নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের প্রকৃতিতে হেমন্তের পরশ। ভোরের ঠান্ডা হাওয়া শীতের বার্তা নিয়ে এসেছে। এখন ঝাড়গ্রামের গ্ৰামীণ এলাকায় খেজুর রস সংগ্রহকারীরা ডেরা বেঁধেছেন। ইতিমধ্যেই খেজুর গাছ থেকে সংগৃহীত রস ফুটিয়ে গুড় তৈরি শুরু হয়ে গিয়েছে। পর্যটকরা খেজুরের রসে তৈরি গুড় উৎসাহের সঙ্গে কিনছেন। কিন্তু আগের চেয়ে জেলায় খেজুর গাছের সংখ্যা কমায় রস সংগ্রহকারী শিউলিরা চিন্তিত। বিনপুর -২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশচন্দ্র সর্দার বলেন, খেজুর রস শুধু পানীয় বা গুড় তৈরির উপকরণ নয়। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এই গুড়ের সঙ্গে জুড়ে আছে। খেজুর গাছ যাতে আরও রোপণ হয়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। শীত মানেই তো উৎসবের মরশুম। নলেন গুড়, মিষ্টি ও পিঠেপুলি খেজুরের রস থেকেই তৈরি হয়। এই গুড় দিয়েই জয়নগরের মোয়া হয়। শীত পড়ার আগেই জেলাজুড়ে শিউলিদের আসা শুরু হয়ে গিয়েছে। খেজুর গাছ যথেষ্ট সংখ্যক আছে এমন এলাকায় ত্রিপল ও খেজুর পাতার ছাউনি দেওয়া বাঁশের বেড়ার ছোট ঘর তৈরি হয়েছে। সেখানে মাটির উনুনের উপর চৌকনা টিনের পাত্রে খেজুর রস ফোটানো হচ্ছে। শীতের তীব্রতার উপর খেজুর গাছের রসের গুনমান নির্ভর করে। ঠান্ডা বেশি না পড়লে গাছ থেকে পাওয়া রসের পরিমাণও কমে। মিষ্টতা ও সুগন্ধ খেজুর রসের গুড়ের চাহিদার প্রধান কারণ। বর্তমানে খেজুরগুড় প্লাস্টিকের ছোট কৌটায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পর্যটকরাও সেই গুড় কিনছেন।



