রামকুমার আচার্য, আরামবাগ: কথা ছিল মাত্র আটদিনের। কিন্তু, বিধি বাম! ধরা পড়ে ফিরতি মহাকাশ যানের ত্রুটি। কথা মতো ফিরে আর আসতে পারেননি। আটদিনের বদলে নয় নয় করে প্রায় ন’মাস মহাশূন্যে কাটাতে হয়েছে সুনীতা উইলিয়ামস ও তাঁর সঙ্গী বুচ উইলমোরকে। অবশেষে পৃথিবীর বুকে তাঁদের সফল অবতরণ।
কিন্তু প্রশ্ন হল, এই ন’মাস দু’জনের কেমন কেটেছিল আন্তর্জাতিক স্পেশ সেন্টারে? কী খাওয়া-দাওয়া করতেন? দিন-রাতের কি কোনও পার্থক্য বুঝতেন তাঁরা? ভালোভাবে ফিরে এলেও এখন দু’জনের কেমন কাটছে। পৃথিবীর আবহাওয়ার সঙ্গে তাঁরা মানাতে পারছেন কি না? শারীরিক কোনও বিকৃতি বা সমস্যায় পড়েছেন কি না? সুনীতা-বুচকে নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে কৌতূহলের অন্ত নেই। আর এইসব কৌতূহল থেকে মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনায় আগ্রহ বাড়ছে তাদের। জীবনে বড় হওয়ার স্বপ্ন-উড়ানও ওড়াতে চাইছে মহাকাশের পথে। পড়ুয়াদের সেই উড়ানের সহযাত্রী হচ্ছে ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো। সৌজন্যে আরামবাগ মহকুমা প্রশাসন।
আরামবাগ প্রশাসন ও জেলা কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে ‘উত্তরণ’ শীর্ষক একটি কর্মসূচি চলছে। যার মাধ্যমে কেরিয়ার গাইডেন্স দেওয়া হচ্ছে পড়ুয়াদের। সেই কর্মসূচির অঙ্গ হিসেবে আগামী ৭ এপ্রিল আরামবাগের রবীন্দ্রভবনে স্কুল পড়ুয়াদের নিয়ে একটি সভার আয়োজন করা হয়েছে। আরামবাগ মহকুমা প্রশাসন, জেলা কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্র ও শিক্ষ দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় সভাটি হবে। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা তাতে অংশ নেবে। সেখানে ইসরোর বিজ্ঞানীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁদের মুখে মহাশূন্যের গভীর রহস্য, সুনীতাদের দিন যাপনের খুঁটিনাটি শুনবে পড়ুয়ারা।
কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্র সূত্রে জানা গিয়েছে, ইসরোর পূর্বাঞ্চল রিজিওনাল রিমোট সেন্সিং সেন্টার থেকে বিজ্ঞানীরা আসবেন আরামবাগে। তাঁদের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য মহকুমার ১৫টি চক্রের সব স্কুলকেই বলা হয়েছে। যাতে আগ্রহী ছাত্রছাত্রীরা ওই সেমিনারে অংশগ্রহণ করে। কর্ম বিনিয়োগ কেন্দ্রের ডেপুটি ডিরেক্টর ইন্দ্রাণী সেনগুপ্ত বলেন, ‘মহাকাশ নিয়ে ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে যথেষ্ট কৌতূহল রয়েছে। সম্প্রতি সুনীতা উইলিয়ামসকে নিয়ে অনেকের মনে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। মহাকাশ বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়া যায়। তাই এই বিষয়ে ছাত্রছাত্রীদের সম্যক ধারণা দিতে ইসরোর কলকাতার অফিসে যোগাযোগ করা হয়। সেখান থেকে বিজ্ঞানীরা এসে ছাত্রছাত্রীদের এই ব্যাপারে পাঠ দেবেন। আশা করি, মহাকাশ নিয়ে এই পাঠ পড়ুয়াদের ভবিষ্যত পড়াশোনায় কাজে লাগবে।’
কয়েক মাস আগে প্রশাসনের ‘উত্তরণ’ কর্মসূচির মাধ্যমে আরামবাগের কিছু ছাত্রছাত্রীকে কলকাতায় ইসরোর কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় প্রতিনিধিমূলক কয়েকজন পড়ুয়া ওই শিক্ষামূলক ভ্রমণে যায়। কিন্তু মহকুমার অন্যান্য স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা সেই সুযোগ পায়নি। তাই তাদের কাছে মহাকাশ নিয়ে ধারণা দিতে খোদ ইসরোর বিজ্ঞানীরাই আরামবাগে আসছেন।
আরামবাগের এক স্কুল পরিদর্শক রথীন বিশ্বাস বলেন, ‘সেমিনারে যোগ দিতে কোন স্কুল কত পড়ুয়া পাঠাতে চায়, তা কর্তৃপক্ষকে আগাম জানাতে বলা হয়েছে। একাধিক স্কুলরেই এই বিষয়ে আগ্রহ রয়েছে।
পুরশুড়ার ভাঙামোড়া নুতনগ্রাম কেএনসিএম ইনস্টিটিউশনের প্রধান শিক্ষক উৎপল রক্ষিত বলেন, ‘আমাদের স্কুল থেকে বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ১৯ জন পড়ুয়াকে নিয়ে যাওয়া হবে। আরও অনেক পড়ুয়াই যেতে আগ্রহী।’
খানাকুলের রামনগর অতুল বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমিত আঢ্য বলেন, ইসরোর বিজ্ঞানীদের সঙ্গে ওই সেমিনারে ছাত্রছাত্রীদের ক্লাস খুবই উপযোগী হবে। আমাদের স্কুল থেকেও একাদশ শ্রেণির পড়ুয়ারা যাবে। মহকুমা প্রশাসনের এমন উদ্যোগ প্রশংসনীয়।