Bartaman Logo
৩০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাঁতনে বিধায়কের কার্যালয়ে ‘চুপিসারে’ সাংসদ জুন, ক্ষোভে ফুঁসছেন পদ্ম কর্মীরা

পালাবদলের পর তৃণমূলে ছেড়ে এনসিপিআই (এনডিএ)-তে যোগদানের পর এই প্রথম দাঁতন এলাকায় মেদিনীপুর লোকসভার সাংসদ জুন মালিয়া দেখা দিলেন।

দাঁতনে বিধায়কের কার্যালয়ে ‘চুপিসারে’ সাংসদ জুন, ক্ষোভে ফুঁসছেন পদ্ম কর্মীরা
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বেলদা: পালাবদলের পর তৃণমূলে ছেড়ে এনসিপিআই (এনডিএ)-তে যোগদানের পর এই প্রথম দাঁতন এলাকায় মেদিনীপুর লোকসভার সাংসদ জুন মালিয়া দেখা দিলেন। শনিবার মোহনপুরে বিজেপি বিধায়ক অজিত কুমার জানার বিধানসভা কার্যালয়ে একপ্রকার চুপিসারেই হাজির হন সাংসদ। সেখানে বেশ কয়েক ঘণ্টা কাটানোর পাশাপাশি বন্যাদুর্গত মানুষকে ত্রিপল তুলে দেন। কিন্তু সাংসদের এই ঝটিকা ও গোপন সফর ঘিরে রীতিমতো ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা। অতীতে যে সাংসদ বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র বিষোদ্গার করেছিলেন, তাঁকে খোদ বিধায়কের হাতজোড় করে স্বাগত জানানো কিছুতেই মানতে পারছেন না নিচুতলার কর্মী-সমর্থকরা।

Advertisement

লোকসভা ও গত বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলে থাকাকালীন এই জুন মালিয়ার মুখেই শোনা গিয়েছিল বিজেপির নামে কড়া সমালোচনা। বিজেপি কর্মীদের ডিজে বাজানো নিয়ে হুঁশিয়ারি থেকে শুরু করে খোদ প্রধানমন্ত্রীকে ‘ধোঁকাবাজ’ বলে গান গাওয়ার ঘটনা এখনও ভোলেননি বিজেপির নিচুতলার কর্মীরা। সেই সাংসদই শনিবার মোহনপুরে এলে তাঁকে স্বাগত জানান পদ্ম বিধায়ক। এলাকার উন্নয়নের জন্য সাংসদ তহবিলের বেশ কয়েকটি প্রস্তাবপত্রও সাংসদের হাতে তুলে দেন বিধায়ক। আর এতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সাংসদের এই সফরের বিন্দুবিসর্গও তাঁদের জানানো হয়নি।
ক্ষুব্ধ এক বিজেপি কর্মীর কথায়, যেখানে দাঁড়িয়ে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে গানের মাধ্যমে গালিগালাজ করেছিলেন জুন মালিয়া, সেখানে আমাদের বিধায়ক কী করে তাঁর সঙ্গে কার্যালয়ে বসে বৈঠক করলেন? যাঁর বিরুদ্ধে লড়াই করে আমরা রাজনীতি করছি, তিনি বিধায়কের সঙ্গে কর্মসূচি করলে নিচুতলার কর্মীদের আমরা কী জবাব দেব? 
বিজেপির জেলা মুখপাত্র অরূপ দাস বলেন, সাংসদ হিসেবে আমরা তাঁকে মেনে নিলেও, রাজনীতিগতভাবে নিচুতলার কর্মীরা তৃণমূলের অত্যাচার কোনোদিন ভোলেনি, ভুলবেও না। রাজনৈতিকভাবে আমরা বিজেপির পক্ষ থেকে ওঁকে কখনোই মানতে পারব না। বিতর্ক প্রসঙ্গে সাংসদ জুন মালিয়া বলছেন, উন্নয়নের কাজে আমার এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেয়েছি। বিতরণের জন্য ৫ হাজার ত্রিপল পেয়েছিলাম, তার মধ্যে দাঁতন বিধানসভার জন্য ১ হাজার দিয়ে গেলাম। কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য করব না। অন্যদিকে বিধায়ক অজিত কুমার জানার যুক্তি, উনি এখন আর বিরোধী শিবিরে নেই, এনডিএ-তে যোগ দিয়েছেন। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে সাংসদ তহবিলের অর্থ বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছেন বলেই আমরা তাঁকে স্বাগত জানিয়েছি। ভোটের সময় রাজনৈতিকভাবে বিরোধিতা করলেও, এখন তিনি আমাদের পাশে দাঁড়াতে চাইছেন। • নিজস্ব

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ