবারিক বিবাদের পর সালিশি সভায় হাজির না হওয়ায় বয়স্ক দম্পতি ও তাঁদের দুই ছেলেকে একঘরে করার অভিযোগ উঠল মাতব্বরদের বিরুদ্ধে। মাইকিং করে সমাজ থেকে তাঁদের বয়কট করার নিদান দেওয়া হয়েছে বলে দাবি পরিবারটির। মঙ্গলবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে হরিশ্চন্দ্রপুরের সিমলা গ্রামে। পরে জোড়া অভিযোগ দায়ের হয়েছে হরিশ্চন্দ্রপুর থানায়। মারধর করা হলে বড় ছেলে দিনারুল হক চাঁচল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি। গ্রামের কেউ যোগাযোগ রাখছেন না বলে চরম সমস্যায় পরিবারটি।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মেজো ছেলে দানেস আলির শ্বশুরবাড়ির এক আত্মীয়কে নিয়ে বাবা সামসুল হকের সঙ্গে বিবাদ হয়। দানেসকে মারধর করার অভিযোগ ওঠে বাবা, দাদা দিনারুল হক ও ভাই একরামুল হকের বিরুদ্ধে। ওই রাতে সালিশি সভা ডাকেন দানেস। উপস্থিত ছিলেন গ্রামের মোড়ল, স্থানীয় ক্লাবের সদস্য ও তাঁর শ্বশুর বাড়ির লোকজন। সেই সভায় ডাকা হয় সামসুলের পরিবারকেও। কিন্তু তাঁরা না যাওয়ায় একঘরে করার নিদান দেওয়া হয়।
আহত দিনারুল বলেন, পারিবারিক বিবাদ নিজেরাই মিটিয়ে নিতে চেয়েছিলাম। সেজন্যই সালিশি সভায় যাইনি। মেজো ভাই, তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন ও গ্রামের একাংশ লোক বাড়িতে ঢুকে মারধর করেছে আমাদের। একঘরে করে দেওয়ায় বাবা আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। আমরা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
অভিযুক্ত দানেস বলেন, সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাবা ও দু’ভাই আমাকে মারধর করেন। থানায় না গিয়ে সালিশি সভায় ডাকা হয়েছিল। মোড়ল, মাতব্বররা তাঁদের একঘরে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আমিও হরিশ্চন্দ্রপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
সেদিনের সালিশি সভায় থাকা মোড়ল বাবুল আলির মন্তব্য, ওই পরিবার গ্রামের মোড়ল, মাতব্বরদের অসম্মান করেছে। সালিশি সভায় উপস্থিত হয়নি কেউ। তাই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। হরিশ্চন্দ্রপুর থানার আইসি মনোজিৎ সরকার বলেন, মাইকিং করে একঘরে করার কথা বলা হলেও পুলিসের কাছে কোনও খবর ছিল না। অভিযুক্তদের নামে মামলা রুজু হয়েছে। পুলিস ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। সালিশি সভায় না যাওয়ায় এই দম্পতির পরিবারকে একঘরে করার অভিযোগ উঠেছে।-নিজস্ব চিত্র