নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের ঘটনাকে এবার সর্বভারতীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে চলেছে কংগ্রেস। যেখানে তারা তুলে ধরবে, সামান্য একটি উপনির্বাচনে কী কী ঘটনা ঘটেছে। তার সঙ্গে গোটা ঘটনার পিছনে বিজেপির ব্লুপ্রিন্ট রয়েছে, সেটাও খোলসা করে দিতে চান কংগ্রেস নেতৃত্ব। বিজেপি বিরোধী এই লড়াইয়ে কংগ্রেসের পাশে থাকবে মমতা তৃণমূল। দু-দলের শীর্ষ নেতারা আলাপচারিতায় রয়েছেন। আগামী দিনে দু-দলের প্রধান দুই কান্ডারিকে একমঞ্চে দেখা যেতে পারে, এমন সম্ভাবনাও চর্চায় উঠে এসেছে।
নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের গ্রেপ্তারের ঘটনা আলোড়ন ফেলে দিয়েছে বঙ্গ রাজনীতিতে। বিশেষ করে ১৯ বছরের পুরানো মামলায় হঠাৎ এতদিন পরে ভোটের মুখেই কেন গ্রেপ্তার করা হল, সেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে বিরোধীরা। এমনকি ঘটনার পরে প্রার্থীকে চোখ বেঁধে চণ্ডীপুর থেকে মন্দারমণি নিয়ে যাওয়া হয়, এমন অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে তুলেছেন কংগ্রেস নেতা শুভাশিস ভট্টাচার্য। গোটা ঘটনা সামনে আসার পর থেকে দিল্লি থেকে রাজ্য কংগ্রেস নেতৃত্ব পুরোমাত্রায় বিজেপির বিরুদ্ধে নেমে পড়েছেন। রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, কে সি বেণুগোপালের মতো শীর্ষ কংগ্রেস নেতারা নন্দীগ্রামের ঘটনা নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগে রয়েছেন রাহুলের দূত বেণুগোপাল। ওইসঙ্গে সর্বভারতীয় কংগ্রেসের নেতা প্রকাশ যোশি ঘটনার খবর পাওয়ার পরই দিল্লি থেকে ছুটে এসেছেন। এখন তিনি রাজ্যেই রয়েছেন। ফলে কংগ্রেস নেতৃত্ব নন্দীগ্রামের ঘটনাকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। কংগ্রেস সূত্রে জানা গিয়েছে, নন্দীগ্রাম বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে দিল্লি থেকে একাধিক শীর্ষ কংগ্রেস নেতা আসতে চলেছেন। বিধানসভা নির্বাচনে জেতার মাত্র চারমাসের মধ্যে বিজেপি একটি উপনির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করেছে বলে অভিযোগ কংগ্রেস নেতৃত্বের। সেইসঙ্গে দিল্লিসহ দেশের একাধিক জায়গাতেও নন্দীগ্রামের ঘটনা তুলে ধরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন কংগ্রেস নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, সমস্ত এজেন্সিকে দলীয় স্বার্থে কাজে লাগিয়ে কংগ্রেসমুক্ত ভারত করতে চাইছে বিজেপি। তা রোখার জন্য গোটা দেশের কংগ্রেস কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সময় এসে গিয়েছে। ঠিক এই প্রেক্ষাপটে রাহুল গান্ধীর দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ইতিমধ্যে রাহুলের সঙ্গে মমতার একপ্রস্থ কথা হয়েছে। নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে কংগ্রেস প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন মমতা। উপনির্বাচনের প্রচারেও কংগ্রেস ও মমতা তৃণমূলের একমঞ্চে আসার জল্পনা তৈরি হয়েছে। মূলত ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস ও মমতা তৃণমূল সম্পর্কের সেতু পোক্ত করার দিকেই এগোচ্ছে।
বিজেপি-বিরোধী সংগ্রামে রাহুল গান্ধীর পাশে থেকে হাতে হাত মিলিয়ে লড়াইয়ে মমতাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তবে অধীর চৌধুরী খোঁচা দিয়েছেন মমতার অবস্থানকে। অন্যদিকে, মমতাপন্থী বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, কংগ্রেসের ওই নেতা ব্যক্তিস্বার্থ ছেড়ে দেশের কথা ভাবুন। সকলে মিলে বিজেপিকে হারানোর সময় এটা।