Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অযোধ্যা পাহাড়ে সিধো-কানহোর মূর্তি বসানো নিয়ে উত্তেজনা, হাতাহাতি, লাঠিচার্জের অভিযোগ

সামনেই হুল দিবস। সেই উপলক্ষ্যে সিধো-কানহোর মূর্তি বসানোকে কেন্দ্র করে সোমবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে। একটি বিশেষ আদিবাসী সংগঠনের সঙ্গে অন্যান্য সংগঠনের সদস্যরা বচসায় জড়িয়ে পড়েন।

অযোধ্যা পাহাড়ে সিধো-কানহোর মূর্তি বসানো নিয়ে উত্তেজনা, হাতাহাতি, লাঠিচার্জের অভিযোগ
  • ২৫ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: সামনেই হুল দিবস। সেই উপলক্ষ্যে সিধো-কানহোর মূর্তি বসানোকে কেন্দ্র করে সোমবার ব্যাপক উত্তেজনা ছড়াল পুরুলিয়ার অযোধ্যা পাহাড়ে। একটি বিশেষ আদিবাসী সংগঠনের সঙ্গে অন্যান্য সংগঠনের সদস্যরা বচসায় জড়িয়ে পড়েন। দু’ পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতির সামাল দিতে পুলিস লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিস। পুলিসের দাবি, তারা দু’ পক্ষকে সরিয়ে দিয়েছে মাত্র। পরবর্তীতে গন্ডগোল পাকানোর অভিযোগে পুলিস সাতজনকে আটক করে। যদিও তাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। আদিবাসী সংগঠনগুলির তরফে অযোধ্যা পাহাড় ‘স্তব্ধ’ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। মঙ্গলবার ভোরে আটক হওয়া প্রত্যেককে পিআর বন্ডে পুলিস মুক্তি দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

Advertisement

জেলার পুলিস সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, দু’ পক্ষ নিজেদের মধ্যে ঝামেলায় জড়িয়েছিল। পুলিস পরিস্থিতি সামাল দেয়। ঘটনায় সাতজনকে আটক করা হয়। যদিও কোনও লিখিত অভিযোগ না জমা পড়ায় প্রত্যেককেই ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে লাঠিচার্জ হয়নি। স্থানীয় ও পুলিস সূত্রের খবর, মঙ্গলবার বিকেলে অযোধ্যার ময়ুর পাহাড়ের পাদদেশে একটি ‘বিতর্কিত’ জায়গায় সিধো-কানহোর মূর্তি বসানোর তোড়জোড় শুরু করে অযোধ্যা পাহাড় আদিবাসী উন্নয়ন কমিটি। ওই সংগঠনটি পুলিস, প্রশাসন এবং শাসক দলের ‘মদতপুষ্ট’ বলে গুঞ্জন নানা মহলে। তাতে বাধা দেয় ‘অযোধ্যা পাহাড় প্রকৃতি বাঁচাও আদিবাসী বাঁচাও গ্রাম সভা সমন্বয় মঞ্চ’। এই মঞ্চে ভারত জাকাত মাঝি পারগান মহল সহ অন্যান্য সংগঠনের সদস্যরাও রয়েছে। ওই মঞ্চের দাবি, যে জায়গায় মূর্তি বসানোর তোড়জোড় চলছে তা স্থানীয় আদিবাসী বাসিন্দার। মূর্তি যদি বসাতেই হয়, তাহলে কোনও সরকারি জমিতে বসানো হোক।
এনিয়ে দু’ পক্ষের মধ্যে ব্যাপক বচসা শুরু হয়। অন্য সংগঠনটি দাবি করে, তাঁরা যে জায়গায় মূর্তি বসাচ্ছে, তা কোনও আদিবাসীর নয়। বচসা গড়ায় হাতাহাতিতে। ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায় বিশাল পুলিস বাহিনী। পরিস্থিতির সামাল দিতে ‘অতি সক্রিয়’ হয়ে ওঠে পুলিস। মুহূর্তের মধ্যে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। পুলিস লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। ঘটনাস্থল থেকে পুলিস সাতজন আদিবাসী নেতাকে আটক করে বাঘমুন্ডি থানায় নিয়ে যায়। আটকের প্রতিবাদ করে সোমবার রাতেই অযোধ্যা পাহাড় থেকে শ’য়ে শ’য়ে আদিবাসী তির ধনুক, বল্লম, টাঙি নিয়ে বাঘমুন্ডিতে জমায়েত করতে থাকেন। আটক হওয়া নেতাদের পুলিস না ছাড়লে অযোধ্যা পাহাড় সহ গোটা জেলা স্তব্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দুই সংগঠনের কর্তাদের নিয়ে রাতেই আলোচনায় বসে পুলিস। পুলিসি মধ্যস্ততায় বিষয়টির মীমাংসা হয়। 
ভারত জাকাতের মাঝি পারগানা মহলের নেতা বুলন মুর্মু বলেন, জমি দখলের প্রতিবাদ করতে যাওয়ায় আমাদের পুলিসি অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে। এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। প্রকৃতি বাঁচাও ও আদিবাসী বাঁচাও মঞ্চের দক্ষিণবঙ্গের আহ্বায়ক রাজেন টুডু বলেন, যে জায়গায় মূর্তি বসানোর তোড়জোড় চলছিল তা বিতর্কিত। তবে, এনিয়ে দু’ পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি এবং পুলিসের লাঠিচার্জের বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। বিজেপির জেলা সহ সভাপতি কেদার সিং মুড়া বলেন, ভোটের স্বার্থে শাসক দল আদিবাসীদের মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। পুলিস তাতে মদত দিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। আদিবাসী উন্নয়ন কমিটির সভাপতি বালিভাস মুর্মুর ফোন বন্ধ থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা যায়নি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ