Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

১২ লক্ষ কোটির গালভরা ঘোষণাই সার, পরিকাঠামোয় বাজেটের অর্ধেক অর্থ বরাদ্দ

এই নিয়ে তিন বছর। করোনাকাল সমাপ্ত হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন প্রতি বছর যে খাতে সবচেয়ে বেশি বাজেট বরাদ্দ করেছেন, সেটি হল পরিকাঠামো।

১২ লক্ষ কোটির গালভরা ঘোষণাই সার, পরিকাঠামোয় বাজেটের অর্ধেক অর্থ বরাদ্দ
  • ১৪ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৯:০১
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: এই নিয়ে তিন বছর। করোনাকাল সমাপ্ত হওয়ার পর থেকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন প্রতি বছর যে খাতে সবচেয়ে বেশি বাজেট বরাদ্দ করেছেন, সেটি হল পরিকাঠামো। অর্থনীতির পরিভাষায় যাকে বলা হয় ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার (ক্যাপেক্স)। এই খাতে অর্থবরাদ্দ বৃদ্ধি করা হলে একইসঙ্গে স্থায়ী সম্পদ সৃষ্টি হয়, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পায় এবং তার জেরে বাজারে আর্থিক লেনদেন বাড়ে। ১০ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল প্রথমে। বিগত বাজেটে সেই অঙ্ক বেড়ে হয় ১১ লক্ষ ২১ হাজার কোটি টাকা। বলা হয়েছিল প্রয়োজনে আরও বাড়ানো হবে। অথচ কার্যক্ষেত্রে এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর— ন’ মাস কেটে গেলেও বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থবরাদ্দ ও ব্যয়ের পরিমাণ মাত্র ৬ লক্ষ কোটি টাকা। দু সপ্তাহ পর আরও একটি বাজেট। কিন্তু এখনও অর্ধেক মাত্র ব্যয় হয়েছে পরিকাঠামো খাতে। সরকারি সূত্রেই জানা যাচ্ছে, আগামী তিন মাস বরাদ্দ ক্রমেই কমে যাবে। যা করা হয়েছে সেই কাজও সব ক্ষেত্রে শুরু হয়নি। এই একই প্রবণতা পূর্ববর্তী বছরগুলিতেও দেখা গিয়েছে। অর্থাৎ বাজেটের দিন গালভরা ঘোষণা করা হয় এবং প্রচুর স্বপ্ন দেখানো প্রকল্পে বিপুল বরাদ্দ করা হয়। কিন্তু বছরের শেষে দেখা যায় সেই বরাদ্দ যথোচিত হয়নি। আন্তর্জাতিক আর্থিক সমীক্ষক সংস্থা মরগ্যান স্ট্যানলি তাদের রিপোর্টে জানিয়েছে, আর্থিক বছরের প্রথম ন’মাসে যা ব্যয় ও বরাদ্দ করার হয়ে গিয়েছে। শেষ ত্রৈমাসিকে বরাদ্দ বৃদ্ধির সম্ভাবনা নেই। বরং তুলনামূলকভাবে কমে যাবে বরাদ্দ। মরগ্যান স্ট্যানলির হিসেব অনুযায়ী ৫৮ শতাংশ ব্যয় হয়েছে বাজেট ঘোষণার তুলনায়। আর এই ৫৮ শতাংশ ব্যয়বরাদ্দের মধ্যে ৫৫ শতাংশই হল রেল ও সড়ক পরিবহণ প্রকল্প। যা বস্তুত এই বছরই যে শুরু হল এমন নয়। বহু পুরনো বকেয়া প্রকল্পও রয়েছে। কিন্তু নতুন করে যতটা বন্দর সংস্কার, গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট, সেতু নির্মাণ, শিল্প করিডর হওয়ার কথা ছিল, সেরকম কিছু হয়নি। বিগত ৩০ বছর ধরেই যে দু‌ই মন্ত্রক সরকারের পরিকাঠামো উন্নয়নে সবথেকে বেশি অর্থ পেয়ে থাকে তার কোনও অন্যথা হয়নি। ২০২৫ সালে ঘোষিত বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রেও সেই রেল এবং ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটির কাছেই গিয়েছে অর্থ।

Advertisement

তাৎপর্যপূর্ণ হল, বিগত বাজেটে ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টির বরাদ্দ বৃদ্ধি না করার কারণ হিসাবে পরিকাঠামো খাতে প্রায় ১২ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে বলে ঘোষণা করেছিল অর্থমন্ত্রক। বোঝানোর হয়েছিল যে, ১০০ দিনের কাজের চাহিদা আর আগের মতো থাকবে না। কারণ, এই বিপুল অঙ্কের পরিকাঠামো উন্নয়নের কাজ আরম্ভ হলে গ্রাম ও শহরের শ্রমিকদের কাজের অভাব হবে না। কাজের সুযোগ বাড়বে। সেই কারণেই ১০০ দিনের কাজের গ্যারান্টি প্রকল্প পরপর দুই বছরই ৮৬ হাজার কোটি টাকা‌ই রাখা হয়েছিল। ২০২৫ সালে দেখা গিয়েছিল যে আদতে ব্যয় হয়েছে ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা। অথচ বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি হয়নি পরিকাঠামো উন্নয়নে কাজ মিলবে এই বার্তা দিয়ে। পুনরায় বাজেট শিয়রে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, পরিকাঠামোয় বাজেট বরাদ্দের অর্ধেক মাত্র ব্যয় হয়েছে! আবার সেই ফাঁকে ১০০ দিনের কাজের রীতি, নীতি, আইনও বদলে দেওয়া হয়েছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ