সংবাদদাতা, কান্দি: আদালতের নির্দেশে বড়ঞায় রাজ্য সড়কের পাশে জবরদখল উচ্ছেদ করা ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল। মঙ্গলবার সকালে বড়ঞা থানার কলেশ্বরের কাছে বহরমপুর-সুলতানপুর ১১নম্বর রাজ্য সড়কে চারটি দোকানঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। পুলিস ও প্রশাসনের উদ্যোগে ওই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। বড়ঞার বিডিও গোবিন্দ দাস বলেন, আদালতের নির্দেশে এই উচ্ছেদ হয়েছে। স্থানীয়রা প্রথমে বিরোধিতা করলেও পরে বিষয়টি বুঝতে পারেন।
বীরভূম সীমানা লাগোয়া ওই মোড়ে গোপেন্দ্রকিশোর দে নামে এক ব্যক্তির হার্ডওয়্যারের দোকান ও বাড়ি রয়েছে। কয়েকবছর আগে লকডাউনের সময় চারজন ওই রাজ্য সড়কে তাঁর দোকানের সামনে বেআইনিভাবে দোকান খুলে বসে। অভিযোগ, স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তি ওই জমি দখল করে ভাড়া দিয়েছিল।
গোপেন্দ্রকিশোরবাবু ২০২৩ সালে কলকাতা হাইকোর্টে উচ্ছেদের মামলা দায়ের করেন। বিচারপতি গত ৬জানুয়ারি ওই মামলার রায়দান করেন। আদালতের তরফে ওই চারটি বেআইনি দোকান উচ্ছেদের জন্য জেলাশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই নির্দেশের বলে এদিন পুলিস ও বড়ঞার বিডিও দোকানগুলি উচ্ছেদ করতে যান। আর্থমুভার দিয়ে দোকান উচ্ছেদের সময় তাঁদের স্থানীয়দের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়। পুলিস ও প্রশাসন উচ্ছেদ চালাতে গেলে সংলগ্ন কুনঠিয়া ও অন্য গ্রাম থেকে প্রচুর লোকজন এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। তারা বেশ কিছুক্ষণের জন্য ওই রাজ্য সড়ক অবরোধও করে। বিক্ষোভের জেরে কিছুক্ষণের জন্য উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ হয়ে যায়। পরে বড়ঞার বিডিও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি আদালতের নির্দেশের কথা বুঝিয়ে বললে অবশেষে বিক্ষোভ তুলে নেওয়া হয়। এরপর প্রশাসনের তরফে উচ্ছেদ অভিযান সম্পূর্ণ করা হয়।
বিক্ষোভকারী হাতেম শেখ বলেন, এই মোড়ে রাস্তার উপর অন্তত ৪০টি দোকানঘর রয়েছে। আমাদের বক্তব্য, উচ্ছেদ করতে হলে সবাইকেই উচ্ছেদ করতে হবে। বেছে বেছে চারটি দোকান কেন উচ্ছেদ করা হবে? অপর বাসিন্দা মনসুর হাবিব বলেন, আদালতের নির্দেশের বিষয়টি প্রথমে আমাদের জানা ছিল না। সেকারণে অনেকে বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলাম। অবশেষে বিষয়টি জানতে পেরে আমরা বিক্ষোভ থেকে সরে আসি। আর কোনও ঝামেলা হয়নি।
এবিষয়ে মামলাকারী গোপেন্দ্রবাবু বলেন, আদালতের রায়ে আমি খুশি। এদিন পুলিস ও প্রশাসনের সহযোগিতায় আমার বাড়ি ও দোকানের সামনে থেকে বেআইনি নির্মাণ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।