Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

যাদবপুরে সংঘাত চরমে, আজ ফের দেওয়াল দখল পড়ুয়াদের, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই মুছে গেল ‘স্লোগান’

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে লেখা রয়েছে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান—এমনটাই বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

যাদবপুরে সংঘাত চরমে, আজ ফের দেওয়াল দখল পড়ুয়াদের, মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরই মুছে গেল ‘স্লোগান’
  • ৩১ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে লেখা রয়েছে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান—এমনটাই বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সেইসব স্লোগানকে তিনি ‘আবর্জনা’ বলে অভিহিত করেছিলেন। মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়ে হুঁশিয়ারি ছুড়ে দিয়েছিলেন যাদবপুরের উদ্দেশে। তারপরই রবিবার সকালে শুরু হয়ে গেল দেওয়াল লিখন মোছার কাজ। স্লোগানের উপর পড়ল চুনকাম। কিন্তু বেঁকে বসেছেন পড়ুয়ারা। তাই আজ, সোমবার যাদবপুরের পড়ুয়ারা ফের ‘দেওয়াল দখল’ করার কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। ফল? সংঘাত বাড়ছে।

Advertisement

মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তুলেছিলেন, কলাবিভাগের দেওয়ালে কেন ‘কিষেনজি স্যালুট’, ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’ লেখা থাকবে? এমনকি তিনি এইসব স্লোগান, গ্রাফিতি নিয়ে একটি ভিডিয়ো পর্যন্ত পোস্ট করেছিলেন। সেই প্রশ্নের ফলেই কি তড়িঘড়ি দেওয়াল মুছে দিল কর্তৃপক্ষ? এই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। মুখ্যমন্ত্রী আবার বিশ্ববিদ্যালয়ে নেশা কারা করছে, সেদিকে নজর রাখার জন্য ‘ড্রোন’ চালানোর কথাও বলেছেন। সে ব্যাপারে কী হবে? এমন প্রশ্নও তুলছেন পড়ুয়ারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার সেলিম বক্স মণ্ডল স্লোগান মোছার বিষয়ে বলছেন, ‘এটা একটা নিরন্তর প্রক্রিয়া। সামনে যে স্লোগানগুলো দেখা যাচ্ছিল, আমরা ওগুলোই মুছেছি।’ বিগত কয়েকদিন ধরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক পরিবেশ যেভাবে উত্তপ্ত হচ্ছে, সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে প্রক্রিয়াটিকে খুব একটা ‘নিরন্তর’ বলে মনে করছেন না বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। এই দেওয়াল মোছাকে কেন্দ্র করেই নতুন করে ‘সংঘাত’-এর আবহ তৈরি হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরে। আরএসএসের ছাত্র সংগঠন এবিভিপি বলেছে, তারা দৃঢ় সংকল্প... বিশ্ববিদ্যালয়ে যেভাবে ভারত বিরোধী স্লোগান মুছে ফেলা হচ্ছে, সেভাবেই দেশবিরোধী নকশালপন্থী, মাওবাদীদের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মুছে ফেলার কাজ এবিভিপি করবে। বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘দেশবিরোধী’ আখড়ায় পরিণত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ অবশ্য এই বিষয়ে ‘ব্যালান্স’ করেছে। এই ক’দিনে মিটিং-মিছিলে তাদের ঝান্ডা লক্ষ্য করা যায়নি ঠিকই। কিন্তু এখন তাদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের গরিমা নষ্ট হচ্ছে, ক্যাম্পাসের কোনো অংশে এমন স্লোগান থাকা অবাঞ্ছিত। বিতর্কিত স্লোগান নিয়ে এর আগেও তৃণমূল গণতান্ত্রিকভাবে সরব হয়েছিল বলে জানিয়েছে তারা। পাশাপাশি টিএমসিপি বলেছে, কোনো নির্দিষ্ট আদর্শের উপর আঘাত দুর্ভাগ্যজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশ বজায় থাকা উচিত।
অভিযোগের তির যাদের দিকে, সিপিএমের সেই ছাত্র সংগঠন এসএফআই আবার রং-তুলি নিয়ে প্রস্তুত হচ্ছে দেওয়াল লেখার জন্য। যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই নেতা অভিনব বসু বলছেন, ‘আমরা ফের দেওয়াল লিখব। এসএফআইয়ের তরফে তো লিখবই। তাছাড়াও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন ও পড়ুয়ারা মিলে সেই সব দেওয়াল আবার লিখবে। আমরা ফ্যাসিবাদ বিরোধী দেওয়াল লেখা থামাব না।’ তাঁর আরও বক্তব্য, ‘ওই দেওয়ালগুলোতে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে স্লোগান লেখা ছিল। সেটা দেখে বিজেপি-আরএসএস-এবিভিপি চিত্কার শুরু করে দিয়েছে। অর্থাত্ বোঝাই যাচ্ছে, ফ্যাসিস্ট কারা। সেখানে ফ্রি প্যালেস্তাইন লেখা ছিল। যে কোনো মুক্তচিন্তক প্যালেস্তাইনের পক্ষে দাঁড়াবেন। মুখ্যমন্ত্রী তার বিরোধিতা করছেন। চিত্তপ্রসাদের ছবির বিরোধিতা করছেন। এসব দেওয়াল মুছে আসলে কোনো লাভ হবে না।’ এর পাশাপাশি এসএফআইয়ের দাবি, দ্রুত ছাত্র সংসদ নির্বাচন ঘোষণা করুক রাজ্য সরকার। তাহলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ