Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভোট পার্সেন্টেজ বাড়ানোই লক্ষ্য, ১৩ পঞ্চায়েতের দায়িত্বে ১৩ জন বিজেপি বিধায়ক

তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি কালীগঞ্জ বিধানসভা দখল করতে মরিয়া গেরুয়া শিবির

ভোট পার্সেন্টেজ বাড়ানোই লক্ষ্য, ১৩ পঞ্চায়েতের দায়িত্বে ১৩ জন বিজেপি বিধায়ক
  • ৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কৃষ্ণনগর: তৃণমূলের শক্ত ঘাঁটি কালীগঞ্জ বিধানসভা দখল করতে মরিয়া গেরুয়া শিবির। যার জন্য বিধানসভার অন্তর্গত ১৩টি পঞ্চায়েতের প্রতিটিতে একজন করে বিজেপি বিধায়ককে দেখভাল করার দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। শুধু নদীয়া নয়, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনা থেকেও বিধায়কদের আনা হচ্ছে নির্বাচনের দায়িত্বে। গত মঙ্গলবার কালীগঞ্জ পঞ্চায়েতের দলীয় কার্যালয়ে জেলা ও রাজ্যস্তরের শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক হয়। সেখানেই নির্বাচনী রূপরেখা তৈরি করা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রত্যেক বিধায়ক প্রচারে অংশ নেওয়া ছাড়াও বুথ ম্যানেজমেন্ট থেকে শুরু করে দেওয়াল লিখন ও ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ— সব কিছু তদারকি করবেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য হবে ভোট পার্সেন্টেজ বাড়ানো। এই তৎপরতা দেখে রাজনৈতিক মহলের প্রশ্ন, উপ নির্বাচনে পরাজয় অবশ্যম্ভাবি বুঝেই কি বাড়তি চাপ বিজেপির। নাকি এটা শুধুই সুসংগঠিত লড়াইয়ের অংশ? অন্যদিকে আত্মতুষ্টিতে না ভুগে ভোট মার্জিন বাড়াতে মরিয়া তৃণমূলও। 

Advertisement

রানাঘাট লোকসভার বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেন, গোটা কালীগঞ্জ বিধানসভার উপর নজর রাখছি আমি। নদীয়া, মুর্শিদাবাদ ও উত্তর ২৪ পরগনা থেকে বিধায়ক ও কার্যকার্তারা আসবেন। বিজেপির কৃষ্ণনগর সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি সৈকত সরকার বলেন, সকল বিধায়কের থাকার সুব্যবস্থা করা হয়েছে। তাঁরা এলাকায় থেকেই কাজ করবেন। আমরা এবারের উপনির্বাচনে অভূতপূর্ব ফলাফলের দিকে এগচ্ছি। মানুষ এবার তৃণমূলের অপশাসনের বিরুদ্ধে ভোট দেবে। 
নদীয়া জেলার রানাঘাট সাংগঠনিক এলাকা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। তাই সেখানকার প্রায় সমস্ত বিধায়ককে কালীগঞ্জে নামানো হয়েছে। পাশাপাশি, মুর্শিদাবাদের দুই বিধায়ক এবং উত্তর ২৪ পরগনার কয়েকজন বিধায়ককেও নির্দিষ্ট পঞ্চায়েত এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও কোন বিধায়ক কোন পঞ্চায়েতের দায়িত্ব সামলাবেন, তা এখনও চূড়ান্ত নয়। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, উপনির্বাচনে প্রস্তুতির কোনও খামতি রাখতে চান না তাঁরা। বুধবার থেকেই বাড়ি বাড়ি প্রচারে নেমেছেন কালীগঞ্জ বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী আশিস ঘোষ। যদিও কয়েক মাস আগে রাজ্য বিজেপির এক নেতা নাকাশিপাড়া এসে বলেছিলেন, পলাশীপাড়া, চাপড়ার মতো কালীগঞ্জ বিধানসভাও নাকি তাঁদের হাতের বাইরে বেরিয়ে গিয়েছে‌। 
এদিকে বছর ঘুরলেই বিধানসভা নির্বাচন‌। তার আগে কালীগঞ্জ বিধানসভায় উপনির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক পারদ চড়ছে। গোটা রাজ্যের নজর রয়েছে কালীগঞ্জ বিধানসভায়। কারণ আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখেই উপনির্বাচনের এই কেন্দ্র থেকে ভোট মার্জিন বাড়াতে চাইছে তৃণমূল। যাতে কালীগঞ্জ বিধানসভা থেকে রাজ্যজুড়ে ঘাসফুলের হাওয়া তোলা যায়। গত লোকসভা নির্বাচনের সময় তৃণমূলের অন্দরের ‘তরমুজ’ নেতাদের ভোট কাটাকাটির মধ্যেও প্রায় ৩৪ হাজার লিড পেয়েছিল ঘাসফুল শিবির। 
রাজনৈতিক মহলের দাবি, গত লোকসভা নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকেই প্রায় ৬৫ হাজার ভোট পেয়েছিল বিজেপি। যার সিংহভাগটাই হিন্দু ভোট বলে ধরা হয়। আসন্ন উপনির্বাচনে সেই ভোটটুকু ধরে রাখাই চ্যালেঞ্জ গেরুয়া শিবিরের কাছে। অন্তত সেই ভোট ধরে রাখতে পারলেও আগামী দিনে বিজেপির মেরুকরণের রাজনীতি আরও শক্তিশালী হবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 
কালীগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূলের ব্লক সভাপতি দেবব্রত মুখোপাধ্যায় বলেন, বিজেপি মেরুকরণের রাজনীতির অপচেষ্টা আমরা রুখে দেব। আসন্ন উপ নির্বাচনে মানুষ ভোট বাক্সে এর জবাব দেবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ