Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ঝাড়গ্রামে খেজুর গাছে টান, শিউলিরা উদ্বেগে

ঝাড়গ্রামের প্রকৃতিতে হেমন্তের পরশ। ভোরের ঠান্ডা হাওয়া শীতের বার্তা নিয়ে এসেছে। এখন ঝাড়গ্রামের গ্ৰামীণ এলাকায় খেজুর রস সংগ্রহকারীরা ডেরা বেঁধেছেন।

ঝাড়গ্রামে খেজুর গাছে টান, শিউলিরা উদ্বেগে
  • ৩০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রামের প্রকৃতিতে হেমন্তের পরশ। ভোরের ঠান্ডা হাওয়া শীতের বার্তা নিয়ে এসেছে। এখন ঝাড়গ্রামের গ্ৰামীণ এলাকায় খেজুর রস সংগ্রহকারীরা ডেরা বেঁধেছেন। ইতিমধ্যেই খেজুর গাছ থেকে সংগৃহীত রস ফুটিয়ে গুড় তৈরি শুরু হয়ে গিয়েছে। পর্যটকরা খেজুরের রসে তৈরি গুড় উৎসাহের সঙ্গে কিনছেন। কিন্তু আগের চেয়ে জেলায় খেজুর গাছের সংখ্যা কমায় রস সংগ্রহকারী শিউলিরা চিন্তিত। বিনপুর -২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি বিকাশচন্দ্র সর্দার বলেন, খেজুর রস শুধু পানীয় বা গুড় তৈরির উপকরণ নয়। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এই গুড়ের সঙ্গে জুড়ে আছে। খেজুর গাছ যাতে আরও রোপণ হয়, তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। শীত মানেই তো উৎসবের মরশুম। নলেন গুড়, মিষ্টি ও পিঠেপুলি খেজুরের রস থেকেই তৈরি হয়। এই গুড় দিয়েই জয়নগরের মোয়া হয়। শীত পড়ার আগেই জেলাজুড়ে শিউলিদের আসা শুরু হয়ে গিয়েছে। খেজুর গাছ যথেষ্ট সংখ্যক আছে এমন এলাকায় ত্রিপল ও খেজুর পাতার ছাউনি দেওয়া বাঁশের বেড়ার ছোট ঘর তৈরি  হয়েছে। সেখানে মাটির উনুনের উপর চৌকনা টিনের পাত্রে খেজুর রস ফোটানো হচ্ছে। শীতের তীব্রতার উপর খেজুর গাছের রসের গুনমান নির্ভর করে। ঠান্ডা বেশি না পড়লে গাছ থেকে পাওয়া রসের পরিমাণও কমে। মিষ্টতা ও সুগন্ধ খেজুর রসের গুড়ের চাহিদার প্রধান কারণ। বর্তমানে খেজুরগুড় প্লাস্টিকের ছোট কৌটায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে পর্যটকরাও সেই গুড় কিনছেন। 

Advertisement

শিউলিদের অভিযোগ, জেলায় আগের চেয়ে খেজুর গাছের সংখ্যা কমে গিয়েছে। যার জেরে চাহিদামতো রস সংগ্রহও কমেছে। জামবনী ব্লকের গিধনির লাধনবনি গ্ৰামে অনেক শিউলি ডেরা বেঁধেছেন। বাঁকুড়ার বাসিন্দা আসাউদ্দিন দালাল বলেন, একমাস হল এখানে এসেছি। কালীপুজোর পরেও ঠান্ডার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। গাছ থেকে যেটুকু রস সংগ্রহ করছি, তা থেকেই গুড় তৈরি হচ্ছে। খেজুর গুড় ১২০ টাকা কিলো দরে বিক্রি করছি। পর্যটকদের জন্য গত বছর থেকে কৌটোয় খেজুর গুড় বিক্রি করছি। স্থানীয় বাসিন্দা জগেন মুর্মু বলেন, প্রতিবারই  শিউলিদের খেজুর রস সংগ্রহের জন্য মাস তিনেকের জন্য গাছ লিজ দিই। এবারও দিয়েছি। খেজুর গাছ এই এলাকায় কমে গিয়েছে।  পেশায় শিউলি আফসার আলি খান বলেন, কার্তিক  থেকে পৌষ পর্যন্ত খেজুর রসের কারবার চলে। স্থানীয় মানুষের সঙ্গে পর্যটকরাও খেজুরের গুড় কিনছেন। গাছ কমে যাওয়ায় এই কারবার কিছুটা হলেও কমেছে। বেলপাহাড়ীর ঘাগড়া পর্যটনস্থলের কাছে খেজুরগুড়ের অস্থায়ী দোকান খুলেছেন নুর মহম্মদ মণ্ডল। তিনি বলেন, ঘাগড়ায় যাঁরা ঘুরতে আসছেন তাঁদের অনেকেই খেজুর গুড় কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। পাহাড়ী এলাকায় খেজুর রসের গুড়ের ভালো স্বাদ হয়। যার জেরে বিক্রিও ভালো হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ