Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়নি, চন্দ্রকোণায় শিলাবতী নদীর উপর সাঁকো তৈরি করলেন গ্রামবাসীরাই

চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের ভগবন্তপুর গ্রামপঞ্চায়েত আবারও এক নজির গড়লেন গ্রামবাসীরা।

প্রশাসন ব্যবস্থা নেয়নি, চন্দ্রকোণায় শিলাবতী নদীর উপর সাঁকো তৈরি করলেন গ্রামবাসীরাই
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, ঘাটাল: চন্দ্রকোণা-২ ব্লকের ভগবন্তপুর গ্রামপঞ্চায়েত আবারও এক নজির গড়লেন গ্রামবাসীরা। শিলাবতী নদীর উপর ঘোষকিরা গ্রামের অস্থায়ী কাঠের সেতুটি বন্যার জলে ভেঙে যাওয়ার পর পুরো এলাকাই কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনের কাছে জানিয়েও কোনও স্থায়ী সমাধান না পেয়ে অবশেষে নিজেরাই উদ্যোগ নিলেন গ্রামবাসীরা। চাঁদা তুলে বাঁশ সংগ্রহ করে নিজেরাই গড়ে তুললেন নতুন একটি বাঁশের সাঁকো। চন্দ্রকোণা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অলোক ঘোষ গ্রামবাসীদের ওই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, এই বন্যায় অনেক জায়গায় অস্থায়ী সাঁকো ভেঙে গিয়েছিল। প্রশাসনের উদ্যোগে বহু জায়গায় সেগুলি মেরামত করা হয়েছে। ঘোষকিরা এলাকায় শিলাবতী নদীর ওপর একটি স্থায়ী ব্রিজের জন্য ইতিমধ্যে ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যানে আবেদন করা হয়েছে। আশাকরি মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে ওখানে স্থায়ী সেতু তৈরির বিষয়ে অনুমোদন খুব শীঘ্রই পাওয়া যাবে।

Advertisement

ঘোষকিরা, শীর্ষা, খুড়শি, ধর্মপোতা, কল্লা সহ অন্তত ১০-১২টি গ্রামের মানুষকে হাসপাতাল, অফিস-আদালতের কাজ, ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বাড়ির বেরোলে শিলাবতী নদীটি পেরিয়েই যেতে হয়। ফলে কখনও গ্রামপঞ্চায়েতের সহযোগিতায় কখনও বা স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্যোগে ওই নদীর উপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়ে থাকে। কিন্তু ওই গ্রামগুলির বাসিন্দারা বলেন, শিলাবতী নদীতে জলস্ফীতি ও স্রোত বাড়লেই বেশিরভাগ সময়েই ওই সাঁকোটি ভেঙে যায়।  ফলে প্রত্যেক বছরই  নিজেদের উদ্যোগে ফের সাঁকোটি তৈরি করে নিতে হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, বিষয়টি ব্যয়বহুল। তাই এবছর বন্যাতে সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ার  পর এত দিন আর নতুন করে তৈরি করা হয়নি।  নদী পার হতে হচ্ছিল প্রাণ হাতে নিয়ে। কখনও নৌকায়, কখনও অস্থায়ী ভেলা বেয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলছিল যাতায়াত।
স্থানীয় বাসিন্দা অশোক ঘোষ বলেন, প্রশাসনের কাছে অনেকবার জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। আমাদের বাচ্চাদের স্কুলে যেতে কষ্ট হচ্ছিল, অসুস্থ মানুষদেরও বিপদ হচ্ছিল। তাই সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম, নিজেরাই কিছু করি। একই সুর রাজকুমার মণ্ডলের গলাতেও। তিনি বলেন, মহিলা ও শিশুদের ওইভাবে নদী পার হওয়া বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। তাই আমরা একজোট হয়ে চাঁদা তুলে বাঁশ কিনেছি। শ্রম দিয়ে সাঁকো বানানোর উদ্যোগ নিয়েছি। অন্য এক স্থানীয় বাসিন্দা সঞ্জয় পানের দাবি, আমাদের এলাকায় একটা স্থায়ী কংক্রিটের সেতুর দাবি বহু পুরনো। প্রতিবার বন্যায় সাঁকো ভেসে যায়, আবার নতুন করে তৈরি করতে হয়। এবার অন্তত সরকার স্থায়ী সেতু তৈরির দিকে নজর দিক।
গ্রামবাসীদের আশা, প্রশাসন এবার তাঁদের উদ্যোগ দেখে অন্তত বুঝবে নদীর ওপারে জীবনের কতটা বাধা পেরিয়ে পৌঁছতে হয় স্কুল, বাজার বা হাসপাতালে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ