নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি ও সংবাদদাতা, দার্জিলিং: ধস ও তুষারপাতের জোড়াফলায় বিধ্বস্ত সিকিম ছন্দে ফিরছে। রবিবার বৃষ্টির দাপট কমেছে। অধিকাংশ রাস্তা খুলেছে। কিন্তু, সিকিমের ম্যাপ থেকে কার্যত সাফ হয়ে গিয়েছে রিম্বি গ্রাম! গৃহহীনের সংখ্যা প্রায় ৮০ জন। আজ, সোমবার তাঁদেরকে গৃহ নির্মাণের জন্য দেওয়া হবে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা করে। একই সঙ্গে তাঁদের পুনর্বাসন দিতে জমি খুঁজছে সিকিম প্রশাসন। রবিবার সংশ্লিষ্ট গ্রাম পরিদর্শনে গিয়ে একথা জানিয়েছেন গ্যালশিংয়ের জেলাশাসক তেনজিং ডি দেনজংপা। অন্যদিকে, ধসের জেরে উত্তর সিকিমের লাচেনের কাছে চারদিন ধরে আটকে রয়েছেন ১০ বাঙালি পর্যটক। সম্ভবত পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে তাঁদের বাড়ি। তাঁদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে খবর।
এদিকে, এদিন সন্ধ্যায় কালিম্পংয়ের ২৯ মাইলের কাছে গাছ পড়ে ফের বন্ধ হয়ে যায় সিকিমগামী ১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। ঘটনাস্থলের দু’পাশে লম্বা লাইন পড়ে যায় যানবাহনের। গাড়িগুলি ঘুরপথে চালানো হয়। ঘটনার মোকাবিলা করতে ঝাঁপিয়েছে কালিম্পং জেলা প্রশাসন। অন্যদিকে, ধসের জেরে বিপজ্জনক দার্জিলিংয়ের রিম্বিক গ্রাম। স্থানীয় বাসিন্দারা এনিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত। ধস বিধ্বস্ত ওই গ্রাম থেকে এদিন পালিয়ে যান গ্রামবাসীদের একাংশ।
সিকিমের রিম্বি গ্রাম ধস প্রবণ বলে চিহ্নিত। চলতি বর্ষার মরশুমে সংশ্লিষ্ট গ্রাম একাধিকবার ধসে বিধ্বস্ত হয়। শুক্রবার ধসে গ্রামটি কার্যত সিকিমের মানচিত্র থেকেই মুছে গিয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই গ্রামে বাড়ি ছিল ৪০টি। লোক প্রায় ৮০ জন। এখন গ্রামের অধিকাংশ বাড়ি পলির নীচে। ক্ষতিগ্রস্তরা স্থানীয় ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। এদিন গ্যালশিং জেলার ডিএম সহ ইঞ্জিনিয়াররা গ্রামটিতে যান। তাঁরা ত্রাণ শিবিরে গিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি, ভয়াবহ ভূমি ধসের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনরুদ্ধার করা হয়। গ্যালশিংয়ের জেলাশাসক জানিয়েছেন, পরিস্থিতির উপর নজর রয়েছে। ওই গ্রামের ভূমিহীন বাসিন্দাদের শীঘ্রই পুনর্বাসন দেওয়া হবে। এজন্য জমি খোঁজা হচ্ছে।
ধসের জেরে লাচেনে আটকে রয়েছেন বেশ কয়েকজন বাঙালি পর্যটক। ট্যুর অপারেটার সম্রাট সান্যাল বলেন, গত সপ্তাহে ওই বাঙালি পর্যটকরা উত্তর সিকিম ভ্রমণে যান। ওই দলের ১০ জন রয়েছেন। ওঁদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। তাঁদের উদ্ধার করতে তৎপরতা শুরু করেছে সিকিম সরকার। সম্ভবত বাইকে তাঁদের উদ্ধার করে আনা হবে। গ্যাংটক, পাকিয়াং, মঙ্গন, নামচি, গ্যালশিং, সোরেংয়ের অধিকাংশ রাস্তা খোলা। হাতেগোনা কয়েকটি রাস্তা বন্ধ, কয়েকটি রাস্তা সম্প্রসারণ ও মেরামতির কাজ চলছে বলে সিকিম সরকার জানিয়েছে। এদিকে, দার্জিলিংয়ের রিম্বিক গ্রামে ১৪টি পরিবার রয়েছে। ধসের জেরে গ্রামের রাস্তায় ফাটল ধরেছে। তাই আতঙ্কিত চারটি পরিবার গ্রাম ছেড়ে পাশের গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে। দার্জিলিংয়ের বিজেপির বিধায়ক নমন রাই বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। শীঘ্রই ওই গ্রামে যাব।