সংবাদদাতা, কান্দি: জ্বর নিয়ে ভর্তি এক মহিলাকে বেডে রেখে শুধুমাত্র স্যালাইন দিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে। দিনভর কার্যত এভাবেই কাটে মহিলার। টানা ১১ ঘণ্টা পর রোগীর মৃত্যু হতেই হাসপাতালের ভর্তির খাতায় নাম লেখানো হয়। এই ঘটনায় রবিবার গভীর রাতে হাসপাতালের ভিতরেই বিক্ষোভ দেখান রোগীর পরিজনরা। পরে সেখানে পুলিস পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। অভিযুক্ত চিকিৎসককে শোকজ করা হয়েছে। মৃতার নাম শুকরানা বিবি (৫৫)। ভরতপুর থানার বিনোদিয়া গ্রামে মৃতার বাড়ি।
মৃতার পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন শরীরে জ্বর নিয়ে ওই মহিলাকে সকাল ন’টা নাগাদ ওই হাসপাতালে আনা হয়। যদিও মহিলার কিডনি সংক্রান্ত সমস্যা রয়েছে।এদিকে ওই সময় হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগে চরম ভিড় থাকায় কর্তব্যরত নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা তড়িঘড়ি তাঁকে একটি বেডে রেখে স্যালাইন জুড়ে দেন। এরপর থেকে রোগীর আর কোনও চিকিৎসা হয়নি বলে মৃতার পরিবারের অভিযোগ। এনিয়ে নার্স ও চিকিৎসককে রোগীর অবনতির কথা বারবার জানানো হলেও কোনও পরিষেবা মেলেনি বলে দাবি। মৃতার ছেলে সাবির শেখ বলেন, সকাল নয়টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত কোনও চিকিৎসক মাকে একবারের জন্যও দেখতে আসেননি। বারবার নার্স ও চিকিৎসকের কাছে ছুটে গিয়েছি তাতেও কাজ হয়নি। রেফার করার কথা বললেও ওঁরা আমল দেননি। এখানে কার্যত মায়ের বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হল। তাই বিচার চেয়ে অভিযোগ করা হয়েছে। মৃতের ভাইপো মানোয়ার হোসেন বলেন, সকাল নয়টা থেকে হাসপাতালের বেডে রাখা হলেও তাঁকে ভর্তি করা হয়নি। এমনকী মৃত্যুর পর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তির সময় পিছিয়ে দেখানো হয়। এই অমানবিক কাণ্ডের জন্যই আমরা বিক্ষোভ দেখিয়েছি।
এদিকে রোগীমৃত্যুর পর মৃতার গ্রামের প্রচুর লোকজন হাসপাতালে পৌঁছে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই সেখানে ভরতপুর থানার পুলিস পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর সোমবার সকালে রোগীর পরিবারের লোকজন ভরতপুর ১ বিএমওএইচকে ঘটনার লিখিত অভিযোগ জানান। বিএমওএইচ সুবীর কুমার গোলদার বলেন, কাকলি মণ্ডল নামে ওই চিকিৎসককে ঘটনার বিষয় জানতে চেয়ে শোকজ করা হয়েছে।
তবে এই ঘটনার যাতে পুনরাবৃত্তি না হয়, সেদিকে নজর দেওয়া হবে। রোগীমৃত্যুর পর রেজিস্ট্রেশন খাতায় ভর্তি দেখানোর উদ্দেশ্য ছিল, যাতে রোগীর ডেথ সার্টিফিকেট পেতে কোনও অসুবিধা না হয়। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।