সংবাদদাতা, পুরুলিয়া: পুরুলিয়ার সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাস থেকে ব্লাড ব্যাংক হাতুয়াড়ায় স্থানান্তর করা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে। থ্যালাসেমিয়া ইউনিট ও ব্লাড ব্যাংক অন্যত্র সরানো হলে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্তদের চরম ভোগান্তি হবে বলে রোগীর আত্মীয়দের অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে পুরুলিয়া সদর হাসপাতাল বাঁচাও কমিটি সরব হয়েছে। তারা এদিন এমএসভিপির কাছে ডেপুটেশন দেয়। উপস্থিত ছিলেন ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা তথা চিকিৎসক অসীম সিনহা, এসইউসিআই নেতা রঙ্গলাল কুমার, আরএসপি নেতা অত্রি চৌধুরী প্রমুখ। চিকিৎসক অসীম সিনহা বলেন, ব্লাড ব্যাংক সদর ক্যাম্পাসে ছিল। শুক্রবার থেকে তা হাতুয়াড়ায় স্থানান্তরিত হয়েছে। এটা প্রত্যাহার করতে হবে। কারণ রোগী ভরতি সদর ক্যাম্পাসে হচ্ছে। থ্যালাসেমিয়া ইউনিটও সদরে রয়েছে। মেডিসিন-সার্জারি-গাইনির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগেও রক্ত দরকার হয়। সদর ক্যাম্পাসেই রয়েছে আইসিইউ রয়েছে। এগুলিকে বাদ দিয়ে ব্লাড ব্যাংক চলে গেল হাতুয়াড়ায়। কী করে একজন রোগীর বাড়ির লোক ওখান থেকে রক্ত নিয়ে আসবেন? রোগী ও তাঁদের আত্মীয়দের হয়রানি কয়েকগুণ বেড়ে যাবে। তাই ওই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়েছে।
অসীমবাবু আরও বলেন, সরকার একটি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল পুরুলিয়ায় হওয়ার কথা ঘোষণা করেছে। আমরা চাই, হাতুয়াড়াতেই পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ হোক এবং সদর ক্যাম্পাস সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল হিসাবে চালু করা হোক। সেই সঙ্গে মানবাজার ও ঝালদায় মহকুমা হাসপাতাল তৈরির দাবি করা হয়েছে। জেলার চিকিৎসা ব্যবস্থা ঠিক রাখতে শুধু মেডিকেল কলেজ দিয়ে হবে না। নীচুস্তরগুলিতেও পরিষেবা ঠিক করতে হবে। পুরুলিয়া সদর হাসপাতাল বাঁচাও নাগরিক মঞ্চের তরফে ডিএইচএস এবং ডিএমই-এর কাছে আমাদের দাবি এমএসভিপির মাধ্যমে জানানো হয়েছে।
রঙ্গলালকুমার বলেন, মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা না হলে অনির্দিষ্টকাল অবরোধ হবে। রাত ১২টা ১টার সময় রক্তের প্রয়োজন হলে গ্রামের কোনো মহিলার বা পুরুষের কি হাতুয়াড়ায় গিয়ে রক্ত নিয়ে আসা সম্ভব হবে। চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর আগে আন্দোলন করে মৃত্যু হওয়া ভাল।
থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগীর আত্মীয়রাও বিষয়টি নিয়ে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। শহরের বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাও বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছে। তারা মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এবিষয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহাকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, পলিসিগত কোনো বিষয় নিয়ে মন্তব্য করব না।