Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মহানন্দার জলে প্লাবিত পোড়াঝারে ‘ওয়াশ আউট’ হওয়া বাঁধ প্রায় তৈরি

মাত্র সাত দিন। তাতেই শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন পোড়াঝারে ‘ওয়াশ আউট’ হয়ে যাওয়া মহানন্দা নদীর বাঁধ মেরামতির কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে সেচদপ্তর।

মহানন্দার জলে প্লাবিত পোড়াঝারে ‘ওয়াশ আউট’ হওয়া বাঁধ প্রায় তৈরি
  • ১৪ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: মাত্র সাত দিন। তাতেই শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন পোড়াঝারে ‘ওয়াশ আউট’ হয়ে যাওয়া মহানন্দা নদীর বাঁধ মেরামতির কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছে সেচদপ্তর। একই সঙ্গে তারা বালাসন, সিঙ্গিঝোরা ও মেচি নদীর ভাঙন রোধে ঝাঁপিয়েছে। এজন্য বিপজ্জনক পাঁচটি এলাকা চিহ্নিত করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে বোল্ডার ও তারজালি দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে নদীর পাড়। এজন্য জরুরি ভিত্তিতে এক কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করেছে রাজ্য সরকার। তবে মহকুমায় বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন নদীর আরও ১০টি পাড় বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।

Advertisement

সেচদপ্তরের শিলিগুড়ি ডিভিশনের এক ইঞ্জিনিয়ার বলেন, সাত দিন আগে বিধ্বংসী বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নদীবাঁধ ও পাড়গুলির মধ্যে ছ’টি এলাকা ছিল সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক। যারমধ্যে পোড়াঝারও রয়েছে। রাজ্য সরকারের নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে নদীবাঁধ ও পাড় মেরামোতির কাজে হাত দেওয়া হয়েছে। বাকি এলাকাগুলির বিষয়ে শীঘ্রই রাজ্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
৪ অক্টোবর রাতে মেঘ ভাঙা বৃষ্টির জেরে শিলিগুড়িতে রূদ্র রূপ ধারণ করেছিল মহানন্দা নদী। নদীর স্রোতের ধাক্কায় পোড়াঝারে ওয়াসআউট হয়ে যায় বাঁধের ৩০ মিটার অংশ। ফলে ৫ অক্টোবর ভোররাতে প্লাবিত হয় পোড়াঝার গ্রাম। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ৬ অক্টোবর সেখানে বাঁধ মেরামতির কাজে হাত দেয় সেচদপ্তর। বালির বস্তা, নাইলনের দড়ি দিয়ে সেই কাজ চলছে। এজন্য সেখানে নামানো হয়েছে আর্থমুভার। মাত্র সাত দিনের মধ্যে তারা বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ প্রায় মেরামত করে ফেলেছে।
শিলিগুড়ি শহর সংলগ্ন ওই গ্রাম জলপাইগুড়ি জেলার ফুলবাড়ি-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, বাঁধের ওই অংশ দীর্ঘদিন ধরে দুর্বল ছিল। তাই নদীর স্রোতের ধাক্কায় মাটির বাঁধের ওই দুর্বল অংশ উড়ে গিয়েছে। শুখা মরশুমে সংশ্লিষ্ট এলাকার উপর সেচদপ্তর নজর দিলে গ্রামটি প্লাবিত হতো না। সেচদপ্তরের ইঞ্জিনিয়াররা অবশ্য বলেন, বাঁধের ওই দুর্বল স্থান নিয়ে আগে কোনও অভিযোগ মেলেনি। তবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ২০ লক্ষ টাকা খরচ করে বাঁধটি মেরামত হচ্ছে। এক-দু’দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্য তৃণমূল কংগ্রেসের রাজু মণ্ডল বলেন, বাঁধের ভাঙা অংশ মেরামতির কাজ জোরকদমে চলছে। মেয়র গৌতম দেব সহ প্রশাসনের আধিকারিকদের নজরদারিতে এটা সম্ভব হয়েছে। এদিকে, শিলিগুড়ির গ্রামীণ এলাকায় আরও কিছু এলাকায় নদীর থাবায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যারমধ্যে মাটিগাড়ার বালাসন নদীর তীরে অবস্থিত বিনয়নগর ও প্রমোদনগর উল্লেখযোগ্য। সংশ্লিষ্ট দু’টি গ্রামেই বেশকিছু বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কয়েকটি বাড়ি নদীগর্ভে চাপা পড়েছে। এজন্য আর্থমুভার নামিয়ে নদীর গতিপথ কিছুটা পরিবর্তন করে সেচদপ্তর। এখন তারা গ্রাম দু’টিতে বোল্ডার ও তার জালি দিয়ে নদীর ক্ষতিগ্রস্ত পাড় মেরামতির কাজে হাত দিতে চলেছে। একইভাবে নকশালবাড়ির এমএম তরাই গ্রামে বালাসন নদীর পাড়, সালুগাড়ায় সিঙ্গিঝোরার এবং বড় মনিরামে মেচি নদীর পাড় মেরামত করা হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ