নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: একুশে জুলাইয়ের মঞ্চ থেকে ভাষা আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সূত্রেই বৃহস্পতিবার আরও আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা গেল বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে। তাঁর বক্তব্য, ‘বাংলা ভাষার উপর সন্ত্রাস চলছে। তার প্রতিবাদে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।’
গত কয়েকদিনের ঘটনায় সামনে এসেছে বাংলাভাষী মানুষ দেশের নানা প্রান্তে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। বাংলা ভাষায় কথা বলাই তাঁদের অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে একটি অনুষ্ঠানে মমতা বলেন, ‘বাংলা আমাদের মাতৃভাষা। শিশু প্রথম এই ভাষাতেই মা বলে ডাকে। এই ভাষাকে সম্মান জানানো উচিত। কিন্তু বাংলা ভাষার উপর সন্ত্রাস চলছে। বাংলা ভাষায় যাঁরা কথা বলেন, তাঁদের উপর অত্যাচার চলছে।’
এই অবস্থায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিজেও যেমন আন্দোলন-কর্মসূচিতে নামছেন, তেমনই সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে পথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আর এক ভাষা আন্দোলন হোক, যা সমাজকে জাগ্রত করতে পারে। বাংলা ভাষায় কথা বললেই জেলে ভরে দেওয়া হবে, এটা মানতে পারছি না। বাংলার ভূমি রক্ষা করতে সবার তরফেই কর্মসূচি নেওয়া দরকার।’
এদিন অভিনেতা, পরিচালক, গায়ক, টেকনিশিয়ানসহ চলচ্চিত্র শিল্পের সঙ্গে যুক্ত শিল্পী ও কলাকুশলীদের সম্মানিত করা হয়। তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে ‘মহানায়ক’ এবং ‘মহানায়ক শ্রেষ্ঠ’ সম্মান। এই অনুষ্ঠানেই সিনেমা ও টিভি সিরিয়ালের পরিচালক ও প্রযোজকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সব ভাষাকেই সম্মান জানাই। কিন্তু হালফিল সিনেমা, টিভি সিরিয়ালে বাংলাগানের ব্যবহার কম করা হয়। বাংলাকে অবহেলা করবেন না। বাংলাগানকে আরও গুরুত্ব দেওয়া হোক।’
অন্যদিকে, হরিয়ানার গুরুগ্রামে বাংলাভাষীদের আটক করে হেনস্তার ঘটনা সামনে এসেছে। বিষয়টি নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি জেলার মানুষকে গুরুগ্রামে আটক করে অত্যাচারের খবর পাওয়া গিয়েছে। পরিচয় যাচাইয়ের নামে হরিয়ানা পুলিস এই কাজ করছে! রাজস্থান থেকেও খবর পাওয়া গিয়েছে, বৈধ পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের বাংলাদেশে ‘পুশব্যাক’ করা হয়েছে। ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকারের এই ভয়াবহ অত্যাচার দেখে আমি হতবাক। পাশাপাশি বিজেপি-শাসিত যেসব রাজ্যে এই ঘটনাগুলি ঘটেছে, তাদের উদ্দেশে মমতার কড়া প্রশ্ন, ‘ভাষা-সন্ত্রাস বন্ধ হবে কি হবে না?’ তাঁর পরিষ্কার হুঁশিয়ারি, ‘ভাষা-সন্ত্রাস বন্ধ করুন। আমরা এটা সহ্য করব না।’
এদিকে, ভাষা আন্দোলন নিয়ে ৩ আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ধর্মতলায় গান্ধীমূর্তির পাদদেশে প্রতি শনি ও রবিবার কর্মসূচি করবে তৃণমূলের শাখা সংগঠনগুলি। একটি নির্ঘণ্ট তৈরি করা হয়েছে। তৃণমূলের মহিলা শাখা ৩ আগস্ট কর্মসূচি শুরু করবে। এদিনের বৈঠকে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, বীরবাহা হাঁসদা, জয়প্রকাশ মজুমদার প্রমুখ।