নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্রাম: নাম লজ্জাবতী বানর। কিন্তু, তার শরীরেই রয়েছে মারণ বিষ। অন্য কোনো জন্তু আক্রমণ করলেই কনুইয়ের গ্ৰন্থি থেকে নিঃসৃত বিষ জিভ দিয়ে চেটে কামড় দেয়। প্রতিপক্ষের যন্ত্রণাদায়ক মৃত্যু ঘটে। ঝাড়গ্রাম বনদপ্তর সূত্রের খবর বেশ কয়েকটি লজ্জাবতী বানর উদ্ধার করে ঝাড়গ্রামের জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্কে নিয়ে আসা হয়েছে। পার্কের এনক্লোজারের কিছুদিনের মধ্যে বিরল এই লজ্জাবতী বানর দেখতে পাবেন দর্শকরা। রাজ্যের অন্যতম প্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র হল জঙ্গলমহল জুলজিক্যাল পার্ক। জঙ্গলের মধ্যে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এই পার্ক গড়ে উঠেছে। বিরল প্রজাতির নানা পশু ও পাখি রয়েছে। সেই তালিকার এবার লজ্জাবতী বানর যুক্ত হল। বনদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, লজ্জাবতী বানর প্রাইমেট বর্গের অন্তর্গত। নামের সঙ্গে বানর শব্দ থাকলেও এরা লেমুর, বুশবেরি প্রজাতির। এরা অধিকাংশ সময় গাছের উপরেই থাকে। মাটিতে খুব কম নামে। বৃক্ষের জঙ্গলই এদের পছন্দের এলাকা। লজ্জাবতী বানরের দেহ ধূসর, বাদামি ও হলুদাভ লোমে ঢাকা থাকে। মুখমণ্ডল গোলাকার, কান ছোট। লেজ প্রায় নেই বললেই চলে। গাছের ডালে এরা খুব ধীরে, সন্তর্পনে চলাফেরা করে। হাতে ও পায়ে থাকে ‘রেটি মেরিবাইল নামের নামক বিশেষ এক রক্তনালি। গাছের ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঝুলে থাকলেও কোনো ক্লান্তি বা পেশিতে ব্যথা হয় না। লজ্জাবতী প্রজাতির বানর শরীরে বিষ উৎপন্ন করতে সক্ষম। কনুইয়ের ভিতরের দিকে ব্রাকিয়াল গ্ৰন্থি থাকে। সেখান থেকে তৈলাক্ত গন্ধযুক্ত বিষাক্ত তরল পদার্থ বের হয়। তারা বিপদ বুঝলেই কনুই থেকে বের হওয়া তরল চেটে মুখের লালার সঙ্গে মিশিয়ে নেয়। এরপর প্রতিপক্ষকে কামড় দেয়। তাতে প্রতিপক্ষের শরীরে ওই বিষ ঢুকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। মা লজ্জাবতী বানর খাবারের সন্ধানে যাওয়ার সময় শাবকের গায়ে কনুই থেকে নিঃসৃত তরল মাখিয়ে দেয়। উত্তর পূর্ব ভারতের ভূটান, মায়ানমার ও পূর্ব এশিয়ার জঙ্গলে এদের পাওয়া যায়। বর্তমানে এই লজ্জাবতী বানর বিলুপ্তির পথে। চোরা শিকারিরা এদের ধরার পরই দাঁতগুলি উপড়ে ফেলে। যাতে কামড়াতে না পারে। উদ্ধার হওয়া লজ্জাবতী বানরগুলিকে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে জুলজিক্যাল পার্কের সুরক্ষিত জায়গায় রাখা হয়েছে। পশু চিকিৎসকরা নিয়মিত দেখভাল করছেন। তবে এই বানরগুলি কোথা থেকে উদ্ধার হয়েছে বন দপ্তরের আধিকারিকরা তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের প্রাক্তন আধিকারিক সমীর মজুমদার বলেন, জঙ্গলমহলের জঙ্গলগুলিতে একসময় অনেক লজ্জাবতী বানরের দেখা পাওয়া যেত। জঙ্গল কমতে থাকায় এদের সংখ্যা কমেছে। তবে ঘন জঙ্গলে গেলে এখনো এদের দেখা পাওয়া যেতে পারে।



