Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পরিচালন সমিতির সভাপতি করায় পঠনপাঠন লাটে ওঠার জোগাড় লৌলাড়া রমানন্দ কলেজে

কয়েকমাস আগেই লৌলাড়ার রামানন্দ সেন্টিনারি কলেজের অধ্যাপকদের ‘শয়তান’ বলে সম্বোধন করেছিলেন তিনি।

পরিচালন সমিতির সভাপতি করায় পঠনপাঠন লাটে ওঠার জোগাড় লৌলাড়া রমানন্দ কলেজে
  • ২৩ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: কয়েকমাস আগেই লৌলাড়ার রামানন্দ সেন্টিনারি কলেজের অধ্যাপকদের ‘শয়তান’ বলে সম্বোধন করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি এনিয়ে ক্ষমাও চেয়েছেন। তাও যেন বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি তথা তৃণমূলের বর্ষীয়ান নেতা সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের! যে কলেজের অধ্যাপকদের তিনি ‘শয়তান’ বলে সম্বোধন করেছিলেন, সেই কলেজেরই পরিচালন সমিতির সভাপতি মনোনীত করা হয়েছে তাঁকে! সেই নিয়েই যত বিতর্ক। এনিয়ে বেঁকে বসেছেন অধ্যাপক থেকে কলেজের পড়ুয়ারা। রীতিমতো বিস্মিত তাঁরা! কলেজের পঠনপাঠন কার্যত লাটে ওঠার জোগাড়। ওই কলেজেরই এক মহিলা অস্থায়ী কর্মীকে কেন্দ্র করে গত জানুয়ারিতে ঘটনার সূত্রপাত হয়। যাঁর মাথায় কলেজের তত্কালীন পরিচালন সমিতির সদস্য সুজয়ের হাত রয়েছে বলে দাবি কলেজের অধ্যক্ষ, অধ্যাপক থেকে শুরু করে পড়ুয়াদের। সুজয় ঘনিষ্ঠ হওয়ার সুযোগে ওই মহিলা অস্থায়ী কর্মী হয়েও ছড়ি ঘোরাতেন কলেজের অন্যান্য অধ্যাপকদের উপর। এনিয়ে প্রতিবাদ করতে গেলে এক অধ্যাপকের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির মামলা করা হয় বলে অভিযোগ। পাল্টা ওই অভিযোগকে ভিত্তিহীন দাবি করে থানার ভিতরেই ধর্নায় বসেন কলেজের অধ্যক্ষ, অধ্যাপকরা। মহিলা কর্মীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দায়ের করেন অধ্যক্ষ। পরের দিন কলেজে আসেন পরিচালন কমিটির তত্কালীন সভাপতি গুরুপদ টুডু ও সদস্য সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। অধ্যাপকের ঘরে বৈঠক হয়। অধ্যাপকদের রোষের মুখে পড়তে হয় সুজয় ও গুরুপদকে। পাল্টা অধ্যাপকদের আঙুল উঁচিয়ে হুঁশিয়ারি দিতে দেখা যায় সুজয়কে। তাঁদের বিরুদ্ধে ‘থ্রেট কালচার’ চালানোর অভিযোগ ওঠে। সুজয়কে বলতে শোনা যায়, ‘কলেজে বেশকিছু শয়তান প্রফেসর বাসা বেঁধেছে। সেই শয়তান প্রফেসররা মিথ্যা আন্দোলন করে আরজিকর করতে চায়।’ এনিয়ে কলেজের পড়ুয়াদের মধ্যেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ব্যাপক বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। ওইদিনই রাত পর্যন্ত লালপুর-মানবাজার রাজ্য সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখায় গোটা কলেজ। স্লোগান ওঠে, ‘সুজয় হটাও কলেজ বাঁচাও’। পরের দিন মহিলা কর্মীকে কলেজ থেকে সাসপেন্ড করা হয়। তারপর থেকে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে ঠান্ডা হতে থাকে। কিন্তু সেই বিতর্কিত সুজয়কেই সম্প্রতি রাজ্য উচ্চ শিক্ষা দপ্তর থেকে কলেজ পরিচালন সমিতির সভাপতি করা হয়েছে। তাতেই ফের নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। নিজের আগের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন সুজয়। তিনি জানিয়েছেন, ‘একজন শিক্ষিত মানুষ হয়ে ওই কথা বলা উচিত হয়নি। যেসমস্ত অধ্যাপকদের উদ্দেশে আমি ওই মন্তব্য করেছিলাম, তা তুলে নিচ্ছি।’ যদিও তাতেও বিতর্ক থামার নয়। এনিয়ে কলেজের অধ্যক্ষ প্রতাপকুমার পন্ডা বলেন, ‘এই সব প্রভাবশালী ব্যক্তিরা ফের কলেজে আসবেন। ওই মহিলাকে ফের কলেজে নিয়ে আসবেন। কলেজের শান্তিশৃঙ্খলা বিঘ্নিত হবে। আমরা তা চাইছি না।’ কলেজের অধ্যাপক তথা ওয়েবকুপার সহকারী সম্পাদক অর্পিতা ঘোষ বলেন, ‘যে ব্যক্তির বিরুদ্ধে এত অভিযোগ, তাঁকেই পরিচালন সমিতির সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। এটা মেনে নেওয়া যায় না।’ কলেজের পড়ুয়ারাও বলেন, অধ্যাপকরা আমাদের অভিভাবকের মতো। সেই অধ্যাপকদের শয়তান বলা হয়েছে। যতই উনি ক্ষমা চান, আমরা মানব না। তাঁকে পরিচালন সমিতির সভাপতি হিসেবে মানতে পারছি না।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ