নিজস্ব প্রতিনিধি, চিত্তরঞ্জন: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লন্ডন সফরের দিনই প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর নিয়ে কেন্দ্রকে তুলোধনা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা এমপি শত্রুঘ্ন সিনহা। শনিবার তিনি চিত্তরঞ্জনে একটি অনুষ্ঠানে এসে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরে দেশের কী লাভ হয়! তিনি যাওয়া পরই আমেরিকা আমাদের পণ্যের উপর আমদানি কর বাড়িয়ে দিল। এরপরই তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী নতুন প্রজন্মকে উদ্ধুব্ধ করতে পারবেন। তাই তাঁকে অক্সফোর্ড সম্মান করে আমন্ত্রণ জানিয়েছে। মোদিজিকে তো জানায় না। সেই কারণেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ সফর নিয়ে এত রাগ। কেন তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হল তা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের খরচ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন প্রাক্তন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মুল্যবৃদ্ধি চরমে। বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে দেশ। সেই সময়ে তিনি কোটি কোটি টাকা খরচ করে বিদেশ সফর করছেন। তিনি বলেন, পাকিস্তান থেকে শিক্ষা নিক মোদি। ওদের দেশের আর্থিক সঙ্কটের সময়ে ব্যয় সংকোচ করে দেখিয়েছিল।
শনিবার চিত্তরঞ্জন শহরের দেশবন্ধু মহাবিদ্যালয়ের একটি ভবন উদ্বোধনে আসেন এলাকার তারকা সংসদ সদস্য। সেখানে তাঁর সংসদ তহবিল থেকে ৩০ লক্ষ টাকা খরচে একটি ভবনের দ্বিতল নির্মাণ হয়েছে। এদিন তাঁকে পাশে বসিয়েই কেন্দ্রীয় সরকারের শিক্ষা নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন কলেজ অধ্যক্ষ ত্রিদিব সন্তপা কুণ্ডু। তিনি বলেন, ১০ বছর ধরে ইউজিসি কোনও অর্থ বরাদ্দ করছে না। কী করে তাঁরা আশা করবে কলেজের পঠনপাঠনের উন্নয়ন হবে। আমরা বিভিন্ন সংস্থার কাছে সিএসআর ফান্ড সংগ্রহ, এলাকার এমপি, বিধায়কদের আর্থিক সহযোগিতায় কলেজের উন্নয়ন করছি। তাঁর কথার রেশ ধরেই এদিন আসানসোলের এমপি বলেন, বাংলার প্রতি কেন্দ্রীয় সরকারের বঞ্চনা চরমে। বিভিন্ন খাতে দু’লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া রেখেছে তারা। তার পরও আমাদের সরকার রাজ্যকে এগিয়ে নিয়ে চলেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রেও বঞ্চনা করছে। আমরা স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পরিকাঠামো উন্নয়নে জোর দিয়েছি।
শনিবারই মুখ্যমন্ত্রী লন্ডন সফরে রওনা হয়েছেন। তাঁর এই সফর নিয়ে রাজনীতি মহলে কম জল ঘোলা হয়নি। বাম এবং বিজেপি তাঁর এই সফর নিয়ে কটাক্ষ করে গিয়েছে। কেউ কেউ মুখ্যমন্ত্রীকে অক্সফোর্ডের আমন্ত্রণ করা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছে। পাল্টা তৃণমূলও সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানোর চিঠি সামনে আনা হয়।
এনিয়ে বিজেপির রাজ্য সম্পাদক লক্ষ্মণ ঘোড়ুই বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশ ও সংসদের মুখ। তাঁকে এভাবে শত্রুঘ্ন সিনহার মতো ব্যক্তিত্ব আক্রমণ করা দেখে আমি অবাক হয়েছি। আসলে তিনি এতদিনে তৃণমূলের কালচার সম্পূর্ণ রপ্ত করতে পেরেছেন। দেশবাসী জানে প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফর দেশের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তিনিও এমন অনেক জায়গায় ডাক পেয়েছেন যেখানে মুখ্যমন্ত্রী পাননি। এনিয়ে আমরা কোনদিনই সরব হয়নি।