নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ভেঙে পড়েছে নাগরিক পরিষেবা। জমা জল ও জঞ্জালের কারণে নাভিশ্বাস উঠছে পানিহাটির বাসিন্দাদের। চেয়ারম্যান নিখোঁজ। বোর্ড মিটিং বন্ধ। বেতন হচ্ছে না কয়েকশো কর্মীর। কার্যত অচল পানিহাটি পুরসভাকে সচল করতে প্রশাসক বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।
বৃহস্পতিবার রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, পানিহাটির এই পরিস্থিতি দেখে পুরসভাকে শো’কজ় করা হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পুরসভায় প্রশাসক নিয়োগ করা হবে। পানিহাটির অব্যবস্থা আর বেশিদিন থাকবে না। পুর প্রশাসক বসিয়ে সুষ্ঠু নাগরিক পরিষেবা বহাল রাখতে যা করণীয়, সবই করা হবে।
পানিহাটি পুরসভায় মোট ৩৫ জন কাউন্সিলারের মধ্যে দু’জন জেলে রয়েছেন। ১৩ জন পদত্যাগ করেছেন। গ্রেপ্তারের আশঙ্কায় চেয়ারম্যান সোমনাথ দে এক মাসের বেশি সময় ধরে পুরসভায় আসছেন না। বহু কাউন্সিলারকে তাঁদের ওয়ার্ডে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। সম্প্রতি ভাইস চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে বোর্ড মিটিং ডাকা হয়েছিল। কিন্তু ওইদিন বিজেপির বিক্ষোভের জেরে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় কোনো কাউন্সিলার পুরসভায় আসেননি। চেয়ারম্যান না থাকায় শহরের আশাকর্মী, নির্মলবন্ধু, নির্মলসাথী ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচিতে যুক্ত প্রায় ১৫০০ অস্থায়ী কর্মীর বেতন হচ্ছে না। কারণ, ওই বেতনের ফাইলে চেয়ারম্যানের সই প্রয়োজন। ফলে শহরে সাফাই সহ বিভিন্ন নাগরিক পরিষেবা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে। সামগ্রিক অচলাবস্থা কাটাতে গত ৯ জুলাই পুরসভার এগজিকিউটিভ অফিসার মহকুমা শাসককে চিঠি দিয়েছিলেন। মহকুমা শাসকের দপ্তর থেকে সেই চিঠি পাঠানো হয়েছিল রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরে। তার জেরে এই পদক্ষেপ কি না, তা নিয়ে প্রশাসনিক মহলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে।