Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

২০০২ সালের তালিকা-বিভ্রাট দু’শো ভোটারের এপিক একই! শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে তীব্র আলোড়ন

শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে রঘুনাথপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তরঙ্গাখালি গ্রামে ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে অন্তত ২০০ জন ভোটারের এপিক নম্বর একই।

২০০২ সালের তালিকা-বিভ্রাট দু’শো ভোটারের এপিক একই! শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে তীব্র আলোড়ন
  • ১৮ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তরঙ্গাখালি (শহিদ মাতঙ্গিনী): শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে রঘুনাথপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তরঙ্গাখালি গ্রামে ২০০২ সালের ভোটার লিস্টে অন্তত ২০০ জন ভোটারের এপিক নম্বর একই। ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করার সময়েই ওই ঘটনা সামনে আসে। তরঙ্গাখালি গ্রামের দক্ষিণ কুমোরপাড়ায় ওই ঘটনা প্রথম নজরে আসে। তারপর ওই গ্রাম পঞ্চায়েতের মহিষদা, ধূর্পা এবং রঘুনাথপুর গ্রামেও একই ঘটনা নজরে এসেছে। ইনিউমারেশন ফর্মে মাঝ বরাবর সর্বশেষ এসআইআরে ভোটারদের বিবরণ চাওয়া হয়েছে। সেখানেই পাইকারি হারে ভোটাররা এপিক নম্বর WB/30/202/180 লিখছেন। কারণ, নির্বাচন কমিশন থেকে আপলোড করা ২০০২ এসআইআর পরবর্তী লিস্টে ওই এপিক নম্বরই উল্লেখ রয়েছে।

Advertisement

এ নিয়ে পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক ইউনিস ঋষিন ইসমাইল বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিচ্ছি। তবে, এতে কোনও সমস্যা হবে না। কারণ, ইনিউমারেশন ফর্মে ভোটারদের নিজ নিজ এপিক নম্বর উল্লেখ করার আলাদা জায়গা রয়েছে। সুতরাং এটা কোনও সমস্যা হবে না। ডেটা এন্ট্রি কিংবা সিস্টেমের ত্রুটির কারণে এমনটা হতে পারে। তরঙ্গাখালি গ্রামের ৬১ নম্বর বুথের ভোটার বিজয় পাল ও তাঁর স্ত্রী সন্ধ্যা পালের নাম ২০০২ সালের এসআইআরের পরও ছিল। কমিশনের পক্ষ থেকে যে লিস্ট প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দু’জনের এপিক নম্বর একই। অথচ, বাড়িতে থাকা এপিক নম্বরের সঙ্গে ২০০২ সালের তালিকায় থাকা ওই এপিক নম্বরের কোনও মিল নেই। ওই দম্পতি ইনিউমারেশন ফর্ম পূরণ করেছেন। স্বামী-স্ত্রীর একই এপিক নম্বরে তাঁরা বিভ্রান্ত। সোমবার বাড়িতে বসে বিজয়বাবু বলেন, এমনটা কীভাবে হল বুঝতে পারছি না। ২০০২ লিস্টে গ্রামের শ’য়ে শ’য়ে মানুষের এপিক নম্বর একই লেখা আছে। প্রত্যেকে ইনিউমারেশন ফর্মেও সেটাই লিখছেন।
একইভাবে গুরুপদ পাল ও তাঁর স্ত্রী অম্বিকা পাল, যুগল পাল ও তাঁর স্ত্রী কানন পাল, ঊষারানি দাস, মদন দাস, পদ্মা দাস সহ বহু ভোটারের ২০০২ সালের প্রকাশিত ভোটার লিস্টে এপিক নম্বর এক। কীভাবে দু’শোর বেশি ভোটারের এপিক নম্বর এক হল, সেই প্রশ্ন অনেকেরই। শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকে ডিমারি বাজারে এসআইআর সহায়তা ক্যাম্প খুলেছে যুব তৃণমূল। সেখানে তৃণমূল নেতা জয়দেব বর্মণ, যুব নেতা সুমিত সামন্ত প্রমুখ ফর্ম পূরণ করে দেওয়ার সময়ে ওই ঘটনা লক্ষ্য করেন। তারপর খোঁজখবর নিয়ে দেখা যায়, রঘুনাথপুর-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের তিন-চারটি গ্রামে এই ঘটনা ঘটেছে। ২০০২ সালের তালিকায় এপিক নম্বর পাইকারি হারে একই থাকায় কোনও সমস্যা হবে কি না, সেই প্রশ্ন ভুক্তভোগী সবারই।
তরঙ্গাখালি দক্ষিণপাড়ার রীনা করণ, লক্ষ্মীকান্ত করণ, প্রতিমা করণ, মধুসূদন  করণ সহ বহু ভোটারের ২০০২ সালের এপিক নম্বর এক। তাঁরা বলেন, এটা কীভাবে হল জানি না। কিন্তু, আমরা পুরনো ভোটার। এই ত্রুটির জন্য নোটিশ এলে তার দায় কে নেবে? যুব তৃণমূলের ব্লক সভাপতি সুমিত সামন্ত বলেন, নির্বাচন কমিশনের এরকম ভুল কীভাবে হয়? একটা গ্রামের ২০০ ভোটারের এপিক নম্বর এক হওয়াটা আশ্চর্যজনক। আমরা এনিয়ে জেলা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এজন্য ভোটারদের যাতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়, সেটা প্রশাসনের নিশ্চিত করা উচিত।  শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লকের তরঙ্গাখালি গ্রামে উদ্বেগে দম্পতি।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ