Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নতুনগ্রামে বাবলা ও ভাগীরথীর তীর ভাঙছে, আতঙ্কে বাসিন্দারা

গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি ভাগীরথী নদীতে তলিয়ে গিয়েছে আগেই। এখন বেশকিছু বাড়ি বিপজ্জনক ভাবে নদীর কিনারে ঝুলছে

নতুনগ্রামে বাবলা ও ভাগীরথীর তীর ভাঙছে, আতঙ্কে বাসিন্দারা
  • ২৩ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: গ্রামের অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি ভাগীরথী নদীতে তলিয়ে গিয়েছে আগেই। এখন বেশকিছু বাড়ি বিপজ্জনক ভাবে নদীর কিনারে ঝুলছে। গত কয়েকদিন ধরে ভয়ানক ভাঙনের মুখে কেতুগ্রামের নতুনগ্রাম বাবলা ও ভাগীরথীর। রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন বাসিন্দারা। বাবলা গিলছে বিঘার পর বিঘা চাষের জমি। আর ভাগীরথী ভিটেমাটি ছাড়া করছে বাসিন্দাদের।
ময়ূরাক্ষী সাউথ ক্যানাল ডিভিশনের (সালার) অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়ার সিরাজ হোসেন বলেন, আসলে নতুনগ্রামে বাবলা ও ভাগীরথী  দুই নদী মিলেছে। আর জলটা এখন নতুনগ্রামের দিকে ঘুরছে। ফলে নদী পাড়ের নীচেই গর্ত তৈরি হচ্ছে। আমরা ওই গর্ত আগে সংস্কার করব। তারপর উপরের নদীতীরে ভাঙন রোধে সংস্কার করব। 
কেতুগ্রাম -২ ব্লকের মৌগ্রাম অঞ্চলের নতুনগ্রামটি পূর্ব বর্ধমান জেলার হলেও জেলার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন। দু’টি নদী চারিদিক দিয়ে ঘিরে রেখেছে গ্রামটিকে। গ্রামের একদিকে বাবলা, অন্যদিকে ভাগীরথী বয়ে চলেছে। ভাঙন রুখতে নদীর পাড় লাগোয়া একধরনের পলি ব্যাগ দিয়ে গর্ত বোজানো হবে। যাতে করে আর উপরের মাটি না ধসতে পারে। আর নদী পাড়ের উপরেও পলি ব্যাগ ও পাথর দিয়ে পরীক্ষামূলক ভাবে দেখা হবে। এই পদ্ধতিতে ধস নামা যদি কমে, তাবেই পরবর্তী কালে পাথর দিয়ে পাকাপাকি ভাবে ওই এলাকায় কাজ হবে। 
গ্রামের বাসিন্দা নুরবানু বিবি, আলতাব হোসেন শেখ বলেন, ভাগীরথী নদীর ধারে বিঘার পর বিঘা চাষের জমি একটু একটু করে ভাঙছে। মাঠের ফসল নদীগর্ভে যাচ্ছে। কখন কার জমির অংশ ঝুপ করে ভাগীরথীর জলে পড়ে সেই আতঙ্কেই দিন কাটছে আমাদের। গ্রামে এখন ১২০০ পরিবারের বসবাস। বহু মানুষ বাড়ি হারিয়েছেন৷ এখনও বেশ কয়েকটি বাড়ি ভাগীরথীতে ঝুলছে। নতুনগ্রামের বাসিন্দা নিয়ামল বসির, ঘোতাই শেখ বলেন, ছেলেপুলে নিয়ে নদীর ধারে খুব ভয়ে থাকি। রাতে ঘুম আসছে না। যে কোনও মুহূর্তে আমরা নদীতে তলিয়ে যেতে পারি। ভাগীরথীতে আমাদের দশ কাঠা জমি চলে গিয়েছে। এখন নদীতে মাছ ধরে সংসার চালাই। পাথর দিয়ে না কাজ করলে বাবলা আর ভাগীরথীকে রোখা যাবে না। গ্রামের আরেক বাসিন্দা লতিব শেখ বলেন, বাবলা নদীতে আমাদেরও অনেক জমি চলে গিয়েছে। আমরা প্রশাসনকে বার বার জানিয়েও ফল পাইনি। 
নতুনগ্রামে তিনটি বুথে ভোটার সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। আর গ্রামে প্রায় সাড়ে চার হাজার মানুষ বসবাস। বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা অর্ধেকে এসে ঠেকেছে। সারাদিন নদীপাড়ে কান পাতলেই ঝুপঝাপ করে পাড়ের মাটি ধসে যাওয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে। বাড়িগুলি বিপজ্জনক ভাবে নদীতে ঝুলছে। 
মৌগ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পার্থপ্রতিম চট্টোপাধ্যায় বলেন, কয়েক বছর ধরে ভাঙনে নতুনগ্রামের বহু ঘরবাড়ি ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের বিধায়ক বিধানসভায় বিষয়টি সরকারের নজরে এনেছেন। সেচদপ্তর কাজ করবে ভাঙন রোধে। 

Advertisement

 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ