নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: নির্বাচন কমিশনের প্রতীক বিতরণের পর প্রথম রবিবারের প্রচার। রেজিনগর উপনির্বাচনে তৃণমূলের দুই শিবিরের একেবারে নতুন প্রতীক। অপরদিকে আম জনতা উন্নয়ন পার্টিরও প্রতীক বদল হয়েছে। তারপর প্রথম রবিবারের প্রচারে যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ার দরকার ছিল, তা দেখা গেল না নতুন প্রতীক পাওয়া প্রার্থীদের ক্ষেত্রে। তবে ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূলের প্রার্থী সফিউজ্জামান শেখ দলীয় রণকৌশলের বৈঠক সেরে জয়নগরে হেঁটে জনসংযোগ করেন। তাঁর খাম প্রতীকে মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। অপরদিকে মমতা তৃণমূলের ফুটবলার প্রতীকের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী নিজের ঘর গোছাতেই ব্যস্ত থাকলেন। এদিন বেলডাঙার পার্টি অফিসে দুই বিধায়ক অলিফা আহমেদ ও বাবর আলিকে সঙ্গে নিয়ে একটি রণকৌশলের বৈঠক সেরে সন্ধ্যায় জনসংযোগে নামেন। রেজিনগরে কয়েকটি পাড়ায় ঘুরে মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতা সারেন। এদিন নজর কাড়ে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের রোড শো। বেলডাঙায় হুডখোলা গাড়িতে চেপে প্রচার সারেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন স্থানীয় বিধায়ক ভরতকুমার ঝাওর। রেজিনগর বিধানসভার যে অঞ্চলগুলি বেলডাঙায়, সেই এলাকায় বাইক নিয়ে একটি শোভাযাত্রা করেন পদ্ম প্রার্থী। এদিন স্থানীয় শিক্ষকদের সঙ্গেও বৈঠক করেন প্রার্থী ও বিজেপি নেতৃত্ব। শাখারভ বলেন, নির্বাচনের প্রচারে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছি ভোট দিতে। সকলেই বুঝতে পারছে বিজেপি ছাড়া বিকল্প নেই। এখন কেন্দ্রে ও রাজ্যে বিজেপির সরকার। এখানে উন্নয়ন সম্ভব শুধুমাত্র বিজেপির হাত ধরে। বাকি যারা লড়ছে তাঁরা কেউ নিজেদের পরিবারের আখের গোছাতে, কেউ রাজনৈতিক ভাবে ময়দানে টিকে থাকতে। আবার কেউ লড়ছে শুধুমাত্র নিজের নাম দেওয়ালে দেখার জন্য। এদের ভোট দেওয়া মানে ভোট নষ্ট। এদিন শক্তিপুরের নারকেলবাড়ি থেকে সোমপাড়া-১ পর্যন্ত বাড়ি বাড়ি নির্বাচনী জনসংযোগ করেন কংগ্রেস মনোনীত প্রার্থী আব্দুল্লাহিল কাফি। এলাকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে মানুষের দুয়ারে পৌঁছে তাঁদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। কোথাও বাড়ির উঠোনে, কোথাও রাস্তার ধারে, আবার কোথাও ছোট ছোট জমায়েতে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভাব-অভিযোগ, দৈনন্দিন সমস্যা, মতামত ও আগামী দিনের প্রত্যাশার কথা মন দিয়ে শোনেন। পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন স্থানীয় বিষয় নিয়েও সাধারণ মানুষের সঙ্গে মত বিনিময় করেন। বাড়ি বাড়ি জনসংযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে পথসভায় উপস্থিত হয়ে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথোপকথনের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে রবিবারের নির্বাচনী প্রচার। ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূলের সফিউজ্জামান বলেন, আমরা শনিবারই খাম চিহ্ন পেয়েছি। তারপর রবিবারের প্রচারে প্রথমে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বসে বৈঠক সেরে অঞ্চল ভিত্তিক দায়িত্বভার দিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারপর জয়নগরে হেঁটে মানুষের সঙ্গে আলাপচারিতা সেরেছি। সকলেই আমাকে চেনেন। তাঁদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য আগামীতে কাজ করব। সেই আশ্বাস দিয়ে মানুষের দুয়ারে যাচ্ছি।



