নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম জুওলজিক্যাল পার্কে পশুপাখি দত্তক নেওয়ার আগ্ৰহ বাড়ছে। বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা একটি মেছো বিড়াল দত্তক নিয়েছেন। বনমন্ত্রীর দত্তক নেওয়া মেছো বিড়ালটি দেখতে পর্যটকরা পার্কে ভিড় জমাচ্ছেন। অরণ্য শহরের বাসিন্দা ছ’বছরের খুদে ঐশীর দত্তক নেওয়া ময়ূর ‘বোনে’র কথা মুখে মুখে ফিরছে।
বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, বন্যপ্রাণীদের প্রতি সচেতনতা ও ভালোবাসা বৃদ্ধির লক্ষ্যে চিড়িয়াখানার ‘দত্তক প্রকল্প’ নিয়ে প্রচার করা হচ্ছে। বহু মানুষ ও প্রতিষ্ঠান বিষয়টি নিয়ে আগ্ৰহ দেখাচ্ছে। আমি নিজেও চিড়িয়াখানার একটি মেছো বিড়ালকে দত্তক নিয়েছি। নিয়মিত তার খোঁজখবর রাখি। আমার পরিবারের সদস্য বলে মনে করি।
ঝাড়গ্রাম জুওলজিক্যাল পার্ক বন্যপ্রাণী দত্তক গ্ৰহণ প্রকল্প চালু করেছে। প্রতিষ্ঠান বা কোনও ব্যক্তি পশুপাখি দত্তক নিতে পারেন। বন্যপ্রাণীর প্রতি সচেতনতা ও ভালোবাসা তৈরি করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিরা নিজেদের পছন্দের প্রাণী দত্তক নিতে পারেন। যাঁরা দত্তক নেন, তাঁদের দত্তক কার্ড বা সার্টিফিকেট দেওয়া হয়। একবছর বিনা টিকিটে চিড়িয়াখানায় প্রবেশের সুবিধা মেলে। দত্তক নেওয়া পশুপাখির এনক্লোজারে প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির নাম ও ছবি লাগানো যায়। পার্কের ভিতরে জন্মদিন উদ্যাপনের সুযোগও পাওয়া যায়। বিপন্ন বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, সচেতনতা বৃদ্ধির সেমিনার ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়া যায়। জুওলজিক্যাল পার্কের পশুপাখি দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে পর্যটকরা আসছেন। দত্তক নেওয়া বন্যপ্রাণীদের নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
বনমন্ত্রীর দত্তক নেওয়া মেছো বিড়ালটি এখন সেলিব্রিটির স্ট্যাটাস পাচ্ছে। এনক্লোজারের সামনে পর্যটকরা সেলফি তুলতে ভিড় জমাচ্ছেন। ঝাড়গ্রাম শহরের খুদে বাসিন্দা ঐশী তার গত বছরের জন্মদিনে চিড়িয়াখানার একটি ময়ূর দত্তক নিয়েছিল। গত ১১ নভেম্বর, মঙ্গলবার বাবা-মায়ের সঙ্গে চিড়িয়াখানায় এসে তার ময়ূর বোনের সঙ্গে জন্মদিন পালন করেছে।
সামাজিক মাধ্যমে সেই ছবি ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে। পশুপাখি কীভাবে দত্তক নেওয়া যায়, তা নিয়ে জেলার মানুষ খোঁজখবর শুরু করছে। ঝাড়গ্ৰাম জঙ্গলমহল জুওলজিক্যাল পার্কের ওয়েবসাইটে দত্তক নেওয়ার নিয়মকানুনের উল্লেখ রয়েছে। চিড়িয়াখানার নম্বরে ফোন করলেও কর্তৃপক্ষের তরফে এবিষয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়। দত্তক গ্ৰহণকারীদের দেওয়া টাকা দত্তক নেওয়া পশুপাখিদের খাবার ও চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হয়। দত্তক গ্ৰহণকারী অবশ্য তাঁর দত্তক নেওয়া পশুপাখির নিয়মিত খোঁজ নিতে পারেন। পাশাপাশি, পরামর্শ দিতে পারেন। গ্ৰহণযোগ্য হলে কর্তৃপক্ষ সেই পরামর্শ গ্ৰহণ করে।
ঐশীর বাবা, পেশায় শিক্ষক উজ্জ্বলকান্তি পাত্র বলেন, গতবছর মেয়ের জন্মদিনে চিড়িয়াখানার একটি ময়ূর দত্তক নিয়েছিলাম। এবছর দত্তক কার্ডটি রিনিউ করাই। পাশাপাশি, চিড়িয়াখানা এসে মেয়ের জন্মদিন পালন করেছি। শহরের বাসিন্দাদের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে ভালোরকম কৌতূহল তৈরি হয়েছে। পশুপাখি দত্তক নেওয়ার বিষয়ে অনেকে অবগত নন।
পশুপাখিদের নিয়ে সচেতনতার বার্তা দিতেই ময়ূরটি দত্তক নিয়েছি। এদিন ঐশী বলে, আমার বন্ধুদের জানিয়েছি আমার একটি ছোট্ট ময়ূর বোন আছে। বিশেষ দিনগুলিতে ওর সঙ্গে দেখা করতে যাই। এক পর্যটকের সরস বক্তব্য, ঝাড়গ্রাম চিড়িয়াখানার মেছো বিড়াল এখন রীতিমতো স্টার। পরিবারকে নিয়ে বিড়ালটির সঙ্গে সেলফিও তুলেছি।