Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুজোয় তুঙ্গে বেলাকোবার চমচমের চাহিদা, এই মিষ্টির বিশেষত্ব জানেন?

পুজোয় বেলাকোবার চমচমের চাহিদা তুঙ্গে। উত্তরবঙ্গের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই চমচম পৌঁছে যাচ্ছে দক্ষিণবঙ্গে এমনকী কলকাতায়।

পুজোয় তুঙ্গে বেলাকোবার চমচমের চাহিদা, এই মিষ্টির বিশেষত্ব জানেন?
  • ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১৪:০৯
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: পুজোয় বেলাকোবার চমচমের চাহিদা তুঙ্গে। উত্তরবঙ্গের গণ্ডি ছাড়িয়ে এই চমচম পৌঁছে যাচ্ছে দক্ষিণবঙ্গে এমনকী কলকাতায়। অনেকে আবার পুজোর উপহারের সঙ্গে বেলাকোবার বিখ্যাত চমচমে প্রিয়জনকে মিষ্টিমুখ করাতে আগেভাগেই অর্ডার দিয়ে রেখেছিলেন।

Advertisement

সেসব সাপ্লাই দিতে গিয়ে এখন দম ফেলার ফুরসত নেই কারিগরদের। ভোর থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে চমচম তৈরির প্রস্তুতি। তিস্তার চর থেকে ড্রাম ভর্তি হয়ে কুইন্টাল কুইন্টাল দুধ আসছে। সেই দুধ থেকে তৈরি হচ্ছে খাঁটি ছানা। তারপর ওই ছানা দিয়ে বানানো হচ্ছে সুস্বাদু চমচম। কোনওটা কড়া পাকের, কোনওটা আবার হালকা মিষ্টি। যার যেমন পছন্দ, তেমন চমচম নিয়ে যাচ্ছেন।

বেলাকোবার চমচমের বিশেষত্ব কী? আসলে এখানকার চমচমে রয়েছে বাংলাদেশের টাঙ্গাইল জেলার পোড়াবাড়ির চমচমের ছোঁয়া। পোড়াবাড়ির চমচমের বিশ্বজোড়া খ্যাতি। সেখানকার বিখ্যাত কারিগর ছিলেন কালী দত্ত। পঞ্চাশের মন্বন্তরের সময় সপরিবারে তিনি চলে আসেন জলপাইগুড়ির বেলাকোবায়। মাথা গোঁজার ঠাঁই মেলার পর খুঁজতে থাকেন রোজগারের পথ। কিন্তু তেমন কিছু কাজ না পেয়ে চমচম তৈরির বিদ্যাকেই কাজে লাগান ভাত জোগাড়ে। বাকিটা ইতিহাস।

কালী দত্তের হাতের জাদুতে অসাধারণ এক মিষ্টির স্বাদ পান উত্তরবঙ্গবাসী। অল্পদিনেই ছড়িয়ে পড়ে বেলাকোবার চমচমের সুখ্যাতি। যাঁর হাত ধরে বেলাকোবায় প্রথম চমচম তৈরি হয়েছিল, সেই কালী দত্ত মারা গিয়েছেন ৪২ বছর আগে। কিন্তু বাবার হাতে তৈরি চমচমের ঐতিহ্য অটুট রাখতে মরিয়া কালী দত্তের ছেলেরা।

আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে মিষ্টিতেও এখন ফিউশন। কিন্তু কালী দত্তের শিখিয়ে যাওয়া জাদুতে ভর করে আজও সুপারহিট বেলাকোবার চমচম।

বেলাকোবায় এখন চমচমের অনেক দোকান। তবে কালী দত্তের দোকানের চমচমের স্বাদ অনন্য, দাবি মিষ্টি রসিকদের। কালীবাবুর ছেলে সুকুমার দত্ত বলেন, দশ কেজি ছানার সঙ্গে মাত্র একশো গ্রাম ময়দা মিশিয়ে ফ্যাট মারা হয়। তারপর ওই ছানা দিয়ে চিনির রসে ডুবিয়ে তৈরি হয় চমচম। দশ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত চমচম বানিয়ে থাকেন তাঁরা। ৫০ টাকার পিস যে চমচম, তার ওজন প্রায় ৩০০ গ্রাম।

উত্তরবঙ্গে কোনও সেলিব্রিটি এলেই খোঁজ পড়ে বেলাকোবার চমচমের। পর্যটকদেরও অত্যন্ত প্রিয় এই চমচম। একবার যে এই চমচমের স্বাদ পেয়েছেন, বারবার খেতে চান। উত্তরবঙ্গ থেকে কেউ দক্ষিণবঙ্গ কিংবা কলকাতায় গেলেই আবদার থাকে, সঙ্গে করে যেন তিস্তার বোরোলির সঙ্গে বেলাকোবার চমচম নিয়ে আসেন। প্রাক্তন প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসু থেকে প্রয়াত অভিনেতা তাপস পাল বেলাকোবার চমচমের স্বাদ পরখ করেছেন। অবশ্যই তা কালী দত্তের দোকানের। সুকুমারের দাবি, তাঁদের দোকানের চমচম দিল্লি, মুম্বই তো বটেই, মার্কিন মুলুকেও যাচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ