সংবাদদাতা, বোলপুর: নবম শ্রেণির ছাত্রীর উপর হামলার প্রতিবাদে শনিবার শতাব্দী প্রাচীন বোলপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিভাবকদের একাংশ। এদিন অভিভাবকদের সামনেই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। জখম ছাত্রীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যে উচিত ছিল, অভিভাবকদের সামনে তা মেনে নিয়েছে স্কুল পরিচালন কমিটি। ঘটনার জেরে আতঙ্কে ছাত্রীরা বাথরুমে একা যেতে ভয় পাচ্ছে বলে অভিভাবকদের একাংশ জানিয়েছে। ঘটনায় কারা জড়িত জানতে তিন শিক্ষিকাকে নিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। ভবিষ্যতে যাতে এধরনের ঘটনা না ঘটে তারজন্য স্কুল ক্যাম্পাসে আরও বেশি সিসি ক্যামেরা লাগানো হবে বলে জানিয়েছেন পরিচালন কমিটির সভাপতি বিকাশ রায়চৌধুরী। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান। জখম ছাত্রীকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে আসা হলেও তার আতঙ্ক এখনও কাটেনি বলে অভিভাবক জানিয়েছেন।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার দুপুরে ক্লাস চলাকালীন নবম শ্রেণির ওই ছাত্রী বাথরুমে গেলে একাদশের দুই ছাত্রী অতর্কিতে তার উপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ। প্রথমে চোখ ও মুখ চেপে ধরে মারধর করা হয়। পরে ব্লেড বা ধারালো কিছু দিয়ে তার হাত কেটে দেওয়া হয়। ঘটনার কথা কাউকে বললে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। আতঙ্কিত ছাত্রী কোনওমতে সেখান থেকে পালিয়ে শিক্ষিকাদের বিষয়টি জানায়। পরে তার অভিভাবক স্কুলে এসে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। এই ঘটনায় পুলিসকে খবর না দেওয়া এবং জখম ছাত্রীর প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা না করায় স্কুলের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে অভিভাবক মহলে। স্কুল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটি ধামাপাচা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তাঁদের অভিযোগ। বিষয়টি নিয়ে যাতে সংবাদ মাধ্যমে কেউ মুখ না খোলেন সেব্যাপারে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয় শিক্ষিকাদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে। ঘটনার প্রতিবাদে এদিন স্কুল খুলতেই অভিভাবকরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। প্রধান শিক্ষিকা তৃষ্ণা কুণ্ডু সহ অন্যান্য শিক্ষিকাদের নিয়ে বৈঠক হয়। বৈঠকে পরিচালন কমিটির সভাপতি বিকাশবাবুও যোগ দেন। তিনি অভিভাবকদের ক্ষোভ প্রশমিত করেন। তবে ছাত্রীরা স্কুলে নিয়মিত আসছে কি না, স্কুলের নামে অন্য কোথাও যাচ্ছে কি না, তা নিয়েও নজরদারির বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক করেন। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করতে তদন্ত কমিটি গঠন করার নির্দেশ দেন। এই ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে আগামী দিনে না ঘটে তারজন্য স্কুলকে সতর্ক করেন।