Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

কমছে ডাকের সাজের আভিজাত্য, মৃতপ্রায় শোলা শিল্পের কারিগররা বানাচ্ছেন শো পিস

এক সময়ে মহার্ঘ্য হাতির দাঁতের বিকল্প হয়ে উঠেছিল শোলা। শুরু হয়েছিল শোলা শিল্পের জয়যাত্রা

কমছে ডাকের সাজের আভিজাত্য, মৃতপ্রায় শোলা শিল্পের কারিগররা বানাচ্ছেন শো পিস
  • ২২ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: এক সময়ে মহার্ঘ্য হাতির দাঁতের বিকল্প হয়ে উঠেছিল শোলা। শুরু হয়েছিল শোলা শিল্পের জয়যাত্রা। প্রতিমাসজ্জায় শোলার সাজ ছিল আভিজাত্যের প্রতীক। যাকে ডাকের সাজ বলে সকলে জানেন। শোলার সাজ তৈরিতে মুর্শিদাবাদ জেলার ছিল রাজ্যজুড়ে খ্যাতি। সে সবই এখন অতীত। পুজো এলেই আক্ষেপের সুর শোনা যায় শিল্পীদের গলায়। কিন্তু কেন মৃতপ্রায় শোলা শিল্প? শিল্পীরা বলছেন, একদিকে কাঁচামালের অপ্রতুলতা, চাহিদা না থাকা আর বাজারের মন্দা একসঙ্গে প্রভাব ফেলেছে। এই ত্রিমুখী চাপে শিল্পীরাও ধুঁকছেন। ধীরে ধীরে শিল্পীর অভাবে ‘অপমৃত্যুর’ পথে শতাব্দী প্রাচীন এই শিল্প। মুর্শিদাবাদে আর তেমন শোলার সাজ গড়ার কারিগর নেই। পরিমল কর্মকার থেকে শুরু করে সমীরকুমার সাহার মতো রাষ্ট্রপতি পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পীরাও আর শোলার সাজ গড়েন না। এখন তাঁরা বানান শোলার ‘শো পিস’। তাও বিশ্ব বাজারে সমাদৃত। 

Advertisement

একাধিক সমস্যার কথা তুলে ধরছেন শিল্পীরা। শোলা শিল্পী সমীরকুমার সাহা বলেন, অনেক শিল্পী আছেন যাঁরা একসময়ে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেছেন। শোলার কাজ অনেক কমেছে আগের থেকে। ডাকের সাজ আগে বানাতাম। দাদারা খুব বানাত। কিন্তু মন্দা চলায় অন্য কাজে মনোনিবেশ করেছেন তাঁরা। আমি শোলার কাজ করি। তবে সাধারণত শো পিসই বানাই। এক চালের ঠাকুর যেমন কমেছে, তেমনই ডাকের সাজ কমেছে। কারণ হিসেবে বলা যায়, শোলার দাম বেড়ে গিয়েছে অনেকটা। কাঁচামালের দাম বাড়লেও শিল্পের দাম পাচ্ছেন না শিল্পীরা। কলকাতা থেকে রেডিমেড গয়না এসে যাচ্ছে বাজারে। সেই দিয়ে মৃৎশিল্পীরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।' আবার অনেক শিল্পীদের ক্ষোভ আছে ‘মিডলম্যানের কমিশন’ নিয়ে। যার ফলে ইচ্ছা থাকলেও শুধু শিল্পকে আঁকড়ে ধরে বাঁচতে পারছেন না শিল্পীরা। চলে যেতে হচ্ছে অন্যত্র এবং অন্য পেশায়। সমাদর না পেয়ে নতুন প্রজন্মের হাতে ব্যাটন তুলে দিতেও তৈরি হয়েছে অনীহা। প্রতিবছর দুর্গাপুজোর সময় সাধারণত কাজে একটা মৃদু জোয়ার আসে। শোলার সাজ তৈরির বরাত থাকলেও, থার্মোকলের কারণে সে বাজারও হাতছাড়া হচ্ছে। এক গাদা নিরাশার পরও ভগ্নাংশের মতো বেঁচে আছে আশা। শিল্পীদের দাবি, এখনও প্রাণ আছে, চিকিৎসা করলে বেঁচে থাকবে শিল্প। সমীরবাবু বলেন, শোলা শিল্পের ঐতিহ্য আলাদা। আমরা ঠাকুরের সাজ এখন বন্ধ করে দিয়েছি। শুধুই শোপিস বানাই। আমার ইউনিটে ৪৫ জন কাজ করে। আমার ছেলেও কাজ শুরু করেছে। আমি ভাগ্যবান। কিন্তু সব শিল্পীর ছেলেরা তো কাজে আসছে না। খাগড়ায় ব্যবসা করি প্রায় ৫০ বছর ধরে। শিল্পকে ভালোবেসে কাজ করছি। এটা বাঁচলে আমাদের সকলের পরিবার বাঁচবে যে!  বহরমপুরের এক মৃৎশিল্পী বলেন, ডাকের সাজের প্রতিমা করতে পারলে আমাদেরও খুব ভালো লাগে। কিন্তু প্রতিমার সাজের জন্য নির্ধারিত অর্থ দিতে চায় না পুজো উদ্যোক্তারা। বাজারে এখন রেডিমেড অনেক রকম সাজ পাওয়া যায়। সেগুলি প্রতিমায় ব্যবহার করলে খরচ অনেকটা কমে। কারণ যেভাবে প্রতিমা তৈরির সব কাঁচামালের দাম বাড়ছে, তাতে পুজো উদ্যোক্তারা প্রতিমার বাজেট খুব একটা বাড়াচ্ছে না। তাই ডাকের সাজ দিয়ে প্রতিমা সাজানোর পরিকল্পনা আমরাও নিতে পারি না। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ