নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ড প্রমাণে সরকারপক্ষের এখনও পর্যন্ত সবচেয়ে বড় হাতিয়ার নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি। যা তিনি দিয়েছেন দুর্গাপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে। তদন্ত চলার সময়ে হোক বা মামলার শুনানিতে আদালতে নির্যাতিতার বয়ানকে হাতিয়ার করেই অভিযুক্তদের দাবি নস্যাৎ করেছে সরকার পক্ষ। আগামী বুধবার থেকে শুরু হবে সাক্ষ্যগ্রহণ। মামলার দ্রুত নিস্পত্তির লক্ষ্যে প্রথম দিনেই সরকারপক্ষ সাক্ষী হিসাবে হাজির করছে নির্যাতিতার গোপন জবানবন্দি নেওয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে। সরকারপক্ষ প্রথমদিকে কম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীদেরই সাক্ষ্য দিতে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। কিন্তু ছ’য় অভিযুক্তর মধ্যে দু’জন রাজসাক্ষী হওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেও পিছিয়ে আসায় কি সরকারপক্ষ স্ট্র্যাটেজি বদল করল, উঠছে প্রশ্ন।
নির্যাতিতার বয়ানের পাশাপাশি এই গণধর্ষণকাণ্ডে পুলিশের বড় হাতিয়ার তাঁর মোবাইল। যা ঘটনার সময়ে নির্যাতিতার কাছে ছিল। পরে অভিযুক্তরা তা নিয়ে চলে যায়। কিছু অভিযুক্ত আবার সেই ফোনে ফোনও করে। এর মাধ্যমেই অভিযুক্তদের জড়িত থাকা, তাঁদের অবস্থান সবকিছু স্পষ্ট করেছে। সেই মোবাইলের নথি সরবরাহ করা টেলিকম সংস্থার নোডাল অফিসারকেও প্রথম দিনেই সাক্ষী হিসাবে হাজির করছে সরকারপক্ষ। সরকারপক্ষের মনোভাব থেকেই স্পষ্ট, গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীর বয়ান আদালতে নথিভুক্ত করিয়ে বিরোধীদের মামলা থেকে নিষ্কৃতী পাওয়ার আশায় জল ঢেলে দেওয়া।
নির্যাতিতার সহপাঠী ওয়াসিফ আলির বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। তার আইনজীবী শেখর কুণ্ডু বলেন, বধুবার সরকারপক্ষের তরফ থেকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নোডাল অফিসারকে সাক্ষী হিসাবে ডাকার কথা জানানো হয়েছে।
প্রথমে কিন্তু রাজ্য সরকার নিয়োজিত বিশেষ সরকারি আইনজীবী বিভাস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, প্রথম দিনে কম গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী আনা হবে। মৌখিক ভাবে জানিয়েছিলেন, বিএলআরও, এআরটিও ও খাদ্য সরবরাহকারী সংস্থার কর্মীকে ডাকা হবে। সেদিনই বিচারক দুই অভিযুক্তকে রাজসাক্ষী হওয়ার প্রস্তাব দিলে তা তারা ফিরিয়ে দেয়। এরপরই সরকারপক্ষ সাক্ষীদের সাক্ষ্যগ্রহণের সূচির বদললো। আইনজীবী মহলের দাবি, ফরেন্সিক রিপোর্ট আসার আগে পর্যন্ত সরকার পক্ষর আছে অপরাধ প্রমাণ করার এই দুটিই সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। প্রথম দিনেই সেই দু’টি অস্ত্র প্রয়োগ করে মামলার রাশ অভিযুক্তদের আইনজীবীদের হাতের বাইরে নিয়ে যেতে চাইছে সরকারপক্ষ।
প্রসঙ্গত, ১০ অক্টোবর দুর্গাপুরের নিউ টাউনশিপ থানার পরাণগঞ্জের জঙ্গলে পাশের বেসরকারি মেডিকেল কলেজের এক ডাক্তারি পড়ুয়ার গণধর্ষণ হয় বলে অভিযোগ। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে আলোড়ন পড়ে। ঘটনায় গ্রেফতার করা হয় পাশ্ববর্তী বিজড়া এলাকায় পাঁচ অভিযুক্তকে। গ্রেফতার হয় নির্যাতিতার পুরুষ বন্ধুও। ২০ দিনের মাথায় চার্জশিট দেয় পুলিশ। একমাসের মাথায় মামলা চার্জগঠন হয়। বুধবার থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু দুর্গাপুরের আদালতের বিচারক লোকেশ পাঠকের এজলাসে।