Bartaman Logo
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সাদা-কালোর ‘আবোল তাবোল’ বদলে গিয়ে হাতিবাগানে এবার রঙিন ‘হাসি-খুশি’ পাড়া

২০২৩ সালের দুর্গোপুজোয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল হাতিবাগান নবীন পল্লির ‘আবোল তাবোল’ থিম। সুকুমার রায়কে শ্রদ্ধা জানাতে আদতে সেজে উঠেছিল গোটা পাড়া।

সাদা-কালোর ‘আবোল তাবোল’ বদলে গিয়ে হাতিবাগানে এবার রঙিন ‘হাসি-খুশি’ পাড়া
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে, কলকাতা: ২০২৩ সালের দুর্গোপুজোয় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল হাতিবাগান নবীন পল্লির ‘আবোল তাবোল’ থিম। সুকুমার রায়কে শ্রদ্ধা জানাতে আদতে সেজে উঠেছিল গোটা পাড়া। সেই সাজ মনে ধরেছিল আট থেকে আশির। তারপর থেকে প্রিওয়েডিং ফটোশ্যুট হোক বা সখের ফটোগ্রাফার—সবার জন্য ‘হটস্পট’ হয়ে ওঠে এই ‘আবোল তাবোল’ পাড়া। কিন্তু গত তিন বছরে সাদা-কালো রঙে করা সেই সাজসজ্জা অনেকটা ফিকে হয়েছে। পরবর্তী দু’বছর থিমের প্রয়োজনে কিছু কিছু জায়গায় নতুন রঙের পোঁচও পড়েছে। তবুও ওই চত্বরে ঢুকলেই নজরে আসত আবোল তাবোলের নানা অনুষঙ্গ। কিন্তু এবার হাতিবাগান নবীন পল্লির নয়া থিমের দৌলতে পুরোপুরি বদলে গেল সেই অলঙ্করণ। ‘সাদা-কালো’ পর্বকে পিছনে ফেলে এবার নবীন পল্লি রঙিন, জমকালো ‘হাসি-খুশি পাড়া’!

Advertisement

একটা সময় বাঙালি ঘরের শিশুর পড়াশোনা শুরুই হত যোগীন্দ্রনাথ সরকারের ছড়া দিয়ে।‘হাসিখুশি’ বইটি আজও বহু বাঙালির নস্টালজিয়া।  শিশুদের মনস্তত্ত্ব ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে মিশে গিয়েছিল অপরূপ সাহিত্যবোধ। হাসিখুসি, হাসিরাশি, খুকুমণির ছড়া আরও কত কী! সেই ‘অ-অজগর আসছে তেড়ে’ যেন পিছিয়ে পড়ছে ‘এ ফর অ্যাপেল’-এর সঙ্গে দৌড়ে! নবীন পল্লির পুজোর মুখ্য উদ্যোক্তা দীপ্ত ঘোষ বলেন, ‘আমরা ওই শিশুসাহিত্যের কাছে চিরঋণী। তাই হাতিবাগান নবীন পল্লির এবারের ভাবনা তাঁর শিশুসাহিত্য। এভাবেই তাঁকে আমরা ট্রিবিউট জানাব। আমরা চাইছি, আগামী প্রজন্মের কাছে, আপামর বাঙালির কাছে আবার যেন তিনি ভীষণ প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন।’ 
এই ভাবনা ফুটিয়ে তুলতে পাড়ার অলিগলি সেজে উঠছে  ‘ফড়িং বাবুর বিয়ে’, ‘হাট্টিমাটিম টিম…’ ইত্যাদি কালজয়ী ছড়ার ‘ইলাস্ট্রেশন’-এ। বেশিরভাগটাই রংয়ের কাজ। কিছুটা থ্রি ডাইমেনশন, কিছুটা আবার লোহার কাজও হচ্ছে। দীপ্তবাবু বলেন, ‘এই ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন শিল্পী শংকর পাল। বিভিন্ন কবিতায় থাকা কল্পনার ছবির আঁকার পাশাপাশি রয়েছে মজাদার গান। মানুষ যখন মণ্ডপে ঢুকবে, তখন চলতে চলতে যেমন তাঁরা ছবি-ইলাসট্রেশনগুলি দেখবে, তেমনই কিছু কিছু ছড়ার বিভিন্ন অংশ তুলে বানানো গানগুলিও শুনতে পাবে তারা।’ 
নবীন পল্লির এই থিম ভাবনা ইতিমধ্যে প্রশংসা কুড়িয়েছে সমাজমাধ্যমে। পুজোর অন্যতম উদ্যোক্তা অমিতাভ রায় বলেন, ‘২০২৪ সালে থিয়েটার পাড়া করার সময়ই কিছু জায়গায় রং বদল করা হয়েছিল। এবার গোটা চত্বরটাই বদলে যাচ্ছে। এবারের কাজও ইতিমধ্যে ভাইরাল। প্রচুর রিলস, ভিডিয়ো দেখছি সামাজিক মাধ্যমে।’ এবার এখানে প্রতিমা শিল্পী অরিগ্ন সাহা। উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, যোগীন্দ্রনাথ সরকার মা এবং শিশুকে নিয়ে বহু ছড়া লিখেছেন। যেমন ‘খোকা ঘুমালো, পাড়া জুড়ালো…’। তাই প্রতিমাতেও থাকছে সেই স্নেহময়ী মাতৃত্বের ছোঁয়া।  যাতে গান ও ছড়ার সঙ্গে দর্শনার্থীরা সহজেই একাত্মবোধ করতে পারেন, সেভাবেই গোটা আবহ তৈরি করা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ