Bartaman Logo
৫ অক্টোবর, ২০২৬

মনমোহন জমানার ‘সফল’ কর্মসংস্থান প্রকল্প চুপিসারে বন্ধই করে দিল কেন্দ্র

বেকারত্ব কমবে কীভাবে? কীভাবে বাড়বে দেশে কর্মসংস্থানের হার? এসব ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রায়শই পরামর্শ দেন, চাকরির পিছনে ছুটে লাভ নেই!

মনমোহন জমানার ‘সফল’ কর্মসংস্থান প্রকল্প চুপিসারে বন্ধই করে দিল কেন্দ্র
  • ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বাপ্পাদিত্য রায়চৌধুরী, কলকাতা: বেকারত্ব কমবে কীভাবে? কীভাবে বাড়বে দেশে কর্মসংস্থানের হার? এসব ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রায়শই পরামর্শ দেন, চাকরির পিছনে ছুটে লাভ নেই! ‘আত্মনির্ভর ভারত’ গড়তে ব্যবসায় পা রাখতে হবে যুবসমাজকে। এর জন্য কেন্দ্রীয় সহায়তা প্রকল্পের প্রচারে খামতি রাখেনি শাসক শিবির। কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে উলটো চিত্র! ব্যবসা শুরুর জন্য আর্থিক সহায়তা দিতে জনপ্রিয় কেন্দ্রীয় প্রকল্পটি হল ‘প্রাইম মিনিস্টারস এমপ্লয়মেন্ট জেনারেশন প্রোগ্রাম’ বা পিএমইজিপি। ২০০৮-০৯ অর্থবর্ষে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের আমলে চালু হয়েছিল। সেই প্রকল্প এবার চুপিসারে বন্ধই করে দিল কেন্দ্রের মোদি সরকার। স্কিমটির সুবিধা নেওয়ার জন্য যাঁরা আবেদন করছেন, তাঁদের জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে, কোনো সহায়তা মিলবে না।  

Advertisement

খাদি ও গ্রামোদ্যোগ কমিশন, জেলা শিল্প কেন্দ্র এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির যৌথ উদ্যোগে পিএমইজিপি প্রকল্পের মাধ্যমে বেকারদের স্বনির্ভর করার ডাক দিয়েছিল কেন্দ্র। এক্ষেত্রে উৎপাদন বা সমগোত্রীয়  ব্যবসার জন্য ৫০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এবং পরিষেবা শিল্পের জন্য ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। খরচের একাংশ ভরতুকি হিসাবে দেয় সরকার। শহরাঞ্চলে উদ্যোগপতিরা ১৫ শতাংশ এবং গ্রামাঞ্চলে ২৫ শতাংশ ভরতুকি পান। তফসিলি জাতি, উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণি, মহিলা, সংখ্যালঘু, প্রাক্তন সৈনিক এবং বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য এই ভরতুকির পরিমাণ আরও বেশি। শহরে ২৫ শতাংশ এবং গ্রামে ৩৫ শতাংশ। আবেদনকারীকে খরচের ১০ শতাংশ বিনিয়োগ করতে হয়। বাকি অর্থ সহজ শর্তে ও সুদে ব্যাংক ঋণ পাওয়া যায়। খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, বেকারি, বিউটি পার্লার, পোশাক তৈরি, মোবাইল মেরামত, আসবাবপত্র তৈরি থেকে শুরু করে তথ্যপ্রযুক্তি পরিষেবার মতো প্রায় সব ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসাই এই স্কিমের আওতায় পড়ে। এখনও পর্যন্ত এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ১ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গে এর সুবিধাভোগীর সংখ্যা প্রায় ৫৮ হাজার। কিন্তু চলতি অর্থবর্ষে কেউ নতুন করে এই প্রকল্পের সুবিধা পাননি। এমএসএমই দপ্তরের কর্তারা জানাচ্ছেন, মোদি সরকারের আমলে হরেক শর্তের গেরোয় লক্ষ লক্ষ মানুষ আবেদন করেও এই প্রকল্পের সুবিধা পাননি। ইউপিএ সরকারের আমলে সাফল্যের হার অনেক বেশি ছিল। 
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা করার ক্ষেত্রে মোদি সরকার চালু করেছে ‘প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা’। এই প্রকল্প ‘সফল’ করতেই সরকারের তৎপরতা বেশি। কিন্তু তা কোনোভাবেই ইউপিএ সরকারের প্রকল্পের সঙ্গে তুলনীয় নয়। কারণ, মুদ্রা যোজনায় এক পয়সাও ভরতুকি দেয় না সরকার। সব টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়। তাই পিএমইজিপি প্রকল্পে আবেদনের সংখ্যা অনেক বেশি। এহেন একটি ‘সফল’ প্রকল্প বন্ধ করে দেওয়ায় কর্মসংস্থানের প্রশ্নে কেন্দ্রের সদিচ্ছা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ